মানবদেহের শতকরা ৬৫-৭৫ ভাগ পানি।
জলজ উদ্ভিদসমূহ সারা দেহের মাধ্যমে পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান, বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে। এভাবে জলজ উদ্ভিদের সমগ্র দেহ পানির সংস্পর্শে থাকায় কান্ড এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যা পানির স্রোত ও জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। আর এ কারণেই জলজ উদ্ভিদ পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায় না।
জাউদ্দীপকে P চিত্রের উদ্ভিদগুলো হলো জলজ উদ্ভিদ। এদের
বেশিরভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি পানিতে ও মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। স্থলজ উদ্ভিদসমূহ মূলত মূলের মাধ্যমে পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে। কিন্তু জলজ উদ্ভিদসমূহ সারা দেহের মাধ্যমে পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে থাকে। তাই এদের সমগ্র দেহ পানির সংস্পর্শে না এলে এদের বেড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটে। জলজ উদ্ভিদের কাণ্ডসহ অন্যান্য
প্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যা পানির স্রোত ও জলজ প্রাণীর চলাচলের সাথে মানানসই। পানি ছাড়া স্থলভাগে এদের জন্ম হলে, এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না- এমনকি বাঁচতেও পারত না। জলজ উদ্ভিদসমূহ সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে থাকে। পানি না থাকলে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতো। অর্থাৎ পানির অভাবে বেশিরভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, অথবা কিছু কিছু জন্মালেও বেঁচে থাকতে ও বেড়ে উঠতে পারত না।
অতএব আমরা বলতে পারি, জলজ উদ্ভিদের জীবনধারণে পানির ভূমিকা অপরিসীম।
চিত্রে Q প্রাণীটি হলো মাছ। নদ-নদীতে মাছ কমে যাওয়ার কারণ নিম্নরূপ দেওয়া হলো-
নদ-নদীর পাড়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব শিল্প কারখানা থেকে প্রচুর রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ নদ-নদীতে পড়ে। জমিতে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক এবং বিভিন্ন নর্দমার পানিও নদ-নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। এসব বিষাক্ত পদার্থ মেশার ফলে নদীর পানি ঘোলাটে হয়ে যায় এবং পানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশতে পারে। ময়লা- আবর্জনা বেড়ে গেলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া, pH এর মানের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। পানি ঘোলা হলে সূর্যালোকের অভাবে জলজ উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি ব্যাহত হয়। ফলে অক্সিজেন উৎপাদনও কম হয়। পানি ঘোলা হলে মাছ ঠিকমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে মাছের দেহে ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি হয়। ময়লা-আবর্জনার জন্য মাছের জীবন ধ্বংসকারী রোগ জীবাণু সৃষ্টি হয়। মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে
নির্দিষ্ট পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকতে হয়। দ্রবীভূত অক্সিজেনের এই নির্দিষ্ট মাত্রা কমে গেলে মাছের শ্বাসক্রিয়ায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
আবার, নদীতে যদি পানির pH খুব কমে যায় বা বেড়ে যায় তাহলে তা মাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে বা কমে গেলে মাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
নদ-নদীর পানি দূষিত হয়ে উপরে উল্লিখিত সমস্যার সৃষ্টি করে যা মাছের জীবন ধারনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এজন্য এখন নদ-নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।
Related Question
View Allপৃথিবীতে পানি একই প্রক্রিয়ায় ঘুরে ফিরে ব্যবহার হয়। এটি সূর্যের তাপে বাষ্পীভবন, মেঘে রূপান্তর ও বৃষ্টির মাধ্যমে আবার ভূমি ও সমুদ্রে ফিরে আসে। একে পানির পুনরাবর্তন বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!