বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম বান্দরবানের তাজিনডং বা বিজয় (উচ্চতা ১,২৩১ মিটার)।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির মধ্যে প্লাইস্টোসিনকালের সোপান এলাকা অন্যতম।
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি (রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর), মধ্যভাগের মধুপুর (টাঙ্গাইল) ও ভাওয়ালের গড় (গাজীপুর) এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের সোপানের অন্তর্ভূক্ত। আজ থেকে প্রায় ৫ লাখ বছর পূর্বে এসব ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়েছে।
মানচিত্রের 'P' চিহ্নিত স্থানটি সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। অসংখ্য ছোট-বড় নদী বাংলাদেশের উপর জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। এ বন্যার সাথে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ সমভূমি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'p' স্থানটি হলো স্রোতজ সমভূমি, যা সমুদ্র সমতলে অবস্থিত। অঞ্চলটি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা নিয়ে গঠিত। এ অঞ্চলটি নদীবাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত হয়েছে। এ অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে জলাভূমি ও নিম্নভূমি এবং অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ছড়িয়ে রয়েছে।
মানচিত্রে 'Q' এবং 'R' অঞ্চল দুটি যথাক্রমে বরেন্দ্রভূমি এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। উক্ত স্থান দুটির মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই।
'R' চিহ্নিত স্থানটি বরেন্দ্রভূমি, যা প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভূক্ত। বরেন্দ্রভূমি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর) প্রায় ৯,৩২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এসব স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।
'Q' চিহ্নিত স্থানটি উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে নির্দেশ করে। এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ যুগে হিমালয়
পর্বত গঠিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এখানকার পাহাড়সমূহের অধিকাংশই সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে এবং মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের দক্ষিণে অবস্থিত। এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের কম। স্থানীয়ভাবে এগুলো টিলা নামে পরিচিত।
সুতরাং, উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, 'Q' ও 'R' চিহ্নিত স্থান দুটির মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মধ্যভাগ দিরে অতিক্রম করেছে। এখানকার বিভিন্ন ধরনের ভূপ্রকৃতি, অনেক নদ-নদী, বঙ্গোপসাগরের অবস্থান এবং ঋতুভিত্তিক পরিবর্তিত জলবায়ু নানান বৈচিত্র্য আনয়ন করেছে।
বাংলাদেশের অবস্থানঃ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশ ২০° ৩৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ১২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
আয়তন (Area) : বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমানা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডে ১০,০৪১.২৫ একর জমি যোগ হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৯৯৬-৯৭ সালের তথ্য অনুসারে দেখা যায়, বাংলাদেশের নদী অঞ্চলের আয়তন ৯,৪০৫ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চলের আয়তন ২১,৬৫৭ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে উপকূল অঞ্চলে বিশাল এলাকা ক্রমান্বয়ে জেগে উঠেছে। ভবিষ্যতে দক্ষিণ অংশের প্রসার ঘটলে বাংলাদেশের আয়তন আরও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল, অর্থনৈতিক একান্ত অঞ্চল ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং সামুদ্রিক মালিকানা মহীসোপানের শেষ সীমানা পর্যন্ত ।
| মিয়ানমার ও ভারতের দাবিকৃত সমদূরত্ব পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ১৩০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তাতে বাংলাদেশ পেত ৫০,০০০ বর্গকিলোমিটারের কম জলসীমা। বঙ্গোপসাগরের জলসীমা নির্ধারণ ও সমুদ্র | সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে মিয়ানমারের বিপক্ষে জার্মানির হামবুর্গে | অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে এবং ভারতের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত সালিশ ট্রাইব্যুনালে মামলা | দায়ের করে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গত ১৪ই মার্চ, ২০১২ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের ন্যায্যভিত্তিক দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক রায় পায়। এ রায়ের ফলে বাংলাদেশ প্রায় এক লক্ষ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জলসীমা পেয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপকে উপকূলীয় বেজলাইন ধরে ১২ নটিক্যাল মাইল রাষ্ট্রাধীন | সমুদ্র এলাকা (Territorial sea) এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone) পেয়েছে। প্রাপ্ত এই জলরাশি ও তলদেশে এবং তার বাইরে মহীসোপান এলাকার সকল খনিজ সম্পদে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এই হিসেবে উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরের তলদেশে বাংলাদেশের মহীসোপান রয়েছে (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)। অর্থাৎ বাংলাদেশের | উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার ভৌগোলিক নাম মহীসোপান । |
সীমা : বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার (চিত্র ১০.১)। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণ- পূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।
কাজ : নিচের ছকটি জোড়া দলে পূরণ কর।
|
বাংলাদেশের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাগত অবস্থান কত? |
বাংলাদেশের আয়তন কত? |
অর্থনৈতিক একান্ত অঞ্চলের ব্যাপ্তি কত? |
টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমার ব্যাপ্তি কত? | বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সঙ্গে মালিকানা বাংলাদেশের তটরেখার দৈর্ঘ্য কত? |
সামুদ্রিক মালিকানা মহীসোপানের কোন অংশ পর্যন্ত |
|
|
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!