মোট উপযোগ যখন সর্বোচ্চ হয়ে কমতে থাকে তখন প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হয়।
মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলে। আর উপযোগ হলো কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতা
কোনো দ্রব্য ভোগের মাধ্যমে আমরা তার উপযোগ নিঃশেষ করি। অন্যদিকে, দ্রব্যটি ভোগ করে যতটুকু তৃপ্তি লাভ করি তাই হলো ঐ দ্রব্যের উপযোগ। এটি একটি মানসিক ধারণা।
নিচে উদ্দীপকের আলোকে মোট উপযোগ (TU) ও প্রান্তিক উপযোগ (MU) এর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হলো-
সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যোর বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগের সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে। আর প্রান্তিক উপযোগ হলো অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য ভোগ থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত উপযোগ। মোট উপযোগ ভোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পেলে সর্বোচ্চ হওয়ার পর তা হ্রাস পেতে থাকে। অন্যদিকে, প্রান্তিক উপযোগ হ্রাস পেয়ে শূন্য হওয়ায় পর তা ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রথমে (TU) ও (MU) উভয়ই বাড়ে। OQ, পরিমাণ ভোগে MU সর্বোচ্চ হয় এবং এরপর থেকে MU কমতে থাকে। আবার, OQ, পরিমাণ ভোগের ক্ষেত্রে TU সর্বোচ্চ হয় এবং MU শূন্য হয়। এরপর ভোগ আরো বৃদ্ধি করলে MU ঋণাত্মক হয় এবং TU কমতে থাকে। অর্থাৎ, প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হলে TU কমতে থাকে।
যুক্তিশীল ভোক্তার ভোগের ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি কার্যকর থাকে। আর এ বিধি অনুসারে মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হলে প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হবে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।
ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি অনুসারে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করে, তার কাছে ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত কমতে থাকে। আর পূর্ববর্তী এককগুলো হতে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ যোগ করেই মোট উপযোগ পাওয়া যায়। তাই মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হলে প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়ে থাকে। কেননা প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মোট উপযোগ অল্প হলেও বাড়তে থাকে।
TU ও MU এর মধ্যকার সম্পর্ক সূচি:
দ্রব্য ভোগের পরিমাণ (Q) | মোট টাকা (TU) | প্রান্তিক উপযোগ (MU) |
০ | ০ | ০ |
১ | ২ | ২ |
২ | ৬ | ৪ |
৩ = OQ | ১২ | ৬ |
8 | ১৬ | ৪ |
৫ | ১৮ | ২ |
৬ = OQ | ১৮ | ০ |
৭ | ১৬ | -২ |
উদ্দীপকে প্রদর্শিক চিত্র হতে উপরের কাল্পনিক সূচিতে লক্ষ করা যায়, ভোগের পরিমাণ OQ, বা ৩ এককের পর TU ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধির কারণে MU কমতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা শূন্য হয়। অর্থাৎ OQ, বা ৬ একক ভোগে MU শূন্য হয়, যখন TU সর্বোচ্চ (১৮ একক) হয়। তাই পরিশেষে বলা যায়, মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হলে প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হবে।
এ অধ্যায়ে ধনতান্ত্রিক বা বাজারব্যবস্থার অধীনে উপযোগ, ভোগ, মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ, ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি, চাহিদা, যোগান, বাজার চাহিদা, বাজার যোগান রেখা ও ভারসাম্য দাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।
এই অধ্যায় পাঠশেষে আমরা-
উপযোগের ধারণা বর্ণনা করতে পারব
উপযোগ, ভোগ ও ভোক্তার মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারব
মোট উপযোগ যে প্রান্তিক উপযোগের সমষ্টি তা প্রমাণ করতে পারব
ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি চিত্র সহকারে ব্যাখ্যা করতে পারব
দাম ও চাহিদার পরিমাণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
দাম ও যোগানের পরিমাণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয় করতে পারব ।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের অভাব পূরণ করার ক্ষমতাকে উপযোগ বলে
