পৃথিবী নিজ অক্ষে বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে যার সময়কাল ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। পৃথিবীর এ গতিকে আহ্নিক গতি বলে।
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে শুক্র গ্রহের অবস্থান দ্বিতীয় এবং এটি পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। পৃথিবীর মতো শুক্রের একটি বায়ুমণ্ডল আছে; কিন্তু এতে অক্সিজেন নেই। শুক্রের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় শতকরা ৯৬ ভাগ। গ্রহটিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন মেঘের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়।
চিত্র-১-এর 'ক' চিহ্নিত স্থানে তেজ কটাল ও মরা কটাল (অমাবস্যা তিথিতে) ধরনের জোয়ার সৃষ্টি হয়।
চন্দ্র ও সূর্য ভূপৃষ্ঠের জল ও স্থলভাগকে অবিরাম আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণের ফলে ভূপৃষ্ঠের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিদিন একস্থানে ফুলে ওঠে এবং অন্য জায়গায় নেমে যায়। এভাবে প্রত্যেক সাড়ে ১২ ঘণ্টায় সমুদ্রের পানি একবার নিয়মিতভাবে ওঠানামা করে। সমুদ্রের পানিরাশির নিয়মিতভাবে এই ফুলে ওঠাকে জোয়ার (High Tide or Flow) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি এবং পৃথিবীর ওপর চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার ভাটা হয়। জোয়ার ভাটাকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার, ভরা কটাল ও মরা কটাল। অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে অবস্থান করে। ফলে এ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে। উদ্দীপকের চিত্র-১-এ চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে অবস্থান করে এবং চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় তথা সমসূত্রে অবস্থান করে বলে এ সময় অমাবস্যা তিথির আবির্ভাব হয়। আর অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে চিত্র-১-এর 'ক' স্থানে প্রবল জোয়ারের উৎপত্তি হয়, যা তেজ কটাল বা ভরা কটাল নামে পরিচিত।
সুতরাং 'ক' চিহ্নিত স্থানে তেজ কটাল বা ভরা কটাল ধরনের জোয়ারের উৎপত্তি হয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশের উপকূলীয় জনজীবনে চিত্র-২ তথা পূর্ণিমা তিথিতে ভরা কটাল জোয়ারের প্রভাব রয়েছে।
পৃথিবীর স্থলভাগ, পানিরাশি ও মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। দৈনিক দুইবার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের নদী মোহনায় পলি সঞ্চিত হতে পারে না জোয়ার-ভাটার কারণে। ফলে নদীমুখ বন্ধ হতে পারে না। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের নদীর পাশে খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। জোয়ারের সময় উপকূলীয় অঞ্চলের নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে। যেমন- বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বড় জাহাজগুলো প্রবেশ করতে অথবা বের হয়ে যেতে পারে। ভাটা চলাকালীন সময়ে জাহাজগুলো জোয়ারের অপেক্ষায় নদীর মোহনায় নোঙর করা থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের সময়ে সমুদ্রের পানিকে আবদ্ধ করে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়। ভরা কটালের ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি উপকূলীয় জনজীবনে বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাবও আছে। ভরা কটালের সময় সমুদ্রের পানি কখনো প্রবল তরঙ্গে নদীর মোহনা দিয়ে স্থলভাগের মধ্যে প্রবেশ করে বানের বা বন্যার সৃষ্টি করে। এ বানের পানির উচ্চতা ৩/৪ ফুট থেকে প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। মেঘনা নদীতে এরূপ বান দেখা যায়। কখনো কখনো এই বানে নৌকা, স্টিমার, জাহাজসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
পরিশেষে আমি মনে করি, বাংলাদেশের উপকূলীয় জনজীবনে ভরা কটালের জোয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রভাবই ফেলে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে মেরুরেখা বলে।
সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যা সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক। ৫৫% হাইড্রোজেন, ৪৪% হিলিয়াম এবং ১% অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে সূর্য গঠিত। আর এ সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে। সূর্যের অন্যান্য অংশের চেয়ে সৌরকলঙ্কের উত্তাপ কিছুটা কম থাকে।
দেওয়া আছে
A' চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা A' চিহ্নিত স্থানের পূর্বে B' স্থানটি অবস্থিত হওয়ায় 'B' স্থানের স্থানীয় সময় ' A' চিহ্নিত স্থানের স্থানীয় সময় থেকে বেশি হবে।
অর্থাৎ, ৭টা + ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট = ১০টা ১৬ মিনিট
সুতরাং 'B' স্থানটির স্থানীয় সময় হবে ১০: ১৬ মিনিট
না, উক্ত তারিখে অর্থাৎ ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবারাত্রির দৈর্ঘ্য একইরূপ হবে না।
ছকে 'A' ও 'B' স্থান দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থিত। 'A' স্থানটি ৩০০ উত্তর অক্ষরেখা বরাবর এবং 'B' স্থানটি ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় অবস্থিত। দুটি স্থান দুই গোলার্ধে হওয়ায় ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য ভিন্ন রকম হবে। অর্থাৎ 'A' স্থানে দিন বড় এবং রাত ছোট হবে। পক্ষান্তরে, 'B' স্থানে দিন ছোট ও রাত বড় হবে। ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের শেষ দিন। এদিন সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। লম্বরশ্মি অধিক তাপ দেয়। তাছাড়া সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক স্থান জুড়ে এবং অধিক সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে ঐ দিনের পূর্বেকার দেড় মাস এবং পরবর্তী দেড় মাস মোট তিন মাস সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক তাপ ও আলো দেয় বলে ঐ সময়কালে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়। এ কারণে ২২ জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয় এবং রাত ছোট হয়। পক্ষান্তরে, ২২ জুনে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অল্প সময় এবং অল্প স্থানব্যাপী আলো দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে তাপ ও আলো কম পায়। এ কারণে ২২ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'A' ও 'B' দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থানের কারণে দিবা-রাত্রির মধ্যে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে। উত্তর গোলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছোট। পক্ষান্তরে, দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনকে সৌরদিন বলে।
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। এভাবে দেখা যায়, প্রতি ৪ বছর পর পর একটি বাড়তি দিন থাকছে। এই বাড়তি দিন প্রতি ৪র্থ বছরে যোগ হয়ে ৩৬৬ দিন হয়। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনে হয়। এরূপ বছরকে অধিবর্ষ বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!