উত্তরঃ

যে সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।

উত্তরঃ

সরকারব্যতীত রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার চালিকাশক্তি বলা হয়। সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকারের রয়েছে কিছু অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রের নানামুখী কার্যাবলি পরিচালনা করে থাকে। এ কারণেই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি বলা হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের 'ক' ছকে বর্ণিত বিষয়টি হলো বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পটভূমি।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল হলো সংবিধান। আর এ সংবিধান প্রণয়নে বাংলাদেশের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল এক ইতিহাস। উদ্দীপকে ছক 'ক'-তে ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপে যেসব তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তা আমাদের সংবিধান প্রণয়নের সাথে সম্পর্কযুক্ত। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ই এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে এবং ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ছয় মাসের মধ্যে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করে। ১৯৭২ সালের ৩০শে অক্টোবর গণপরিষদে এটি আলোচিত হয়। অবশেষে একই বছরের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে এটি - চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ছকের বিভিন্ন ধাপে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পটভূমি ফুটে উঠেছে।

উত্তরঃ

না, উদ্দীপকে নির্দেশিত 'খ' ছকের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেনি।

১৯৭২ সালের মূল সংবিধান অনুযায়ী সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পরিচালনার চারটি মূলনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যথা-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। উদ্দীপকের ছক 'খ'-তে দেখা যায়, ঐক্য ও সংহতি, শোষণমুক্ত সমাজ ও সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ-এ তিনটি বিষয় দেওয়া হয়েছে। এগুলো যথাক্রমে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রকে নির্দেশ করে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা এখানে অনুপস্থিত। এক্ষেত্রে সব রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এখানে স্পষ্ট নয়। একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হলো এর উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রের সকল কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। রাষ্ট্রের প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং ধর্ম পালনে কেউ কাউকে বাধা প্রদান করবে না এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিশেষে ধর্মনিরপেক্ষতার এ উপাদানটি অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকের ছক 'খ'-তে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেনি।

58

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান । সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি উপাদান। পৃথিবীর প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। আবার প্রতিটি সরকারের রয়েছে কিছু অঙ্গ । এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র নানামুখী কাজ করে থাকে। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধানে উল্লিখিত নীতিমালার ভিত্তিতে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। এতে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার বিবরণ রয়েছে। 

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

• সরকার পদ্ধতির ধরন সংক্ষেপে বর্ণনা করতে পারব;

• বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করতে পারব;

• বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করব ;  সংক্ষিপ্ত রূপরেখা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব;

• বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;

• বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের সুশাসনের জন্য গৃহীতসুশাসনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে

• কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সরকার রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য এবং সকল কাজ সরকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ইঞ্জিন ছাড়া গাড়ি যেমন চলতে পারে না, তেমনি সরকার ছাড়া রাষ্ট্র চলতে পারে না। রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ভূমিকা অপরিসীম।

202
উত্তরঃ

সরকারব্যবস্থার পরিবর্তন যুগে যুগে ঘটেছে। রাষ্ট্রের শুরু থেকেই সরকারের ধরন ও ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান যুগে সরকার বিভিন্ন নীতি ও কাঠামোর ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এ কারণে সরকারের শ্রেণিবিভাগও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।

118
উত্তরঃ

সরকারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র। গণতন্ত্রে জনগণই ক্ষমতার উৎস এবং তারা ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্রে এক ব্যক্তি বা দলের শাসন চলে এবং জনগণের মতামতের কোনো পুরুত্ব থাকে না।

169
উত্তরঃ

গণতন্ত্র হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকে। জনগণ তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে। এটি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে প্রচলিত।

397
উত্তরঃ

একনায়কতন্ত্র হলো এক ব্যক্তির বা এক দলের শাসনব্যবস্থা। এতে জনগণের অধিকার ও মতামতের কোনো স্বীকৃতি থাকে না। শাসকের ইচ্ছাই আইন হিসেবে কার্যকর হয়। এটি গণতন্ত্রের বিপরীত একটি শাসনব্যবস্থা।

187
উত্তরঃ

একনায়কতন্ত্রে, ক্ষমতা এক ব্যক্তির বা এক দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। এতে জনগণের অধিকার ও মতামতের গুরুত্ব থাকে না। একনায়ক বা দল ইচ্ছামতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এই শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে না।

252
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews