কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্ছিত পরিবর্তনকে প্রগতি বলে।
কোনো কিছু স্থানিক থেকে বৈশ্বিক রূপ লাভ করাই হচ্ছে বিশ্বায়ন।
বিশ্বায়ন হচ্ছে একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া যেখানে' বিশ্ব ক্রমবর্ধমানহারে আন্ত:যোগাযোগের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। যখন পণ্যের অবাধ প্রবাহ, তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও শ্রমের অবাধ প্রবাহ একসাথে উপস্থিত থাকে তখনই ঐ প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে অপরাধ প্রত্যয়টি প্রযোজ্য। অপরাধ হলো সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন। এটি একটি সামাজিক ঘটনা কিন্তু কোনো সহজাত প্রবৃত্তির ফল নয়। স্থান ও ব্যক্তিভেদে অপরাধ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- ভদ্রবেশী অপরাধ, নমনীয় মাত্রার অপরাধ, অভ্যাসগত অপরাধ, রাজনৈতিক অপরাধ প্রভৃতি। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজে প্রচলিত বিধি-বিধান বা মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। অনুরূপভাবে রাষ্ট্রীয় আইনে যেসব কাজ নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত সেসব কাজ করাও অপরাধ। সমাজবিজ্ঞানী র্যাক্লিক ব্রাউনের মতে, "যে প্রচলিত রীতিনীতি ভঙ্গ করলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে তা ভঙ্গ করাই অপরাধ।"
উদ্দীপকে আয়কর ফাঁকি, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, চুরি, হত্যা প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আইন কর্তৃক সমর্থিত না, তাই এগুলো অপরাধমূলক কাজ।
সমাজ জীবনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পিছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে।
অপরাধের পিছনে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ বিদ্যমান। অপরাধের প্রধান প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-ভৌগোলিক পরিবেশ, বংশগত প্রকৃতি, দৈহিক ও মানসিক প্রকৃতি অর্থনৈতিক অবস্থা সামাজিক পরিবেশ ইত্যাদি।
অর্থনৈতিক কারণে সমাজে প্রচুর পরিমাণে অপরাধ সংঘটিত হতে দেখা যায়। আর্থিক অনটন দেখা দিলে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। সাধারণত গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা বেশি। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা মূল কারণ। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে। সমাজে সঠিক সামাজিকীকরণের অভাবে বিধি অমান্য করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পারিবারিক পরিবেশও ব্যক্তিকে অপরাধপ্রবণ করতে পারে। একটি পরিবার যেমন একটি শিশুকে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তেমনি পরিবারের অস্বাভাবিক পরিবেশে সে অপরাধী হয়ে উঠতে পারে।
উপরে আলোচিত নানাবিধ কারণে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। কারণে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো সর্বপ্রাণবাদ।
ধর্ম হলো পবিত্র বস্তু সম্পর্কিত কতগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি ।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই অতিমাত্রায় কোনো শক্তির উপর ভর বা বিশ্বাস করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। ধর্ম জ্ঞান অপেক্ষা বিশ্বাস দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ প্রার্থনা করে। ধর্ম যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত সেহেতু এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে।
উদ্দীপকে সংঘটিত অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। যেমনটি মার্কস বলেছেন পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধী বেশি দেখা যায়। কারণ ধন-সম্পদের অধিকারীরাই আইন প্রণয়ন করে এবং অপরাধীদের বিচার তাদের এখতিয়ারে। তাই তারা অপরাধ করেও শাস্তি ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে। আর গরিবরা অনেক সময় আর্থিক কারণে অপরাধ করে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তেমনি অত্যধিক ধন লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশ তাদের পেশাগত কাজের মাধ্যমে অপরাধ করে থাকে যাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রহমত তার স্বল্প উপার্জনে পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। বাবার চিকিৎসার অর্থ যোগানের জন্যই সে টাকা চুরি করে। অতএব এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রহমতের অপরাধ সংগঠনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণটিই দায়ী।
উদ্দীপকে রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমাজজীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জানো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত দুটি মাধ্যমে তথা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আইন, প্রথা প্রভৃতি মাধ্যম ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যা সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সমাজ কাঙ্ক্ষিত পন্থায় গড়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। সুষ্ঠু সমাজজীবনের স্বার্থে একটি সমাজে আইন ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিধান করা হয়, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া এসকল বিষয় ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধ, আদর্শ, রীতি-নীতির পাশাপাশি সমাজের আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, লোকাচার ও লোকরীতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রকৃতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে রহমত টাকা চুরি করার পর পত্রিকায় একজন রিকশাচালকের সততার সংবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে সে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করা টাকা পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবে। রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রচার মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিদ্যমান।
"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!