রিফাত: শুভ, তুই কি জানিস, মাদকাসক্তি কতটা ক্ষতিকর?
শুভ: (বিরক্তির সাথে) জানি, জানি। কতবার বলেছো!
রিফাত: তুই কি মনে করিস না তোর এই অভ্যাসটা তোর জীবনকে ধ্বংস করে ফেলবে?
শুভ: ধ্বংস করে ফেলবে মানে কি? আমি তো মজা করছি। রিফাত: মজা? তুই কি জানিস, মাদকাসক্তির কতগুলো কুফল আছে?
শুভ: আবার শুরু করলি! কতবার শুনেছি এইসব।
রিফাত: শুনলেও তো বুঝতে পারিস না। তোর শরীর, তোর মন, তোর পরিবার সবকিছুই তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শুভ: থাম। আমি কিছু শুনতে চাই না।
রিফাত: (হতাশার সাথে) শুভ, তুই বন্ধু আমার। তোর এই অবস্থা দেখে আমার ভালো লাগছে না। তুই কিছু কর না কেন?
শুভঃ (কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে) ঠিক আছে, বল। আমি কি করবো?
রিফাত: প্রথমে তোকে মাদক থেকে মুক্তি পেতে হবে। অনেক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার আছে যেখানে তোকে সাহায্য করা হবে।
শুভ: কিন্তু আমি কিভাবে? আমার তো লজ্জা লাগে।
রিফাত: লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। ভুল স্বীকার করে সংশোধন করাটাই মহানত্ব। আমি তোর পাশে আছি। তোকে সাহায্য করবো।
শুভ: (কৃতজ্ঞতার সাথে) ধন্যবাদ রিফাত। তুই আমার সজ্জা বন্ধু।
রিফাত: (হেসে) বন্ধুত্বের কথা ছাড়। এখন চলো, একটা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার খুঁজে বের করি।
(রিফাত ও শুভ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। রিফাত আশা করে, শুভ মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করবে।)
বিপদে বন্ধুর পরিচয়
তীর্থ আর তমাল খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওরা একই কলেজে আর একই ক্লাসে পড়ে। ওদের দুজনের বাবা অনেক দিন ধরে ঢাকায় চাকরি করেন। ফলে তমাল আর তীর্থও ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় বড় হয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর তমাল ওর গ্রামের দাদাবাড়িতে কিছুদিনের জন্য বেড়াতে যেতে চাইল। সে তীর্থকেও সঙ্গে নিতে চাইল। কিন্তু তীর্থ যখন ওর বাবা-মায়ের কাছে তমালের দাদাবাড়িতে যাওয়ার কথা বলল তখন তাঁরা কোনোমতেই রাজি হচ্ছিলেন না। কারণ তীর্থ খুব কমই তার বাবা-মাকে ছেড়ে থেকেছে। তবু হাল ছাড়ল না তমাল। সে একদিন সোজা তীর্থদের বাড়ি গিয়ে হাজির। তীর্থর মাকে অনুনয়-বিনয় করতে লাগল তার দাদার বাড়িতে যেতে রাজি করাতে। অবশেষে তমালের সঙ্গে ওর দাদাবাড়িতে যাওয়ার অনুমতি মিলল তীর্থর।
দুই বন্ধু গ্রামীণ পরিবেশ খুব উপভোগ করল। তমাল প্রতিবছরই গ্রামে আসে। আগে আসত ওর মা-বাবার সাথে। এই প্রথম সে কোনো বন্ধুকে নিয়ে এসেছে। সে কারণে তার আনন্দটা এবার একটু বেশি। আর তীর্থ সেই কবে শেষবার গ্রামে গিয়েছিল তার মনেই নেই। সে কারণে তার কাছে এই গ্রাম এক অন্য পৃথিবী বলে মনে হলো। টেলিভিশনে সে যে গ্রাম দেখেছে বাস্তবের এই গ্রাম তার চেয়ে অনেক সুন্দর মনে হলো তীর্থর কাছে। রাতে নদীর ওপর চাঁদের আলো আর ঝোপের ভেতর জোনাকি পোকার আলো, দিনে বিস্তীর্ণ হলুদ শর্ষে ফুলের মাঠ, আম-জাম- কাঁঠালের বন- সবকিছু তার কাছে ভালো লাগছে, অন্যরকম লাগছে।
একদিন বিকেলে ওরা দুই বন্ধু নদীর ধারে বেড়াতে গেল। তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একটি নৌকা দেখে তমাল তীর্থকে বলল, চল, আমরা নৌকায় ঘুরি। তীর্থ সাঁতার না জানায় তার মা তাকে পানির কাছে যেতে নিষেধ করে দিয়েছেন। কিন্তু তমাল নাছোড়বান্দা। তীর্থ তবু ইতস্তত করতে থাকে। তমাল তখন খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে, প্রয়োজন হলে তীর্থকে বাঁচাতে সে তার প্রাণ দেবে। এ কথায় তীর্থ নৌকায় ঘুরতে রাজি হয়ে যায়।
মাঝি নৌকাতেই ছিল। তমাল মাঝিকে বলল, তাদের দুই বন্ধুকে যেন মাঝি তার নৌকায় করে নদীতে ঘুরিয়ে আনে। কিন্তু মাঝি তার নৌকা ভালো না হওয়ায় রাজি হলো না। এই নৌকা নিয়ে নদীতে গেলে যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে বলেও জানায় মাঝি। কিন্তু তমালের বারবার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত মাঝি বেশ কিছু টাকার বিনিময়ে ওদের নদীতে ঘোরাতে রাজি হয়।
নৌকা কূল ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেল। তমালের খুব আনন্দ হচ্ছিল। তীর্থ একটু ভয় পেলেও ধীরে ধীরে সেও খুশি হয়ে উঠল। হঠাৎ নৌকার পাটাতনের একটা কাঠ ভেঙে গেল। নৌকায় পানি উঠতে শুরু করল। তীর্থ আর তমাল ভয় পেয়ে গেল। মাঝি নৌকা কূলের দিকে নেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করল কিন্তু নৌকা যতটা না এগোচ্ছে তার চেয়ে বেশি পানিতে তলিয়ে যেতে লাগল। তমাল পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে কূলের দিকে সাঁতরাতে শুরু করল। তমালের দেখাদেখি তীর্থও পানিতে লাফ দিল, কিন্তু সে সাঁতরাতে পারল না। সে তমালের নাম ধরে চিৎকার করে তার কাছে সাহায্য চাইতে লাগল। কিন্তু তমাল সে ডাকে ভূক্ষেপ না করে কূলের দিকে সাঁতরে যেতে থাকে। তীর্থ প্রায় ডুবেই যাচ্ছিল- ঠিক সেই সময় নৌকা থেকে মাঝি পানিতে লাফিয়ে পড়ে। কাঁধে তুলে তীর্থকে নিয়ে সাঁতরে কূলে আসে। ধুক-ধুক বুকে নিরাপদে কূলের দিকে এগোতে এগোতে তীর্থ ভাবতে থাকে, বিপদে পড়লেই সত্যিকার বন্ধুর পরিচয় পাওয়া যায়।
Related Question
View Allচর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
তন্বী = তোন্নি
'তন্বী' (তন্বী) শব্দের উচ্চারণ হলো: তন্বী (তন্-বী)।
- বিশ্লেষণ: তন্ + বী (ন-ফলা)।
এটি একটি বিশেষণ পদ, যার অর্থ সাধারণত তনুগাত্রী, কৃশাঙ্গী বা সুক্ষ্মদেহী নারী।
চিত্রকল্প = চিত্ত্রোকল্পো
চিত্রকল্প শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: চিত্রোকল্প [cit̪rokol̪p]।
উচ্চারণের নিয়ম:
- চিন্-: চ-এ হ্রস্ব-ইকার।
- -ত্রোক-: 'ত্ৰ' (ত+র) যুক্তবর্ণটি 'ত্রো' উচ্চারিত হয়।
- -ল্প: প-এর শেষে 'অ' ধ্বনি প্রায় বিলুপ্ত হয় (হসন্ত)।
বিশ্লেষণ:
চিত্রকল্প -> চৎ + রোক + ল্প।
অন্য = ওন্নো
উদ্বেগ = উদ্বেগ্
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!