"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের।
গোটা সমাজই সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় বা ক্ষেত্র, তাই সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ।
অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানসমূহ যেমন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজকল্যাণ, নৃবিজ্ঞান ইত্যাদি সমাজের এক একটি বিশেষ দিক সম্পর্কে আলোচনা করে। এ সকল সামাজিক বিজ্ঞানের কোনোটিই সমাজ সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়নের দাবি করতে পারে না। পক্ষান্তরে, সমাজবিজ্ঞান গোটা সমাজ অর্থাৎ ব্যক্তি, সামাজিক গোষ্ঠী, প্রথা, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করে। তাই বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাববিস্তারকারী অন্যতম উপাদান 'বংশগতি' বসবে।
বংশানুক্রমে জৈব ও মানবিক যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য অধস্তন পুরুষের মধ্যে সঞ্চালিত হয় তাই বংশগতি। অন্যকথায় বংশগতি বলতে মানুষের দৈহিক ও মানবিক গুণাবলির সমন্বিত ক্ষমতাকে বোঝায়, যে ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে মানুষ আজ প্রকৃতির ওপর কর্তৃত্ব করছে। মানুষের এই বংশগতি উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তায় এবং প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বিস্তার লাভ করে থাকে।
বংশগতির মাধ্যমে ব্যক্তির লিঙ্গ, গায়ের রং, বুদ্ধিমত্তা, দেহের গড়ন, রোগব্যাধি, নৃগোষ্ঠী নির্ধারিত হয়, যা সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। প্রশ্নে উল্লিখিত ছকে এ বিষয়গুলোই প্রদর্শিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে বংশগতি বসবে।
সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে ছক দ্বারা নির্দেশকৃত উপাদান তথা মানুষের বংশগত বা জৈবিক গুণাবলি মৌলিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
মানুষ মূলত জীবজগতের একটি জীব। জীব হিসেবে ব্যক্তির মধ্যে তার পূর্ব পুরুষের জৈবিক ধারা সদা বর্তমান ও ক্রিয়াশীল। ব্যক্তির মেধা, আচরণ প্রভৃতি অনেকাংশেই বংশগতি দ্বারা প্রভাবিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে 'বংশগতি' উপাদানটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্ণবাদী নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, কেবল উৎকৃষ্ট নৃগোষ্ঠীর লোকেরাই সমাজ ও সভ্যতায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে বংশগতির ধারায় যারা নিকৃষ্ঠ তারা সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে তেমন অবদান রাখতে পারে না। নৃবিজ্ঞানী গাল্টনের মতে, প্রতিভা এবং দক্ষতা বংশগতির সূত্রে প্রাপ্ত। মধ্যম মানের ব্যক্তিকে যতই অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া হোক না কেন সে তার প্রতিভার উন্নতি ঘটিয়ে সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে অবদান রাখতে ব্যর্থ হবে। অন্যদিকে এটা প্রমাণিত যে, মেধাবী ও প্রতিভাবান লোকেরা অনেক অনুকূল পরিবেশের বাঁধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, ভারতের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এপিজে আবুল কালাম এর উজ্জল উদাহরণ।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, বর্ণবাদী নৃবিজ্ঞানীদের মতামত গ্রহণ না করলেও ইতিহাস দ্বারা এটা মোটামুটি প্রমাণিত যে, সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে 'বংশগতি' উপাদানের প্রভাব অনস্বীকার্য।
Related Question
View Allকটি. বি. বটোমোর- এর মতে "সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সমাজের শ্রেণি বা স্তরভিত্তিক বিভাজন যা মর্যাদা ও ক্ষমতা গঠন করে।"
মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাই হচ্ছে মার্কসবাদ। কার্ল মার্কসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে 'মার্কসবাদ'।
মার্কসবাদ হলো একটি সামগ্রিক চিন্তাধারা, একটি সমাজদর্শন। মার্কসবাদ হলো দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। এটি একটি সামগ্রিক তত্ত্বচিন্তা। যেকোনো জ্ঞান শৃঙ্খলাতেই এর প্রয়োগ সম্ভব। একে পৃথকভাবে কেবল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি অথবা ইতিহাস বা দর্শন তত্ত্ব বলা ঠিক নয়। জগৎকে ব্যাখ্যা করা নয়, তাকে বদলে দেওয়াটাই আসল কথা-মার্কসবাদী চিন্তার সারকথা এটাই।
উদ্দীপকের সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। কিছুসংখ্যক মানুষ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘকাল বসবাস করতে থাকলে তাদের মধ্যে অভিন্ন চিন্তাভাবনা, সামাজিক বিষয়াদিতে অভিন্নতা, ঐতিহ্যগত অভিন্নতাবোধ, গভীর সংহতিবোধ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর এভাবে সুসংহত সামাজিক জীবনযাপনের সূত্রেই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী যারা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে সমজাতীয় জীবনযাপন করে এবং যার ফলে সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংহতিবোধ বিরাজ করে। একই নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্প্রদায় সৃষ্টি হতে পারে, যেমন- মুসলিম সম্প্রদায়। আবার ঐতিহ্যবাহী সমজাতীয় পেশা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করেও সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে। যেমন- তাঁতি ও জেলে সম্প্রদায়। উদ্দীপকেও এমন একটি শ্রেণি লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস নারায়ণগঞ্জের হরিজন সমাজের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। অর্থাৎ সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। যারা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা ও সমজাতীয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তারা একটি পৃথক সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। উপরের আলোচনা ও উদ্দীপকের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায় সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় নামক প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদাগত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যা সাংস্কৃতিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত।
বাংলাদেশের সমাজ শ্রেণিভিত্তিক বা স্তরায়িত সমাজ। অর্থাৎ এ সমাজ শ্রেণিবিভক্ত। এ শ্রেণি বিভাজন কখনো উৎপাদনের উপায়ের মালিকানা, কখনো উঁচু-নিচু মর্যাদা আবার কখনো ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে ক্রমোচ্চভাবে বিভক্ত। একটি শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনাচরণ এবং জীবনধারণের পদ্ধতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনধারণের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। এ ধরনের স্তরবিন্যাস মূলত শিক্ষা, অর্থ, প্রতিপত্তি, বংশ মর্যাদা, পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে হয় এবং সংস্কৃতি দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমাজব্যবস্থায় সুইপার সমাজের মানুষকে নিম্ন মর্যাদার মনে করা হয়। অন্যদিকে রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তী ধনী ব্যক্তি। আমাদের সমাজে ধনী শ্রেণির মর্যাদাগত অবস্থান উঁচু স্তরে। তাই দেখা যায়, সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর মধ্যে একটি মর্যাদাগত ব্যবধান রয়েছে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের পাশাপাশি সংস্কৃতির ভূমিকাকে তুলে ধরে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাব বিস্তার করেছে।
সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের জীবনে খেলার মাঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবারের নির্দিষ্ট ও সীমিত গণ্ডি পেরিয়ে শিশু খেলার মাঠে প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে আসে। খেলার মাঠে সঙ্গী-সাথীদের মাধ্যমে সে প্রভাবিত হয়। নিজেও অন্যান্যদের প্রভাবিত করে। এতে করে তার মধ্যে নেতৃত্ব, নিয়ম-শৃঙ্খলা, দায়িত্ব-কর্তব্য, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলির সূচনা ও বিকাশ ঘটে। তাই সমাজজীবনের রূপায়ণ ও সামাজিকীকরণে মানুষের জীবনে খেলার মাঠের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!