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্যের ভোগ বাড়লে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ার সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে। মোট উপযোগ হলো একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টি। আর, অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য ভোগ করে যে অতিরিক্ত তৃপ্তি পাওয়া যায় তাই প্রান্তিক উপযোগ। যেমন- টিপু ৩টি পেয়ারা ভোগ করে যথাক্রমে ৬, ৪ ও ৩ টাকা সমান উপযোগ পায়। এক্ষেত্রে তার মোট উপযোগ হবে (৬+ ৪+৩) = ১৩ টাকার সমান, এবং প্রান্তিক উপযোগ হবে যথাক্রমে ৬, ২ ও ১ টাকা।
X' দ্রব্যের চাহিদা সূচি থেকে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো

প্রদত্ত রেখাচিত্রে ভূমি (OX) অক্ষে চাহিদার পরিমাণ এবং লম্ব (OY) অক্ষে দাম পরিমাপ করা হয়েছে। চাহিদা সূচি অনুযায়ী 'X' দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ২০ টাকা, ১৫ টাকা ও ১০ টাকা হলে তার চাহিদা হয় যথাক্রমে ৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত), ১০ কুইন্টাল (বিন্দু ৮ দ্বারা নির্দেশিত) এবং ১৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত)। এখন দাম ও চাহিদার পরিমাণ নির্দেশক ৮৩ কিন্দুগুলো যোগ করে DID, রেখাটি পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে অঙ্কিত 'ক' ব্যপ্তির চাহিদা রেখা। দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখাটি বামদিক থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়েছে।
ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাষিদার পরিমাণ যোগ করে 'X' দ্রব্যের বাজার চাহিদা পাওয়া যায়। নিম্নে বাজার চাহিদার সাথে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা তুলনা করা হলো-
প্রতি একক দ্রব্যের দাম (টাকায় | ক' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q) (কুইন্টাল) | 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q: (কুইন্টাল | বাজার চাহিদার পরিমাণ ০-০ (কুইন্টাল) |
২০ | ৫ | ৭ | ১২ |
১৫ | ১০ | ১১ | ২১ |
১০ | ১৫ | ১৫ | ৩০ |
প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে X দ্রব্যের বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে OX অক্ষে দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ এবং OY অক্ষে দ্রব্যের দাম নির্দেশ করা হয়েছে। D,D, হলো 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা এবং D,D, হলো 'খ' ব্যক্তির চাহিদা রেখা। 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ যোগ করে বাজার চাহিদা পাওয়া যায়, যা D'D' রেখা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদার সাহায্যে বাজার চাহিদা পাওয়া গেলেও উভয় চাহিদা রেখার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা কেবল একজন ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ নির্দেশ করে। অন্যদিকে বাজার চাহিদা বাজারে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিগত পরিমাণকে প্রকাশ করে, তাই বাজার চাহিদার পরিমাণ ব্যক্তিগত চাহিদার পরিমাণ থেকে সবসময় বেশি হয়। আবার, বাজার চাহিদা রেখা এবং ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা উভয়ই বামদিক থেকে ডানদিকে, নিম্নগামী হলেও বাজার চাহিদার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এ রেখাটি অপেক্ষাকৃত কম ঢাল বিশিষ্ট হয়।
ক্রেতার যে আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকে, অর্থনীতিতে তাকে চাহিদা বলে।
কোনো দ্রব্যের দামের সাথে তার চাহিদার পরিমাণের বিপরীত সম্পর্ক যে বিধির সাহায্যে প্রকাশ করা হয় তাকে চাহিদা বিধি বলে।
ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাস, ক্রেতার সংখ্যা, বিকল্প দ্রব্যের দাম অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে। যেমন- কোনো দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ১০ টাকা হলে, একজন ভোক্তা ৪ একক দ্রব্য ক্রয় করে। দাম কমে ৮ টাকা এবং ৬ টাকা হলে চাহিদা বেড়ে যথাক্রমে ৬, ৮ একক হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের সাথে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!