উত্তরঃ

বয়ঃপ্রাপ্ত নারীর সমগ্র যৌন জীবনে প্রায় নিয়মিত গড়ে ২৮ দিন পর পর জরায়ু থেকে রক্ত, মিউকাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের ভগ্নাংশ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অনিষিক্ত ডিম্বাণুর চক্রিয় নিষ্কাশনই হলো রজঃচক্র।

উত্তরঃ

নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্ল্যান্টেশন বলে। ইমপ্ল্যান্টেশন এর ফলেই গর্ভধারণ সম্ভব হয়। এন্ডোমেট্রিয়ামে সংলগ্ন থাকা অবস্থায়ই ভূণ গঠিত হয়। পরবর্তীতে ভূণটি পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়ে মানব শিশুতে পরিণত হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের ব্যাকটেরিয়াজনিত 'A' রোগটি হলো সিফিলিস।
সিফিলিসের লক্ষণ যেমন বেশ দেরিতে (অর্থাৎ ২১ দিন পর) প্রকাশ পায় তেমনি শেষ পর্যায়ে যেতেও অনেক সপ্তাহ, মাস বা বছর পেরিয়ে যায়। লক্ষণ প্রকাশের সময়কালকে ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। নিচে এর
লক্ষণসমূহ বর্ণনা করা হলো-

১. প্রাথমিক পর্যায়: ২১ দিন পর ১টি মাত্র সিফিলিটিক ক্ষত প্রহয়। এটি দৃঢ়, গোল ও ব্যথাহীন ক্ষত। এটি দেখে বোঝা যায় জীবাণু কোন পথে সংক্রমিত হয়েছে। তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পর ক্ষতপূরণ হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ধাবিত হয়।
২. মাধ্যমিক পর্যায়: গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুসকুঁড়ি দেখা দেওয়া এবং সিফিলিটিক ক্ষত অমসৃণ, লাল বা লালচে বাদামী দাগ হিসেবে হাত-পায়ের তালুতে আবির্ভূত হওয়া এ পর্যায়ের লক্ষণ। ক্ষত ছাড়াও জ্বর, স্ফীত লসিকা গ্রন্থি, গলাভাঙ্গা, বিভিন্ন জায়গায় চুল উঠে যাওয়া, মাথাব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, পেশি ব্যথা, ক্লান্তি প্রভৃতিও এ পর্যায়ে দেখা দেয়।
৩.সুপ্ত পর্যায়: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের লক্ষণগুলো অদৃশ্য হলে শুরু হয় এবং সুপ্ত পর্যায়। এ সময় আক্রান্তের দেহে কোনো ক্ষত, ফুসকুঁড়ি বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা যায় না। বছরের পর বছর এ পর্যায় অব্যাহত থাকতে পারে।
৪.বিলম্বিত পর্যায়: জীবাণুতে প্রথম সংক্রমিত হওয়ায় প্রায় ১০-২০ বছর পর সিফিলিস পূর্ণাঙ্গরূপে আবির্ভূত হয়। রোগের বিলম্বিত দশায় রোগীর মস্তিষ্ক, স্নায়ু, চোখ, হৃৎপিণ্ড, রক্তকণিকা, যকৃত, গ্রন্থি ও সন্ধির ক্ষতি সাধন করে। ফলে পেশি সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে, দেখা দেয় পঙ্গুত্ব, অন্ধত্ব, হতবুদ্ধি ও অস্তির চিত্ত। এ অবস্থায় মানুষের মৃত্যু ঘটে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের X হলো শুক্রাণু এবং Y হলো ডিম্বাণু। স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হতে না পারলে জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কৃত্রিম গর্ভধারণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। কৃত্রিম গর্ভধারণ পদ্ধতি হিসেবে আই. ভি. এফ, পদ্ধতি অন্যতম।
আই.ভি.এফ. পদ্ধতিতে ল্যাপারোস্কোপিক প্রক্রিয়ায় খুব সাবধানে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু বের করে ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের করতে ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ আল্ট্রাসাউন্ড সূচ। একই সময়ে স্বামীর অসংখ্য শুক্রাণু সংগ্রহ করে তার মধ্যে থেকে - এক ঝাঁক ভালো শুক্রাণু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেয়া হয়। - নিষেকের জন্য সংগৃহীত শুক্রাণুর সাথে সেই ডিম্বাণুকে কালচার মিডিয়ায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা এক সঙ্গে রাখা হয়। সাধারণত এ মিশ্রণে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর সংখ্যার অনুপাতে থাকে ৭৫,০০০: ১। ইনক্যুবেটরের ভেতরে মাতৃগর্ভের পরিবেশ সৃষ্টি করে তাতে ডিম্বাণু পৃথক পৃথক ভাবে একই অনুপাতে শুক্রাণুর সাথে রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে নিষেক ঘটাতে ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন পদ্ধতিতে শুধুমাত্র একটি শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। নিষেক নিশ্চিত হওয়ার পর কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জাইগোট তথা অপরিপক্ক ভ্রূণ তৈরি হয়। ৪৮ ঘণ্টার পর নিষিক্ত ডিম্বাণুটি ৬-৮ টি কোষের গুচ্ছে পরিণত হয়। এ অবস্থায় ভ্রূণটিকে একটি বিশেষ নলের সাহায্যে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। সূচনার সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়টাতে ভ্রূণ একদম স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠে।
উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হতে না পারলেও কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ সম্ভব।

