কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে।
দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের অবদান মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
কারণ জিডিপি হিসাবের সময় দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ দ্বারা উৎপাদিত সবরকম দ্রব্য ও সেবাকর্মকে ধরা হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহারের ফলে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় কেবল তার আর্থিক মূল্যই হচ্ছে জিডিপি। সেখানে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি নাগরিকদের অবদান অবশ্য জিডিপির অন্তর্ভুক্ত হবে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে বিন্দুতে অপূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়েছে।
চিত্রে বিন্দুতে পূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়েছে বিধায় পূর্বের নির্ধারিত আয়ের ক্ষেত্রে এমন কথা বলা যায়।
ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদদের মতে, সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগানের সমতার বিন্দুতে নির্ধারিত উৎপাদন বা আয় হলো ভারসাম্য বা কাম্য উৎপাদন বা আয় এবং সেখানে অর্জিত নিয়োগ অবস্থাই হলো পূর্ণ নিয়োগ। এ ধারণানুযায়ী ভারসাম্য উৎপাদন/আয় অবস্থায় পূর্ণ নিয়োগ বিরাজ করে। কেইন্স এ ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার মতে, পূর্ণ নিয়োগ স্তরের নিচেও সামগ্রিক চাহিদা ও যোগানের সমতা দ্বারা ভারসাম্য উৎপাদন/আয় নির্ধারিত হতে পারে। অন্যকথায় বেকারত্বসহ অর্থনীতিতে ভারসাম্য অবস্থা অর্জিত হতে পারে। একেই অপূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য বলে যা চিত্রে দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে AD রেখার স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত AD রেখার দ্বারা অর্থনীতিতে পূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়েছে। এ ভারসাম্য অর্জনের প্রক্রিয়া নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
ধরা যাক, চিত্রে AD =C+I | কেইন্স অপূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য থেকে পূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্যে পৌঁছানোর জন্য সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির দ্বারা সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কথা বলেন। বস্তুত বিনিয়োগের স্বল্পতার কারণে সামগ্রিক চাহিদা পূর্ণ নিয়োগস্তরের সামগ্রিক যোগান (AS)-এর তুলনায় কম হয়ে পড়ায় অপূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য দেখা দেয়।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে মোট চাহিদা তথা ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (C) ও বিনিয়োগ ব্যয় (1) এর সাথে সরকারি ব্যয় (G) যুক্ত হলে সামগ্রিক চাহিদা বেড়ে AD' = C + I + G হয়। তখন তা পূর্ণ নিয়োগ স্তরের সামগ্রিক যোগানের সমান হয়ে পূর্ণ নিয়োগের ভারসাম্য প্রদান করে চিত্রে AD' রেখা AS রেখাকে বিন্দুতে ছেদ করায় সেখানে ভারসাম্য আয় অর্জিত হয় যা হলো পূর্ণ নিয়োগজনিত আয়।
সুতরাং বিন্দুতে ভারসাম্য আয় ও পূর্ণ নিয়োগ অর্জিত হয়।
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না, বরং ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সে ভোগ করে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যক্তি তার আয়ের যে অংশটুকু ব্যয় করতে সক্ষম হয়, তাকে ব্যয়যোগ্য আয় বলে। সাধারণত, ব্যক্তিগত আয় থেকে সরকারকে প্রদেয় কর ও নিট ব্যবসায় সঞ্চয় বাদ দিয়ে হস্তান্তর পাওনা যোগ করলে তার ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। আর দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না। তাই বলা হয়, ব্যক্তির ভোগ তার আয় নয়, বরং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে ভোগ সূচি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে ভোগ অপেক্ষকটির রেখা অঙ্কন করা হলো
জাতীয় আয় (Y) | ভোগ ব্যয়বিন্দু (Y, C) | বিন্দু (Y, C) |
০ | ১০০ | a |
১০০ | ১৯০ | b |
২০০ | ২৮০ | c |
৩০০ | ৩৭০ | d |
৪০০ | ৪৬০ | e |

উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়, জাতীয় আয় (Y) শূন্য হলে ভোগ ব্যয় (C) 100 একক হয় যা বিন্দু নির্দেশ করে। একইভাবে, জাতীয় আয় 100, 200, 300 ও 400 একক হলে ভোগ ব্যয় যথাক্রমে 190, 280, 370 ও 460 একক হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d ও বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এখন প্রাপ্ত এই বিন্দুগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ভোগ রেখা। এটি হলো প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকের চিত্ররূপ।
উদ্দীপকে আয়স্তর শূন্য হলেও স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বিদ্যমান থাকায় ভোগস্তর হবে 100 একক। নিচে তা উদ্দীপক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো:
যে ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না তাকে স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ, আয় শূন্য হলেও এ ভোগ ব্যয় বজায় থাকে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আয় হয় তা থেকে ভোগ ব্যয় সম্পন্ন হয়। এখন বিবেচ্য বছরের পূর্বে কোনো সময়ে জমানো অর্থ থেকে ভোক্তা কিছু ভোগ ব্যয় করে থাকে। এই ভোগ ব্যয়কেই বিবেচ্য বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ বলে।
প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকে Y = 0 হলে,
C = ১০০ + ০.৯Y
বা, C =১০০ +০.৯ ০ [*: Y = ০ ]
বা, C = ১০০ + ০
বা, C = ১০০
C = ১০০একক।
এটিই হলো চলতি বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয়। আর যেহেতু স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না, তাই আয়স্তর শূন্য হলেও ভোগ ব্যয় ১০০ এককে বজায় থাকে।
একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়, এগুলোর জন্য ভোক্তা সাধারণ, বিনিয়োগকারী ও সরকার যে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তার সমষ্টিই হলো সামগ্রিক ব্যয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!