দেহে প্রবিষ্ট অ্যান্টিজেনকে প্রতিহত করার জন্য দেহে যে প্রোটিন তৈরি হয় তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
আমাদের দেহে জন্মগতভাবেই জীবাণুর বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে, একে সহজাত প্রতিরক্ষা স্তর বলে। অপর দিকে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মানুষ জন্মগতভাবে প্রাপ্ত হয় না কিন্তু বিশেষ উপায়ে অর্জন করতে হয়, তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা স্তর বলে।
উপরের চিত্রটি মানুষের ত্বকের প্রস্থচ্ছেদ (আংশিক)। নিচে চিত্রটি অঙ্কন করে বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করা হলো-

উদ্দীপকের উল্লিখিত ক্ষরিত রস হলো লিম্ফোসাইট, রস। এই রস কোনো জীবাণুকে নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে, তাই এর কার্যক্রম স্পেসিফিক। দেহে কোন জীবাণুর আক্রমণ ঘটলে দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমটি হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুপ্রবেশকারী, জীবাণুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সাড়া দান করা। দ্বিতীয়টি হলো অনুপ্রবেশকারীর কথা মনে রাখা। লিম্ফোসাইট রসের স্মৃতি কোষসমূহ এই কাজ সম্পন্ন করে থাকে। এরা দু ধরনের, যথা- T-লিম্ফোসাইট B-লিম্ফোসাইট। এদের মধ্যে B-লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। এদেরকে মেমোরি B-কোষ বলে। এদের প্রধান ভূমিকা হলো দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করে অনুপ্রবেশকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহকে 'অনাক্রম্য করে তোলা। এভাবে গড়ে উঠে অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রথমবার কোন জীবাণু দেহে সংক্রমণ ঘটালে তার বিরুদ্ধে যে সাড়া গড়ে উঠে তাকে প্রাইমারি সাড়া বলে।' আবারও যদি একই জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ ঘটে তাহলে স্মৃতি কোষ দ্বারা দ্রুত সেকেন্ডারি সাড়া গঠিত হয়। সাধারণত মেমোরি B-কোষ মানবদেহের রক্তপ্রবাহে দীর্ঘদিন অতন্দ্র প্রহরীর মত সতর্ক থাকে, তবে কোন অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে না। কিন্তু সেকেন্ডারি সাড়ায় মেমোরি B-কোষ অতি দ্রুত বিপুল সংখ্যক অ্যান্টিবডি ক্ষরণকারী কোষ সৃষ্টি করে। ফলে রক্তপ্রবাহে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয় এবং দেহ রোগমুক্ত হয়।
তাই বলা যায়, লিম্ফোসাইট রসের কোন নির্দিষ্ট জীবাণুর প্রতি সক্রিয়তার জন্যই এর কার্যক্রম স্পেসিফিক।
Related Question
View Allদেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।
উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।
দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
