পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Civics' |
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন। জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনের শর্ত বলা চলে এবং জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে জনমতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। তাই বলা যায়, সুশাসনের জন্য, অধিক জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে বা প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসন বিদ্যমান। কেননা আমরা যদি উভয় রাষ্ট্রের দিকে দৃষ্টিপাত করি তবে দেখতে পাই। 'খ' রাষ্ট্রে যে বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে, যেমন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনির্বাচিত সরকার, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো সুশাসনের পুরাপুরি বিপরীতমেরুতে অবস্থান করে। মূলত সুশাসন যে বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে সেসব বিষয়ের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় 'খ' রাষ্ট্রে। অপরদিকে, 'ক' রাষ্ট্রে রয়েছে জনগণের অংশগ্রহণ। জনগণের সম্পৃক্ততা বা অংশগ্রহণ থাকলে জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে শাসনকার্যে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করে বিধায় সেখানে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে কেউ দুর্নীতি, অন্যায় করতে পারে না। তাতে করে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। এর সাথে আইনের শাসন যোগ হলে কোনো ধরনের আইনবিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হয় না। এছাড়া এগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শাসনকার্যে জনগণ শান্তিতে বসবাস করে। এ ধরনের শাসনকেই যেহেতু সুশাসন বলা হয় তাই 'ক' রাষ্ট্রেই যে সুশাসন বিদ্যমান তা প্রমাণিত।
অর্থনীতি একটি জাতির প্রাণশক্তি। সুশাসন ব্যতীত একটি দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সুশাসন না থাকলে দাতা সংস্থার সাহায্য-সহযোগিতাও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না। যেহেতু 'খ' রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব রয়েছে তাই সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। 'খ' রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে একটি বাধা। কেননা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীগণ যেমন পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহিত হয় না, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগকারী উন্নয়ন এজেন্সি ও দাতা সংস্থা তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। যার ফলে মাথাপিছু আয় হ্রাস পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় বাধাগ্রস্ত।
'খ' রাষ্ট্রে দুর্নীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের আর একটি বাধা। দুর্নীতি সামাজিক, সাম্য বিনষ্ট করে এবং নীতিবহির্ভূতভাবে সুযোগ সৃষ্টি করে অযোগ্যদের সামনের সারিতে টেনে আনে। ফলশ্রুতিতে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র থেকে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থাসমূহ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। যার ফল হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
অনির্বাচিত সরকার 'খ' রাষ্ট্রের অপর আর একটি, বাধা। অনির্বাচিত সরকার মানে অগণতান্ত্রিক সরকার। অগণতান্ত্রিক সরকার জনগণ পছন্দ করে না বিধায় তাদের সাথে জনসম্পৃক্ত কম থাকে এবং সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা হ্রাস পায়, দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। ফলে এসব দেশে বিদেশি বিনিয়োগ, সাহায্য-সহযোগিতা আসে কম বিধায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এসব কারণে 'খ' রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!