উৎপাদনের তিনটি উপকরণ, ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা ও সম্পাদন করাকে সংগঠন বলে।
জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ বলতে ব্যক্তিগত সম্পদ ও সমষ্টিগত সম্পদ উভয়েরই সংরক্ষণ বোঝায়। ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদ; যেমন- অর্থসম্পদ, ভূসম্পত্তি, স্বর্ণ-রৌপ্য প্রভৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। আবার সমষ্টিগত সম্পদ যেমন- রাস্তাঘাট, সেতু, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, প্রাকৃতিক সম্পদ প্রভৃতির পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্র জনগণের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সঠিকভাবে এসব সম্পদ সংরক্ষণ করতে না পারলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এ কারণেই জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে প্রত্যেক নাগরিকেরই বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।
'ক' রাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ওপর ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতন্ত্র হলো সমাজের অর্থনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র উৎপাদনের চারটি উপাদান তথা ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠনকে সমন্বিত করে একটি সার্বিক কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুসারে উৎপাদন কার্যের নির্দেশনা দেয় ও তা পরিচালনা করে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সকল সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় 'ক' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজের সকল সদস্য যেন সর্বাধিক কল্যাণ অর্জন করতে পারে, এটিই সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। এ অর্থব্যবস্থায় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনের ক্ষেত্রে মৌলিক সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সরকার। এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ ও বিনিয়োগের সুযোগ নেই। ভোগকারীর নিজের ইচ্ছামতো দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করার সুযোগ এখানে নেই। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অর্জিত মুনাফার মালিক রাষ্ট্র বা সরকার। ভূমির খাজনা ও মূলধনের সুদও সরকারের কোষাগারে জমা হয়। রাষ্ট্রই শ্রমিকের মজুরি প্রদান করে এবং উৎপাদনের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করে। আবার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা না থাকায় এই ব্যবস্থায় উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রণোদনা ও উদ্যম হ্রাস পেতে পারে। ফলে সম্পদের কাম্য ব্যবহার বিশেষত ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতা নিশ্চিত করা যায় না।
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকায় 'ক' রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থা মূলত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি 'ক' রাষ্ট্র তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার রাষ্ট্রের তুলনায় 'খ' রাষ্ট্রে তথা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার রাষ্ট্রে অধিক শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ সকল সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় তা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার রাষ্ট্র। 'খ' রাষ্ট্রে স্কুল, বাড়ি, গাড়িসহ সকল সম্পদ ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেটি ধনতান্ত্রিক। অর্থব্যবস্থার রাষ্ট্র। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকের মজুরি প্রদান এবং উৎপাদনের অন্যান্য ব্যয় রাষ্ট্রই নির্বাহ করে। এখানে শ্রমিকের মজুরি প্রদানের মূলনীতি হলো- 'প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে।' এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্র প্রত্যেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয় বিধায় বেকারত্ব থাকে না। সকলের আয় এক নয় কিন্তু কেউই উৎপাদনে তার অবদান অনুসারে প্রাপ্য আয় থেকে বঞ্চিত হয় না। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় আয় বৈষম্য কম হয় এবং অর্জিত সম্পদের সুষম বণ্টন হয়। অপরদিকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ, যথা- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে। ফলে উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ অর্থব্যবস্থায় সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। সেসব দ্রব্যের ক্ষেত্রে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি, এ ব্যবস্থায় উৎপাদনকারীরা যেসব দ্রব্যেই বেশি বিনিয়োগ করে। সর্বোচ্চ মুনাফা লাভের জন্য উদ্যোক্তা বা পুঁজিপতিরা দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় কম রাখার উদ্দেশ্যে শ্রমিককে তার ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেয়। উদ্বৃত্ত মজুরি পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তার কাছে মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয়। শ্রমিক প্রাপ্যের চেয়ে কম মজুরি পায়, আর পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তা। তাদের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করে। এভাবে উৎপাদিত সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও বৈষম্য সৃষ্টি হয়। তাই আমি মনে করি যে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার রাষ্ট্রের তুলনায় ধনতান্ত্রিক, অর্থব্যবস্থার রাষ্ট্রে শ্রেণিবৈষম্যের মাত্রা তুলনামূলক অনেক বেশি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allসম্পদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যে ব্যবস্থা বা কাঠামোর আওতায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা নির্ধারিত হয় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎপাদিত সম্পদের বণ্টন ও ভোগ প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জনগণের অর্থনৈতিক কার্যাবলি এবং অর্থনীতি বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
পার্থের 'ক' দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। তাই রাষ্ট্রই শ্রমিকের মজুরি প্রদান করে এবং উৎপাদনের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করে। এর ফলে ধনতন্ত্রের মতো পুঁজিপতি কর্তৃক শ্রমিককে বঞ্চিত করার সুযোগ থাকে না। উদ্দীপকে পার্থ 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন সেদেশে ব্যক্তিগত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায় না। পার্থের বাবা উক্ত 'ক' দেশে যে কারখানায় কাজ করতেন তার প্রাপ্য মজুরির একটি অংশ প্রয়োজন অনুসারে তাকে দেওয়া হতো। অতএব, পার্থের 'ক' দেশের অর্থব্যবস্থার ধরনটি হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। এখানে শ্রমিকের মজুরি প্রদানের মূলনীতি হলো 'প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে।' এ ব্যবস্থায় বেকারত্ব থাকে না। কারণ রাষ্ট্র প্রত্যেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। সকলের আয় এক নয়। কিন্তু কেউ উৎপাদনে তার অবদান অনুসারে প্রাপ্য আয় থেকে বঞ্চিত হয় না।
পার্থ 'ক' দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন যেখানে ব্যক্তিগত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায় না, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য এবং 'খ' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমানু।
সাম্প্রতিককালে পার্থ 'খ' নামক দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং সেখানে তিনি এক লাখ ডলার খরচ করে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তারপর তিনি তার আয় দিয়ে আরও একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। অতএব, 'খ' নামক দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
নিচে এ দুটি অর্থব্যবস্থার পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
ভিত্তি | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা |
| ১. উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ যেমন-ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন। ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদ স্বাধীনভাবে ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। এক্ষেত্রে সম্পদের কোনোরকম ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। |
| ২. উদ্যোগ গ্রহণ | ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি এককভাবে বা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে যেকোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের সকল উদ্যোগ সরকারিভাবে গৃহীত হয়। |
| ৩. ভোক্তার স্বাধীনতা | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোগকারী কোন দ্রব্য কী পরিমাণে ক্রয় ও ভোগ করবে তার সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোগকারীর নিজ ইচ্ছামতো দ্রব্যসামগ্রী ভোগের সুযোগ নেই। |
| ৪. শ্রমিক শোষণ | এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকেরা প্রাপ্যের চেয়ে অনেক কম মজুরি পায়। তাই এখানে শ্রমিক শোষণ রয়েছে | এখানে মুনাফার মধ্যে পুরোটাই রাষ্ট্র বা সরকারের মালিকানায়। তাই শ্রমিক শোষণের প্রশ্নই ওঠে না। |
| ৫. নির্দেশনা | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের যেকোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তি নির্দেশনা কার্যকর হয়। অর্থাৎ উদ্যোক্তা নিজেই নানা বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি নির্দেশের কোনো ব্যবস্থাই নেই। এখানে উৎপাদনের যেকোনো বিষয়ে সায়কারিভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। |
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'ক' ও 'খ' দেশের অর্থব্যবস্থা অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক ও ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।
উৎপাদন কাজে ব্যবহারযোগ্য মানুষের শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতাকে শ্রম বলে।
জাতীয় সম্পদের প্রধানত ২টি উৎস। এর মধ্যে প্রথমটি হলো প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ। কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভিতরের ভূমি, ভূমির উপরিস্থিত এবং অভ্যন্তরস্থ যা কিছু আছে সবই প্রকৃতির দান। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বনের গাছপালা, ফলমূল, প্রাণী ও পাখিকুল, নদনদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ, অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ, ভূমির অভ্যন্তরস্থ পানি ও সকল প্রকারের খনিজ পদার্থ সবই প্রকৃতি প্রদত্ত জাতীয় সম্পদ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!