ল্যাকটিয়াল হলো কৌশিক লসিকা নালি যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিত্তিতে চর্বি শোষণ করে।
লসিকার মাধ্যমে প্রতিটি কোষে খাদ্যরস ও অক্সিজেন পৌঁছায়। অন্তঃকোষীয় উন্মুক্ত স্থান থেকে অধিকাংশ প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। যেসব লিপিড কণা রক্তের কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে না, সেগুলো লসিকা পরিবাহিত করে।
এছাড়া লসিকা প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারি অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
উদ্দীপকের চিত্রে A অংশ দ্বারা মধ্যকর্ণকে নির্দেশ করা হয়েছে। মধ্যকর্ণে ওটিটিস মিডিয়া নামক রোগটি হয়। নিচে এ. কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার উল্লেখ করা হলো-
কারণ: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণে এই রোগটি হয়ে থাকে। যদি কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক গলবিলে অবস্থান করে তখন এসব জীবাণু ইউস্টেশিয়ান নালির মাধ্যমে মধ্যকর্ণে প্রবেশ করে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
লক্ষণ:
১. কানে ব্যথা ও জোরে কান টানা।
২. ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা।
৩. ১০৪ °F এর বেশি তাপসহ জ্বর।
৪. প্রচন্ড মাথাব্যথা ও ক্ষুধামন্দা হওয়া।
৫. কাশি ও নাক দিয়ে পানি ঝরা।
৬. কান ব্যথা ও কানে চাপ অনুভব করা।
৭. কান ভোঁ ভোঁ করা বা গুণ-গুণ ধ্বনি শোনা।
প্রতিকার:
১. আক্রান্ত কানে নরম ও উষ্ণ কাপড় দিয়ে চাপ দিলে ব্যথা কমতে পারে।
২. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রপ ব্যবহার, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
৩. ঘন ঘন এ রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা টিমপেনোস্টোমি টিউব নামে রিশেষ নালির সাহায্যে চিকিৎসা দেন, এতে অল্প দিনের মধ্যেই ঘন ঘন পুঁজ বের হওয়া প্রায় 'বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্দীপকের ৪ চিহ্নিত অংশ দুইটি হলো অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস। এরা যথাক্রমে দেহের ভারসাম্য ও শ্রবণ এই দুটি আলাদা কাজের জন্য দায়ী। ইউট্রিকুলাসের ম্যাকুলাতে সংবেদী রোম এবং অটোলিথ নামক ক্যালসিয়াম কার্বনেট গঠিত চুনময় দানা থাকে। যদি মাথা কোনো একদিকে কাত হয়ে যায়, তবে অটোলিথসমূহ ম্যাকুলার রোমগুলোকে উত্তেজিত করে। তাছাড়া অটোলিথবিশিষ্ট এন্ডোলিম্ফ অর্ধবৃত্তাকার নালি তিনটিতেও প্রবেশ করে এবং তাদেরকে উত্তেজিত করে। ফলে রোমগুলো ঐ বিশেষ দিকে বাঁকায়। এর ফলে এক প্রকার উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় যা যথাক্রমে ভেস্টিবুলার স্নায়ু ও অডিটরি বা শ্রবণ স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তখন মস্তিষ্কের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পেশির সংকোচনের দ্বারা দেহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এভাবে দেহের ভারসাম্য রক্ষা হয়।
স্যাকুলাস শুনতে সাহায্য করে। পিনার সংগৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। কাঁপনে, মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের কক্লিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে কলিয়ার অর্গান অব কটির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়।
এভাবেই, অন্তকর্ণের ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allদর্শনীয় বস্তু ও লেন্সের মধ্যকার দূরত্বের পরিবর্তন না করে যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে সমান স্পষ্ট দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে তাই উপযোজন।
অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত মানবদেহের সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা অনেক। এসব হরমোন দেহের অন্যান্য অনেক হরমোন নিঃস্রাবী গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটি মানব অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস। নিচে ইউট্রিকুলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
ইউট্রিকুলাসের সাথে দুটি উল্লম্ব ও একটি আনুভূমিকভাবে অবস্থিত মোট তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। নালিগুলো পরস্পর সমকোণে অবস্থিত। প্রত্যেকটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে যার মধ্যে সংবেদী কোষ ও রোম থাকে। রোমগুলো চুনময় ওটোলিথ দানা সম্বলিত জেলির মতো ক্যুপুলায় আবৃত। মানুষের অন্তঃকর্ণ অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ -এ পরিবেষ্টিত যা পেরিলিম্ফপূর্ণ থাকে। আর এর অভ্যন্তরে থাকে এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পদার্থ।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো মানব কর্ণ যা একই সাথে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। নিচে শ্রবণে মানব কর্ণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
বহিঃকর্ণ বা পিনায় সংগৃহীত শব্দ তরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। এই কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার, পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়। শব্দের বিভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করার জন্য ককলিয়ার স্ক্যালা মিডিয়ায় বিশেষ বিশেষ স্থান রয়েছে। যেমন- শব্দের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করে ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা সংলগ্ন অংশ, মধ্যম মাত্রা গ্রহণ করে মাঝামাঝি অংশ এবং নিম্নমাত্রা গ্রহণ করে শীর্ষের কাছাকাছি অংশ।
এভাবেই মানব কর্ণের অন্তর্গঠনের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমিকভাবে শ্রবণে ভূমিকা পালন করে।
অক্ষিগোলকের যে বিন্দুতে অ্যাক্সনগুলো মিলিত হয়ে অপটিক স্নায়ু গঠন করে, সেই আলোক অসংবেদী বিন্দুই হলো অন্ধবিন্দু।
দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন হয় তাকে উপযোজন বলে। মানুষ দুচোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে, লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করে এবং পিউপিলের সংকোচন প্রসারণ ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে। চোখের আইরিশ, সিলিয়ারী পেশি, সাসপেনসরি লিগামেন্ট ও লেন্স সক্রিয়ভাবে উপযোজনে অংশগ্রহণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
