সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৮৫ কি.মি. উপরের স্তর যেখানে গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে তাকে সমমণ্ডল বলে।
বায়ুর স্বাভাবিক অবস্থার নেতিবাচক পরিবর্তনকেই বায়ুদূষণ বলে।
প্রকৃতি বা মানুষ সৃষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশুদ্ধ বায়ুতে যখন এক বা একাধিক দূষকের উপস্থিতি ঘটে তখন তাকে বায়ুদূষণ বলে। এর ফলে জীবকূলের স্বাভাবিক জীবনধারা বাধাগ্রস্থ হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়।
চিত্রের 'ক' চিহ্নিত স্তর তথা ট্রপোমণ্ডল পৃথিবীর জীবকুলের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের প্রথম ও সর্বনিম্ন স্তর। এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি স্তর। কারণ আবহাওয়ার প্রায় সকল প্রকার উপাদান এই স্তরেই বিদ্যমান। ট্রপোমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের সাথে লেগে আছে বলে জীবমণ্ডলের বাস্তুতন্ত্রের জন্য এই স্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারণ এ স্তরের নিম্নভাগে মানুষসহ সকল ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান এবং মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি এ স্তরে ঘটে থাকে। বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯০ ভাগ জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, ধোঁয়া প্রভৃতি এ স্তরেই অবস্থান করে। বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব এ স্তরে সবচেয়ে বেশি। এই স্তরের উষ্ণতা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর তাপ, চাপ, প্রবাহ ও ঘনত্বের পরিবর্তন হওয়ায় ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের জন্য সহায়ক।
সুতরাং, জীবনধারণের জন্য ট্রপোমণ্ডল সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্তর।
উদ্দীপকের 'খ' স্তরটি ওজনোস্ফিয়ার
উদ্দীপকের শেষের স্তর বলতে ওজোন স্তরটিকে বুঝানো হয়েছে। এ স্তরটি সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবকূলের বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ার বায়ুস্তরের উর্ধ্বসীমাকে ওজনোস্ফিয়ার বলা হয়। ওজন গ্যাসের এ স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্বে প্রায় ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে দেখা যায়। ওজন স্তরটির প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। কারণ, এ স্তর না থাকলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির দহনে প্রাণীর দেহ পুড়ে যেত এবং সমস্ত প্রাণিকূল অন্ধ হয়ে যেত। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এখানে তাপ ৭৬০ সে. পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তাই ওজন স্তরের কোনো ক্ষতি হলে বা এটি ফুটো হলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ভূপৃষ্ঠে চলে আসবে এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রাণিজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এটি নিশ্চিত যে, ওজন স্তরের ক্ষতিই তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ওজোন স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবকুলের বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে পৃথিবীকে রক্ষা করছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allজীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এ স্তরে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাইঅক্সাইড, ধূলিকণা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে যা প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য খুবই প্রয়োজন। এছাড়া এ স্তরে মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, কুয়াশা, ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সবকিছুই ঘটে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের শতকরা ৮০ ভাগ বায়ু এ স্তর ধারণ করায় এ স্তরের নিচে উদ্ভিদ ও প্রাণীর অস্তিত্ব দেখা যায়। তাই ট্রপোমণ্ডল স্তরটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণটি হলো বায়ুদূষণ। নিচে মানবস্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
বায়ুদূষণের অন্যতম দূষক হচ্ছে সালফার ডাইঅক্সাইড , নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড () যা ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে। ব্রঙ্কাইটিসের প্রধান উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অত্যধিক মিউকাস ক্ষরণ ও সঞ্চয় এবং বিঘ্নিত শ্বসন। বায়ুদূষণ এবং ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ। শহরের বায়ুদূষণ তীব্র হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। উৎপাদন স্থলে বা অট্টালিকা নির্মাণের সময় অ্যাজবেস্টাসের প্রভাবে ফুসফুসীয় কলা অমসৃণ হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ফুসফুসে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ফুসফুসের এরূপ অস্বাভাবিক অবস্থাকে অ্যাজবেস্টোসিস বা ফুসফুসীয় ফাইব্রোসিস বলে। বায়ুতে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতির কারণে অতিশয় মন্দ প্রভাব
যথা- অ্যানিমিয়া, লিউকেমিয়া এবং ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রভাবে এর মিউটেশন, বন্ধ্যাত্ব, ভ্রূণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং জন্মত্রুটি ঘটতে পারে। উদ্দীপকে নজীব দীর্ঘ দশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে ঢাকায় আসে। এখানকার গাড়ির কালো ধোঁয়া, কলকারখানায় নির্গত গ্যাস ব্যাপকভাবে বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে। যা মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে সৃষ্ট দূষণটি হলো বায়ুদূষণ যা মানব স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করে।
নিচে, বায়ুদূষণ প্রতিরোধে করণীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা পরিমাপের জন্য ব্যাপক জরিপ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণকে বায়ুদূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদের কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্বন্ধে পরিচিতি প্রদান করতে হবে।
পরিবেশে জনসংখ্যা ভার কমাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনে ডিজেলের পরিবর্তে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বনায়ন করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দেশকে যথার্থ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বায়ুমণ্ডলে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কার্বনচক্রের মাধ্যমে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়ই গ্লুকোজরূপে তা গ্রহণ করে। প্রাণী খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং উভয়ের দেহেই কার্বন যৌগ তথা গ্লুকোজ জারিত হয়ে কার্বন-ডাইঅক্সাইডরূপে প্রকৃতিতে ফিরে যায়। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার উদ্ভিদ গ্রহণ এবং প্রাণী ত্যাগ করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
