রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকর থাকে না।
নির্লিপ্ততা বলতে কাজের প্রতি নাগরিকদের উদাসীনতাকে বোঝায়। নিরক্ষরতা, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব, অলসতা, দারিদ্র্য, কাজে অনীহা প্রভৃতি কারণে নির্লিপ্ততা তৈরি হয়। এর ফলে নাগরিক রাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করতে চায় না। এমনকি নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও পালন করে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের সুনাগরিক হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা হলো নির্লিপ্ততা।
ছক-১ নাগরিকের অধিকার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছে।
বিশ্বের সব দেশের নাগরিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অধিকার ভোগ করে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে আমর সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করি। এসর অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো-
জীবনধারণের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা লাভ করার অধিকার, কর্ম লাভের অধিকার, স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি। এসব অধিকার বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ করা আছে।
ছক-১ এ উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো জীবনধারণ, সম্পত্তি ভোগ ও ধর্মচর্চা। যেহেতু এ বিষয়গুলো নাগরিকের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত সেহেতু বলা যায়, ছক-১ এ নাগরিকের অধিকার বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ছক-২ যথাযথভাবে পালনের ওপর ছক-১ এর প্রাপ্যতা নির্ভর করে-উক্তিটি সঠিক।
ছক-২ এ নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং ছক-১ এ নাগরিকের অধিকারের বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের নিকট নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, অনুরূপ রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকের কর্তব্য রয়েছে।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আর অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিক যেসব দায়িত্ব পালন করে তাকে কর্তব্য বলে।
একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্য নির্দেশ করে। যেমন-আমার পথ চলার অধিকার আছে, এর অর্থ আমি পথ চলব এবং অন্যজনকেও পথ চলতে দেব। এভাবে নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে নিজের অধিকার ভোগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আমরা রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করি তার বিনিময়ে আমাদের কর্তব্য পালন করতে হয়।
উল্লিখিত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই নাগরিকগণ অধিকার ভোগের সুযোগ লাভ করে। আর এ কারণেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক।
Related Question
View Allজনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম।
সাম্প্রদায়িকতা সুনাগরিকত্ব অর্জনের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।
সাম্প্রদায়িকতার কারণে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক সময় বিভেদ ও অশান্তি বিরাজ করে। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এবং সমাজে সংকীর্ণ ও বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতার উদ্ভব হয়। এর চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিভিন্ন ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা ও হানাহানি সংঘটিত হয়। এ জন্যই সুনাগরিক হওয়ার পথে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাকে চিহ্নিত করা হয়।
উদ্দীপকের রিকশাওয়ালার মাঝে সুনাগরিকের 'আত্মসংযম' গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
আত্মসংযম হচ্ছে নাগরিকের এমন গুণ, যা তাকে বিভিন্ন অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে। এ গুণ ব্যক্তিকে দেশ এবং সমাজের স্বার্থে কাজ করতে ও নিয়ম মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করে। আত্মসংযমী নাগরিক রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলে, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করে, দেশের স্বার্থকে নিজের স্বার্থের চেয়ে বড়ো করে দেখে এবং অন্যায় কাজ ও দলীয় স্বার্থপরতা থেকে বিরত থাকে, মোট কথা একজন সুনাগরিক তার আত্মসংযমের কারণেই সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকের দুই বান্ধবীর কথোপকথন থেকে জানা যায়, একজন রিকশাওয়ালা তার রিকশায় ওঠা জনৈক যাত্রীর এক লক্ষ টাকার একটি ব্যাগ পেয়েও নেননি, বরং ঠিকানা খুঁজে টাকাটা যাত্রীকে ফেরত দিয়েছেন। এখানে রিকশাওয়ালার মধ্যে আত্মসংযম কাজ করায় তিনি টাকা আত্মসাৎ করেননি। এ গুণের কারণেই তিনি অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থেকেছেন এবং নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
আমার মতে সুনাগরিক হতে হলে রিকশাওয়ালার উক্ত গুণ তথা 'আত্মসংযম' যথেষ্ট নয়।
সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণ থাকা জরুরি। যথা- বুদ্ধি, আত্মসংযম এবং বিবেক। একজন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হতে হলে এই তিনটি গুণেরই অধিকারী হতে হবে। কেননা একজন আত্মসংযমী ব্যক্তির পাশাপাশি বুদ্ধিমান ও বিবেকবোধসম্পন্ন নাগরিকও যেকোনো রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ।
একজন আত্মসংযমী নাগরিক যেমন অসৎ কাজ থেকে বিরত থেকে দেশ এবং জাতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন, ঠিক তেমনি বুদ্ধিমান ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে বিবেকবান নাগরিক রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকেন। উদ্দীপকের রিকশাওয়ালা একজন আত্মসংযমী নাগরিক। এ কারণেই তিনি অন্যের টাকা আত্মসাৎ করেননি। তবে তার মধ্যে নাগরিকের মৌলিক গুণাবলির কেবল একটি গুণ লক্ষ করা যায়।
সামগ্রিক আলোচনার পরিয়মাপ্তিতে বলা যায়, সুনাগরিক হতে হলে আত্মসংযমী হওয়ার পাশাপাশি বুদ্ধিমান ও বিবেকবান হওয়া জরুরি।
বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
সুনাগরিক হওয়ার ক্ষেত্রে নির্লিপ্ততা অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে।
কাজের প্রতি নাগরিকদের উদাসীনতাকে নির্লিপ্ততা বলে। বিভিন্ন কারণে নাগরিকদের মধ্যে নির্লিপ্ততা তৈরি হয়। যেমন-নিরক্ষরতা, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব, অলসতা, দারিদ্র্য ও কাজে অনীহা। এর কারণে নাগরিক রাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করতে চায় না। এমনকি নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্যও পালন করে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!