যখন একাধিক কারণ একত্রে মিলিত হয়ে একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন করে তখন কারণগুলোর মিলনকে 'বহুকারণ সমন্বয়' বলে।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ করাকে পরীক্ষণ বলে। পরীক্ষণের ক্ষেত্রে গবেষণা অপরিহার্য। গবেষক পরীক্ষাগারে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে যন্ত্রপাতির সাহায্যে কোনো কিছুকে নতুনভাবে আবিষ্কার বা উৎপাদন করে থাকেন। পরীক্ষণ প্রক্রিয়া চালানো হয় কৃত্রিম পরিবেশে। সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক বা গবেষক নতুন করে নিজের উপযোগী মতো যুৎসই পরিবেশ তৈরি করে নিতে হয় পরীক্ষণ পদ্ধতিতে।
উক্ত কারণ ও কার্যের সম্বন্ধ কারণের গুণগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত। কারণ হচ্ছে গুণগতভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রাকৃতিক ঘটনা : আমরা চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক প্রভৃতি ইন্দ্রিয় দিয়ে এ জগতের যেসব বস্তু বা ঘটনা দেখতে পাই সেসব বস্তু বা ঘটনার কারণ প্রকৃতিতে এভাবে ঘটে। ছকের ঘটনাও তেমনি কোনো অলৌকিক ঘটনা বা কারণ সবসময় কার্য নামক ঘটনার সাথে সম্বন্ধযুক্ত : কার্য ও কারণ দুটি সাপেক্ষ পদ। একটি ছাড়া অন্যটিকে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রকৃতিতে কার্য ও কারণকে আলাদাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যেমন- নদী ভাঙনের ফলে গ্রামগুলো বিলীন হয়েছে। এখানে নদী ভাঙন হলো কারণ ও গ্রামগুলো বিলীন হওয়া হলো কার্য। এ ক্ষেত্রে 'নদী ভাঙন' ও 'গ্রাম বিলীন হওয়া' দুটি পরস্পর সাপেক্ষ।
কারণ হলো বাস্তব ঘটনা: কারণ ও কার্য হলো দুটি ঘটনা যার একটি উপস্থিত হলে অন্যটিকে উপস্থিত হতে হয়। সেক্ষেত্রে কেবল বাস্তব অস্তিত্বশীল ঘটনার ক্ষেত্রেই কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়। ছকের কার্য কারণও তেমনি বাস্তব ঘটনা।
'কারণ হচ্ছে কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা' উদ্দীপকের কার্যসমূহের ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য নয়। কেননা কোনো ঘটনাকে কোনো কার্যের কারণ হতে গেলে তাকে কোনো পূর্ববর্তী ঘটনা হলে চলবে না, তাকে অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা হতে হয়, কারণ কখনো পরিবর্তন হয় না বা বদলায় না। যে পূর্ববর্তী ঘটনা কোনো কার্যের কারণ হবে, তা চিরদিনই সে কার্যের কারণ থাকবে। অর্থাৎ পূর্বাপর সম্পর্কযুক্ত কোনো ঘটনাকে কারণ বলা যেতে পারে না। কারণ হতে গেলে অবশ্যই অপরিবর্তনীয় হতে হবে। কিন্তু ছকের নদী ভাঙনের কারণে তিনটি কার্য সংঘটিত হয়েছে। যথা- শত শত মানুষের গৃহহীন ও কর্মহীন হওয়া এবং গ্রামগুলো বিলীন হওয়া। এখানে শত শত মানুষের গৃহহীন হওয়া এবং কর্মহীন হওয়ার কারণ নদী ভাঙন কিন্তু অপরিবর্তনীয় কারণ নয়, কেননা নদী ভাঙন ছাড়া অন্য কারণেও শত শত মানুষ গৃহহীন এবং কর্মহীন হতে পারে তবে গ্রামগুলো বিলীন হওয়ার অপরিবর্তনীয় কারণ নদী ভাঙন। সুতরাং, উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, উদ্দীপকের কার্যসমূহের ক্ষেত্রে কারণ হচ্ছে কার্যের অপরিবর্তনীয় পূববর্তী ঘটনা এটি পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য নয়।
Related Question
View Allকোনো কার্যকে ঘটানোর জন্য যে সকল পূর্ববর্তী ঘটনার প্রয়োজন হয় তাদের সমষ্টিকে 'কারণ' বলে।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে, সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করাই হলো 'নিরীক্ষণ'। আর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো পরীক্ষণ। পরীক্ষণ এক ধরনের নিরীক্ষণ। পৃথিবীতে অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। এগুলো নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ করা। যায় না। পরীক্ষণের ক্ষেত্র কেবল গবেষণাগারে কিন্তু নিরীক্ষণের ক্ষেত্র সর্বত্র। এজন্য নিরীক্ষণের ব্যাপকতা পরীক্ষণ থেকে বেশি।