4

প্রজনন প্রক্রিয়ায় জীব নিজ সত্তাবিশিষ্ট অপত্য বংশধর সৃষ্টি করে নিজ প্রজাতির স্থায়িত্ব বজায় রাখে। মানুষের বংশবৃদ্ধি যৌন জনন প্রক্রিয়ায় সাধিত হয়।

Related Question

View All
উত্তরঃ

শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টির প্রক্রিয়াই হলো নিষেক।

4
উত্তরঃ

গ্যামেট বা জননকোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে গ্যামেটোজেনেসিস বলে।
এ প্রক্রিয়ায় জনন মাতৃকোষ হতে স্ত্রী জনন অঙ্গে ডিম্বাণু ও পুরুষের জনন অঙ্গে শুক্রাণু তৈরি হয়। এক্ষেত্রে মিয়োসিস কোষবিভাজনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃজনন কোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ উৎপন্ন হয়।

5
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম গঠনটি মানবভূণের ব্লাস্টুলা দশা। নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্লান্টেশন বলে। নিষিক্ত জাইগোট মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দ্রুত বিভক্ত হয়ে মরুলা দশা পার করে উদ্দীপকের ব্লাস্টুলা দশা বা ব্লাস্টোসিস্ট এ পরিণত হয়। ডিম্বনালিতে সৃষ্ট এ ব্লাস্টোসিস্ট ৪-৫ দিনের ভেতর জরায়ুতে এসে পৌঁছালে দু'দিনের ভেতর এর জোনা পেলুসিডা আবরণ অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন এর ট্রফোব্লাস্ট কোষ ও জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম কোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। ব্লাস্টোসিস্ট এন্ডোমেট্রিয়ামের যেখানে গ্রোথিত হয় সেখানকার আবরণি টিস্যু ট্রফোব্লাস্ট থেকে নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে বিগলিত হয়। তখন ব্লাস্টোসিস্টটি সেখানে যুক্ত হয়। এভাবে নিষেকের ষষ্ঠ থেকে নবম দিনের মধ্যে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রতিস্থাপিত হয় যা ইমপ্ল্যান্টেশন নামে পরিচিত।

3
উত্তরঃ

পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুর দেহ গঠিত হয় ভ্রূণীয় বিভিন্ন পরিবর্তনীয় ধাপের মাধ্যমে। এর মধ্যে উদ্দীপকের দ্বিতীয় গঠন অর্থাৎ গ্যাস্টুলা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যে প্রক্রিয়ায় একস্তরী ব্লাস্টুলা থেকে ত্রিস্তরী প্রাণিদের ত্রিস্তরী গ্যাস্টুলা গঠিত হয় তাকে গ্যাস্ট্রলেশন বলে। গ্যাস্টুলেশন পর্যায়ে এর কোষগুলোর পরিযানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় তিনটি কোষীয়স্তর, যথা-বহিঃস্থ এক্টোডার্ম, মধ্যস্থ মেসোডার্ম এবং অন্তঃস্থ এন্ডোডার্ম। গ্যাস্টুলায় সৃষ্ট এ তিনটি স্তর থেকেই অঙ্গকুড়ি সৃষ্টি হয় যা অর্গানোজেনেসিস নামে পরিচিত। এর মধ্যে এক্টোডার্মের কোষগুলো পরিণত হয় ত্বক, চুল, নখ, বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ ইত্যাদি গঠন করে। মেসোডার্মের কোষগুলো পরবর্তীতে দেহের পেশি, যোজককলা, দেহগহ্বরের অন্তঃআবরণী প্রভৃতি সৃষ্টির মাধ্যমে মানব অজাসমূহের পূর্ণাঙ্গতা আনে। আর এন্ডোডার্মের কোষসমূহের পরিণতিতে পৌষ্টিক নালীর বিভিন্ন অংশ, রেচনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থি ইত্যাদি অঙ্গের সৃষ্টি হয়।
কাজেই দেহের বিভিন্ন অঙ্গের পূর্ণতা প্রাপ্তি গ্যাস্টুলার তিনটি স্তরের পরিণতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এজন্য একথা অনস্বীকার্য যে, গ্যাস্টুলার বিভিন্ন স্তরের পরিবর্তন ছাড়া পূর্ণাঙ্গ দেহ গঠন অসম্ভব।

3
উত্তরঃ

যৌনজননক্ষম জীবে যে প্রক্রিয়ায় পুংজননকোষ ও স্ত্রীজনন কোষ মিলিত হয় সেই প্রক্রিয়াই হলো নিষেক।

4
উত্তরঃ

সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভবসহ জননাঙ্গের সক্রিয় পরিস্ফুটনকালকে বয়ঃপ্রাপ্তি বা বয়ঃসন্ধিকাল বলে। এ কালটি পুরুষে ১৩-১৫ বছরের মধ্যে এবং নারীতে ১২-১৩ বছরের মধ্যে আবির্ভূত হয়। এ সময় বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে দৈহিক গঠন ও চরিত্রে নানান বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়।

3
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews