উদ্ভিদের কাণ্ড বা শাখা থেকে নতুন চারা তৈরির পদ্ধতিকে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি বলা হয়।
চারার গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেজন্য রোপণের পর চারা গাছের গোড়াটি কিছুটা উঁচু করে দিতে হয়। কারণ চারার গোড়ায় পানি জমলে চারার গোড়া পচে যেতে পারে বা চারা মারা যেতে পারে।
চিত্রে মাতৃগাছে গুটি কলম বাঁধা অবস্থায় আছে। গুটি কলম করার ক্ষেত্রে চিত্রে প্রদর্শিত ধাপের পরবর্তী পর্যায়ের বর্ণনা চিত্রসহ নিম্নে দেওয়া হলো:
চিত্রের মতো করে বাঁধা অবস্থায় রেখে দিলে ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে ছাল তোলা অংশে সাদা শিকড় পলিথিনের বাইরে থেকে দেখা যাবে। শিকড় ভালো করে গজালে এবং বাদামি রং ধারণ করলে গুটি বাঁধা অংশসহ ডালটি কেটে নিতে হবে। এরপর সাবধানে সুতলি ও পলিথিন খুলে বীজতলায় বা টবে লাগিয়ে কয়েক দিন ছায়ায় রাখতে হবে এবং মাঝে মাঝে টবের মাটিতে পানি দিতে হবে। রোদে রাখলে কয়েকদিন পর নতুন পাতা গজাবে। তারপর চারাটি মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।

চিত্রে গুটি কলম পদ্ধতিতে অঙ্গজ বংশবিস্তার দেখানো হয়েছে।
গুটি কলম গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের অঙ্গজ বংশবিস্তারের একটি সহজ ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। লেবু, পেয়ারা, সফেদা, লিচু, রঙ্গন প্রভৃতি গাছে এ পদ্ধতিতে কলম করা হয়। এসকল উদ্ভিদ খুব উঁচু হয় না এবং ডালগুলো চিকন যা গুটি কলম করার জন্য উপযোগী। কিন্তু বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- আম, জাম, মেহগনি, রেইনট্রি ইত্যাদির গুটি কলম করা সুবিধাজনক নয়। কারণ এসব উদ্ভিদের উচ্চতা অনেক বেশি এবং ডাল বা শাখা-প্রশাখা বেশ মোটা হয়। এছাড়া লতা জাতীয় উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও গুটি কলম সুবিধাজনক নয়। কারণ এসব উদ্ভিদের ডালপালা বা শাখা-প্রশাখাগুলো লতানো হয় এবং মাটি কিংবা অন্যের ওপর নির্ভর করে চলে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, চিত্রের মতো সকল উদ্ভিদের ক্ষেত্রে গুটি কলম পদ্ধতিতে অঙ্গজ বংশবিস্তার সম্ভব নয়।
Related Question
View Allমেহগনি গাছের একটি প্রজাতি হলো Swietenia macrophylla
গরিবের কুটির থেকে শুরু করে বড় বড় অট্টালিকা তৈরিতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। গ্রামীণ কুটির শিল্পে, কৃষি উপকরণ এবং কাগজ ও রেয়ন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও খাল পারাপারের সাঁকো তৈরিতেও বাঁশ ব্যবহার করা হয়। এসব কারণে বাঁশকে নির্মাণ সামগ্রী বলা হয়।
সাজিদের দাদার বাগানের বিশেষ গুণসম্পন্ন ফলটির নাম কাঁঠাল।
কাঁঠাল একটি বহুবিধ ব্যবহার উপযোগী উদ্ভিদ। পাকা কাঁঠালের কোয়া খুবই মিষ্টি। এতে রয়েছে শর্করা ও ভিটামিন। এছাড়াও কাঁঠালে রয়েছে ক্যালসিয়াম, যা হাঁড় ও দাঁতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কাঁচা কাঁঠাল এবং কাঁঠালের বীজ সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। কাঁঠাল কাঠ খুবই উন্নত মানের, টেকসই ও ভালো পলিশ নেয়। তাই বাসগৃহের জানালা, দরজা ও আসবাব তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক এবং পুষ্টিগত দিক দিয়ে এ ফলটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতএব বলা যায় যে, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের কারণে ফলটি বিশেষ গুণসম্পন্ন।
গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে সাজিদের ব্যবহৃত গাছটি হলো নিম।
নিম গাছের ব্যবহার অনেকভাবে হয়ে থাকে। চর্মরোগে এর পাতার রস ও তেল ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। নিম পাতার রস কৃমির উপদ্রব কমায়। নিমের ডাল দাঁতের মাজন, নিমের খৈল জীবাণুনাশক এবং নিম গাছের বাকল বাতজ্বর, দাদ, বিখাউজ, একজিমা, দাঁতের রক্ত ও পুঁজ পড়া, ডায়রিয়া, জণ্ডিস ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের বাকলের রস দাঁতের মাড়ি শক্ত করে। এছাড়া নিম পাতার নির্যাস শস্যের কীটনাশক হিসেবে ভালো কাজ করে, যা গ্রামীণ কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে নিম গাছ - অত্যন্ত উপযোগী।
শীতকালে যে সকল উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায় তাদের পত্রঝরা উদ্ভিদ (যেমন- মেহগনি) বলে।
কাঁঠাল গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। পানি জমে থাকে এমন জায়গায় কাঁঠাল গাছ রোপণ করলে তা মারা যায়। তাই বন্যামুক্ত উঁচু স্থানে কাঁঠাল গাছ রোপণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