উদ্দীপকে বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞতার জগতের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণ সব সময় অ-ভ্রান্ত হয় না, ভ্রান্ত নিরীক্ষণও হয়। ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বা নিরীক্ষণ জাতীয় অনুপপত্তিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। ১. সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি, ২. নঞর্থক জাতীয় অনুপপত্তি। সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। এটি দুই ধরনের- ১. ব্যক্তিগত, ২. সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কারণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ হলো তাই যা- যখন কোনো বস্তু যেরূপ তাকে সেভাবে না দেখে ভিন্নরূপে দেখা। ইকবাল বাঁশঝাড়কে বাঁশঝাড়রূপে না দেখে ভিন্নরূপ ভূত বলে মনে করে চিৎকার করে। এটি ব্যক্তিগত কারণ নিরীক্ষণে কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় প্রযোজ্য দেখা যাচ্ছে যে দুজন একসঙ্গে যাচ্ছেলো কিন্তু ইকবাল 'ভূত' বলে চিৎকার করলেও তামিম সে ভুল করেনি। অর্থাৎ ইকবালের সে ভ্রান্ত ধারণা।
উদ্দীপকে তামিম এবং ইকবাল দুজনেই ভ্রান্ত ধারণা বা ভ্রান্ত নিরীক্ষণের শিকার। তামিমের ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং ইকবালের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
নিরীক্ষণ হলো- যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি। নিরীক্ষণজনিত ভুল হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কোনো বস্তু বা ঘটনাকে যেভাবে দেখার কথা সেভাবে না দেখে ভিন্নভাবে বা ভুলভাবে দেখা হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবাল অন্ধকারে বাঁশঝাড় দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠে ভূত ভূত বলে। আসলে সেটি ভূত যে নয়, সেটি বাঁশঝাড় ছিল। তামিম, ইকবালকে সেটাই দেখালো এবং তাঁর ভুল ভাঙালো। ইকবালের এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল ব্যক্তিগত। দুজন একসঙ্গে থেকেও ইকবাল বাঁশঝাড়কে ভূত মনে করলেও তামিম তা করেনি। সুতরাং ইকবালের বাঁশঝাড় সম্পর্কে যে ভুল ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। তামিম, ইকবালের ব্যক্তিগত ভুল ভাঙালো কিন্তু সে যে ভুল করলো সেটা হলো সর্বজনীন ভুল। যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় নয় বরং সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটা মূলত সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। উদ্দীপকে তামিমের মতো প্রায় সবাই বলে যে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে যার ফলে সন্ধ্যা হয়। সূর্য কখনো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে না বরং পৃথিবী যেহেতু সূর্যের চারদিকে ঘুরে, সেহেতু একটা সময় আসে যখন পৃথিবীর একটা অংশ সূর্য থেকে আড়াল হয় এবং অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সুতরাং, তামিম ও ইকবালের ধারণা বা নিরীক্ষণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবালের ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং তামিমের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ তা হলো সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
যা কিছুকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা-কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি তাই হলো নিরীক্ষণ।
পরীক্ষণের সকল ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ সম্ভব। নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ সম্ভব নয়। কোনো বিষয় বা ঘটনাকে পরীক্ষণ করতে গেলে নিরীক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ পরীক্ষণ নিরীক্ষণের উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষক পরীক্ষা কার্য চালাতে গেলে আগে নিরীক্ষণ করতে হয়। নিরীক্ষণ সুষ্ঠু ও নিশ্চিত হলেই কেবল পরীক্ষণকার্য সত্য হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!