উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া পাঁচ প্রকার।
দ্রব্যের মালিকানা পরিবর্তনের ফলে যে উপযোগের সৃষ্টি হয় তাকে স্বত্বগত উপযোগ বলে।
যেমন- ঘড়ির দোকান থেকে ঘড়ি কিনে ব্যবহার করলে দোকান অপেক্ষা অধিক উপযোগের সৃষ্টি হয়। আবার, অব্যবহৃত জমি কিনে নিয়ে একজন কৃষক চাষাবাদ করে উৎপাদন করতে পারে অথবা ব্যবহৃত জমি কিনে ভালোভাবে চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে পারে। এটাই হলো স্বত্বগত উপযোগ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে উৎপাদনের উপকরণসমূহ যেমন- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন এর মধ্যে বাংলাদেশে ভূমি ও শ্রম বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদন ক্ষেত্রে উৎপাদনের চারটি উপকরণ- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন প্রতিটিই সমান তাৎপর্য বহন করে। তবে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি সাধারণত কৃষিপ্রধান ও জনবহুল হওয়ায় ভূমি ও শ্রমের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। কারণ উন্নয়নশীল দেশে মূলধন ও দক্ষ সংগঠনের অভাব পরিলক্ষিত হয় বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এদেশের অর্থনীতি কৃষিপ্রধান। এদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে উৎপাদন ক্ষেত্রে তথা কৃষি উৎপাদনে খুব সহজেই নিয়োজিত করা যায়। কিন্তু, বাংলাদেশে দক্ষ সংগঠন ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব রয়েছে। তাই, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ খুবই কম। তাছাড়া শ্রমিকের সহজলভ্যতা ও কৃষিভিত্তিক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় ভূমি ও শ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উৎপাদনের ক্ষেত্রে ওপরে বর্ণিত উপাদানগুলো একে অপরের পরিপূরক।
কেননা ছকে প্রদর্শিত উৎপাদনের উপকরণগুলোর মধ্যে যে কোনো একটি না থাকলে উৎপাদন সংঘটিত হতে পারে না।
উৎপাদনের চারটি উপাদান রয়েছে। যথা- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। উৎপাদন ক্ষেত্রে এই চার ধরনের উপকরণের যৌথ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কারণ এগুলোর যেকোনো একটি ব্যতীত উৎপাদন অসম্ভব। উৎপাদনে সাহায্য করে এমন প্রাকৃতিক সম্পদকে ভূমি বলে। যেমন- জমি, মাটি, খনিজ দ্রব্য, সূর্যকিরণ, আবহাওয়া ইত্যাদি। আর এই ভূমি ব্যতীত উৎপাদন অকল্পনীয়। আবার, উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে। কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করতে হলে অবশ্যই শ্রম লাগবে। পরিশ্রম ব্যতীত কোনো কিছুই অর্জন সম্ভব নয়। আবার, উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কারখানা, অফিসের আসবাবপত্র প্রভৃতি হলো মূলধন। আর বর্তমান যুগে মূলধন ব্যতীত উৎপাদনের কথা ভাবাই যায় না। ভূমি, শ্রম ও মূলধন সমন্বয় করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করাকেই সংগঠন বলে। উৎপাদনের উপকরণগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে।
সুতরাং বলা যায়, ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন উপাদানগুলো উৎপাদনের ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক। যে কোনো একটির অনুপস্থিতিতে উৎপাদন সম্ভব নয়। তবে, অবস্থাভেদে উপকরণের নিয়োগ কম বা বেশি হতে পারে।
শরবত একটি উৎপাদিত দ্রব্য । শরবত উৎপাদন করতে পানি, চিনি, লেবু ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। উপকরণ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন এবং তা ভোগের মাধ্যমে উপযোগ বা তৃপ্তি সৃষ্টি করা যায় । উৎপাদন কাজটি করে থাকে সংগঠন । উৎপাদন করতে উপকরণ যেমন পানি, চিনি, লেবু লাগে, কীভাবে উৎপাদন করবে তার একটি পরিকল্পনা করতে হয় এবং উৎপাদন করার সময় বিভিন্ন জন বিভিন্ন কাজ করেন— যোগ্যতা অনুযায়ী এই কাজগুলো বণ্টন করতে হয়, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য বাজারে নিতে হয়। এ ধরনের কাজগুলো করে সংগঠন। যে ব্যক্তি সংগঠনের মূল দায়িত্ব পালন করেন, তাকে বলা হয় উদ্যোক্তা ৷ সংগঠন বা উদ্যোক্তা দক্ষ না হলে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় না ।
Related Question
View Allউৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, যার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায় তাকেই অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে উৎপাদন ক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে অধিক হারে শ্রম ও মূলধন নিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন যদি উপকরণ নিয়োগের হার অপেক্ষা কম হারে বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদন কৌশল ও অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে। এক পর্যায়ে উপকরণটির ব্যবহার আরও বাড়ালে উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। মনে করি, ভূমি ও শ্রম দুটি উপকরণ আছে। উৎপাদনক্ষেত্রে ভূমিকে স্থির রেখে শ্রমের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হলে মোট উৎপাদন প্রথম পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায় এবং পরে ঐ জমিতে আরও শ্রম নিয়োগ করা হলে মোট উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। উপকরণ ব্যবহারের সাথে উৎপাদন বাড়ার এ নিয়মকে অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলা হয়।
কবিরের উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি দ্বারা রূপগত ও স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোনো বস্তুর আকৃতি বা রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে যে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয় তা হলো রূপগত উপযোগ। আবার, কোনো দ্রব্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তা স্থানগত উপযোগ নামে পরিচিত। যেমন- কাঠকে সুবিধামতো পরিবর্তন করে আসবাবপত্র তৈরি করলে রূপগত উপযোগের সৃষ্টি হয়। আর এইসব আসবাবপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে বিক্রি করলে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। কবির একজন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী। তিনি কাঠ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করেন। কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরি হলে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয়। আর এটিই হলো রূপগত উপযোগ। তাছাড়া কবিরের তৈরি করা আসবাবপত্র দেশের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় এবং তিনি আসবাবপত্রের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন এলাকায় আসবাবপত্র পাঠানোর মাধ্যমে এগুলোর স্থানগত উপযোগও বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কবিরের তৈরি আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে রূপগত ও স্থানগত উপযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘ হ্যাঁ, কবিরকে একজন সফল সংগঠক বলা যায়।
উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ব্যক্তি সংগঠনের কাজ করেন তাকে সংগঠক বলে। একজন সফল সংগঠক নিজেই উৎপাদনের সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ করেন এবং সে অনুযায়ী কারবার গঠন ও পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর সমন্বয় করে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করেন। একজন সংগঠক কারবার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সকল দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহনের কাজটিও করে থাকেন।
উদ্দীপক অনুসারে কবির নিজেই ব্যবসায়ের সকল নীতি নির্ধারণ ও ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তাছাড়া সে উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ তথা ভূমি, শ্রম ও মূলধনের সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিজের আসবাবপত্রের ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তার উৎপাদিত দ্রব্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান করেন, যার ফলে দ্রব্যের চাহিদা এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও কবির তার দোকানে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করেন।
কাজেই, কবির তার ব্যবসায়ের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে একজন সফল সংগঠক হতে পেরেছেন বলে আমি মনে করি।s
বিভিন্ন উপকরণ নিয়োগের দ্বারা যে পরিমাণ উৎপাদন পাওয়া যায় তাকে মোট উৎপাদন বলে।
ব্যক্তিগত ব্যয় হচ্ছে (ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মের) উৎপাদনের সাথে জড়িত সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের যোগফল।
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য দৃশ্যমান যে ব্যয় করে তাকে প্রকাশ্য ব্যয় বলে। যেমন- ফার্মে কর্মরত মানুষের বেতন ও ভাতাদি, কাঁচামাল, মাধ্যমিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, মূলধনের সুদ ইত্যাদি হলো প্রকাশ্য ব্যয়। আর উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, স্ব-নিয়োজিত সম্পদের ব্যয় ও উদ্যোক্তার আনুষঙ্গিক ব্যয় ইত্যাদি হলো অপ্রকাশ্য ব্যয়। এই সকল প্রকাশ্য ও অ-প্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিই হলো ব্যক্তিগত ব্যয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!