উত্তরঃ বিচূর্ণীভবন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রাকৃতিক শক্তি ও আবহাওয়ার প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহ ধীরে ধীরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে নিজ স্থানেই অবস্থান করে।
Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, ছাই, শিলাখণ্ড ইত্যাদি ভূত্বকের উপর জমাট বেঁধে বিভিন্ন নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে বা বিদ্যমান ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়। এর মাধ্যমে পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, দ্বীপ ও হ্রদ তৈরি হতে পারে, যা পৃথিবীর ভূসংস্থানে স্থায়ী পরিবর্তন আনে।

অগ্ন্যুৎপাতের সময় ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূত্বকের দুর্বল ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এসে লাভা রূপে প্রবাহিত হয়। এই লাভা ঠান্ডা ও জমাট বেঁধে বিভিন্ন আকারের আগ্নেয় পর্বত, মালভূমি বা আগ্নেয় শঙ্কু (Volcanic cones) সৃষ্টি করে। আবার, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল গহ্বর বা জ্বালামুখ (Crater) পরবর্তীতে বৃষ্টির জল জমে জ্বালামুখ হ্রদে পরিণত হতে পারে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে জমা হয়ে নতুন ভূমি বা দ্বীপের জন্ম দেয়, যেমন প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক আগ্নেয় দ্বীপ।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩নং ভূমিরূপটি হলো ব-দ্বীপ। নদী যখন তার মোহনার কাছে এসে গতি হারিয়ে ফেলে, তখন বহন করে আনা পলি, বালি ও কাদা জমা করে যে ত্রিকোণাকার বা পাখার মতো ভূমিরূপ তৈরি করে, তাকে ব-দ্বীপ বলে। এটি মূলত নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট একটি প্রধান ভূমিরূপ।

নদী তার উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমি ক্ষয় করে পলি, বালি, কাদা ইত্যাদি বহন করে নিয়ে আসে। মোহনার কাছে বা যেখানে নদী কোনো সাগর, হ্রদ বা শান্ত জলাশয়ে পতিত হয়, সেখানে নদীর স্রোতের গতিবেগ কমে যায়। ফলে নদী আর পলি বহন করতে পারে না এবং সেগুলোকে মোহনার কাছে জমা করতে শুরু করে। দীর্ঘকাল ধরে এই পলি সঞ্চিত হয়ে ধীরে ধীরে একটি নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়, যা ব-দ্বীপ নামে পরিচিত।

উদ্দীপকের ৩নং চিত্রে প্রদর্শিত ভূমিরূপটি একটি নদীর মোহনায় পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট একটি ত্রিকোণাকার ভূভাগকে নির্দেশ করে। এর আকৃতি এবং নদী থেকে সৃষ্ট বলে এটিকে "দ্বীপ আকৃতির ভূমিরূপ" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে একটি ব-দ্বীপের বৈশিষ্ট্য বহন করে। চিত্রটি ব-দ্বীপের সাধারণ ত্রিভুজাকার বা ফ্যান-আকৃতির গঠনকে উপস্থাপন করে, যা নদী দ্বারা বাহিত পলির সঞ্চয়ের মাধ্যমে গঠিত হয়।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ১নং ভূমিরূপটি ইংরেজি 'V' অক্ষরের আকৃতির উপত্যকা, যা নদী দ্বারা সৃষ্ট হয়। অন্যদিকে, ২নং ভূমিরূপটি ইংরেজি 'U' অক্ষরের আকৃতির উপত্যকা, যা হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়। এই দুটি ভূমিরূপ তাদের গঠন প্রক্রিয়া, আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভিন্ন।

১নং ভূমিরূপ অর্থাৎ V-আকৃতির উপত্যকা মূলত নদীর নিম্নক্ষয় (downcutting) দ্বারা সৃষ্ট হয়। নদীর তরুণ অবস্থায় যখন ঢাল বেশি থাকে, তখন নদী তার তলদেশে বেশি শক্তি প্রয়োগ করে এবং পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এর ফলে উপত্যকার দুই পাশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো আকৃতি ধারণ করে। অন্যদিকে, ২নং ভূমিরূপ অর্থাৎ U-আকৃতির উপত্যকা গঠিত হয় হিমবাহের ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে। হিমবাহের প্লাকিং (plucking) এবং অ্যাব্রেশন (abrasion) প্রক্রিয়ায় এটি পার্শ্বীয় এবং উল্লম্ব উভয় দিকেই ক্ষয় করে। হিমবাহ উপত্যকার উভয় পার্শ্ব এবং তলদেশকে সমানভাবে ক্ষয় করে প্রশস্ত ও গভীর করে তোলে, যার ফলে এর আকৃতি ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো হয়।

১নং ও ২নং ভূমিরূপের (V-আকৃতির ও U-আকৃতির উপত্যকা) মূল পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

        
  • সৃষ্টিকারী শক্তি: ১নং ভূমিরূপ (V-আকৃতির উপত্যকা) প্রধানত নদী দ্বারা সৃষ্ট। ২নং ভূমিরূপ (U-আকৃতির উপত্যকা) প্রধানত হিমবাহ দ্বারা সৃষ্ট।
  •     
  • আকৃতি: ১নং ভূমিরূপ গভীর এবং সংকীর্ণ, যার পার্শ্বদেশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো দেখায়। ২নং ভূমিরূপ চওড়া এবং অনেকটা চ্যাপ্টা তলদেশযুক্ত, যা ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো হয়।
  •     
  • ক্ষয় প্রক্রিয়া: V-আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টিতে নদীর নিম্নক্ষয় (vertical erosion) প্রধান ভূমিকা পালন করে। U-আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টিতে হিমবাহের ঘর্ষণ (abrasion) ও উৎপাটন (plucking) প্রক্রিয়া এবং পার্শ্বক্ষয় (lateral erosion) প্রধান ভূমিকা পালন করে।
  •     
  • গভীরতা ও প্রশস্ততা: V-আকৃতির উপত্যকা সাধারণত গভীর হলেও প্রশস্ততা কম হয়। U-আকৃতির উপত্যকা V-আকৃতির উপত্যকার চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত ও গভীর হয়।
  •     
  • অন্যান্য বৈশিষ্ট্য: V-আকৃতির উপত্যকার সাথে প্রায়শই জলপ্রপাত, খরস্রোত দেখা যায়। U-আকৃতির উপত্যকার সাথে ঝুলন্ত উপত্যকা, রসে মটোনি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

সুতরাং, উদ্দীপকের ১নং ও ২নং ভূমিরূপ দুটি ভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কার্যের ফল। ১নং ভূমিরূপ নদীর গতিময়তার প্রতীক, যা তারুণ্যের প্রতীকী ক্ষয়কে নির্দেশ করে। অপরদিকে, ২নং ভূমিরূপ হিমবাহের ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে, যা হিমবাহ দ্বারা প্রভাবিত অঞ্চলে একটি স্বতন্ত্র ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
48

Related Question

View All
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। সাধারণত নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে, তাকেই বায়ুর আর্দ্রতা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
668
উত্তরঃ

জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর এবং এখানেই বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯০% গ্যাসীয় পদার্থ বিদ্যমান। এই স্তরে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্যাসগুলো রয়েছে যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহসহ সকল আবহাওয়ার ঘটনা ট্রপোমণ্ডলেই ঘটে, যা জীবের স্বাভাবিক জীবনচক্র ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য অত্যাবশ্যক।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews