মৌসুমি শব্দটি আরবি 'মওসুম' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হলো ঋতু।
নিরক্ষরেখার উভয় দিকে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় জলবায়ু দেখা যায়।
নিরক্ষীয় জলবায়ুর আঞ্চলিক অবস্থান হলো দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান নদীর অববাহিকা, ব্রাজিলের উত্তরাংশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, গায়ানার উপকূলভাগ, ভেনেজুয়েলার অংশবিশেষ ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাংশ, পেরুর উত্তরাংশ এবং ইকুয়েডর, মালয়েশিয়া, আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জসমূহ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত স্থান মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল বলে। মৌসুমি জলবায়ুর প্রকৃতি হলো আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়। মৌসুমি জলবায়ু থেকে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দেখা যায়। পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার অধিকাংশ স্থান ও দক্ষিণ চীন ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত। তাছাড়া মাদাগাস্কার দ্বীপ, পূর্ব আফ্রিকার উপকূল অঞ্চল, ক্যারিবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, ব্রাজিলের পূর্বাংশ পশ্চিম ও পশ্চিম-পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের কিয়দংশ, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ও মাঞ্চুরিয়ার অংশবিশেষে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব লক্ষ করা যায়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ ধরনের জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং উদ্দীপকে চিহ্নিত স্থান মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে চিহ্নিত স্থানে মৌসুমি জলবায়ু পরিলক্ষিত হয় বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত বলে এখানকার জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। উল্লিখিত দুটি স্থানের জলবায়ুর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো- মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতি পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মকালে জলভাগ হতে স্থলভাগের দিকে এবং শীতকালে স্থলভাগের দিক হতে জলভাগের দিকে এ বায়ু প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল বৃষ্টিহীন থাকে। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২৭০ সেলসিয়াসের বেশি থাকে। এ জলবায়ু অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫ থেকে ২০৩ সে.মি. পর্যন্ত দেখা যায়।
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সে. এবং সর্বনিম্ন সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলো যথাক্রমে ৪১° সে. ও ২১° সে.। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর গতিবেগ ১২০ কি. মি. এরও বেশি হতে পারে।
সুতরাং বলা যায় যে, উভয় অঞ্চলেই মৌসুমি জলবায়ু বিরাজ করলেও তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ ভিন্ন হওয়ায় উল্লিখিত স্থান দুটিতে জলবায়ুর মধ্যে কিছুটা বৈসাদৃশ্যতা লক্ষ্য করা যায়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে অধিক তাপ থাকে। এই অধিক তাপই জলীয়বাষ্প তৈরির মাধ্যমে সারাবছরই অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়। যেকোনো অঞ্চলে বৃক্ষ বেড়ে ওঠার জন্য তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। সারাবছর এরূপ বৃষ্টিপাত ও তাপের জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে তৌকিরের গমনকৃত অঞ্চলটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে মূলত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহের জন্য।
শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় মহাদেশীয় ভূভাগের পশ্চিম প্রান্তে হতে ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী স্থানে যে জলবায়ু দেখা যায় তাকে পশ্চিম উপকূলবর্তী উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বলে। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশসমূহে এ শ্রেণির জলবায়ু দেখা যায়। এ কারণে এ জলবায়ুকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মৃদুভাবাপন্ন শীত ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত হওয়ার কারণে তাপের তেমন প্রখরতা অনুভূত হয় না। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল পরিলক্ষিত হয়। এ অঞ্চলে তৃণভূমির পরিমাণ কম। উদ্দীপকে তৌকিরের গমনকৃত দেশটিতে সারাবছর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে এবং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় তা ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য।
তৌকিরের নিজের দেশটি মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত এবং গমনকৃত দেশটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। অবস্থানগত কারণে এ দুই দেশের জলবায়ু ভিন্ন প্রকৃতির। নিচে মৌসুমি ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর পার্থক্য তুলে ধরা হলো।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা থেকে সেলসিয়াস এবং শীতকালীন তাপমাত্রা -সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে জুন-জুলাই মাসে সূর্য কর্কটক্রান্তির নিকটবর্তী হয় তখন চাপবলয়গুলো উত্তর দিকে সরে যায়। এ অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে শীতকাল আর্দ্র এবং গ্রীষ্মকাল শুষ্ক হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, মৌসুমি অঞ্চলে সারাবছর তাপমাত্রার পরিমাণ বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা সেলসিয়াসের বেশি থাকে। শীতকালীন তাপমাত্রা সেল সিয়াস থেকে সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এ অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ুপ্রবাহের গতি ও দিক পরিবর্তন হয় এবং বায়ুর চাপেরও বৈষম্য হয়। এ অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ১২৫ থেকে ২০৩ সেমি পর্যন্ত দেখা যায়। এ অঞ্চলে জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণত বর্ষাকালে ও গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।
সুতরাং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু এবং মৌসুমি অঞ্চলের জলবায়ু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
মৌসুমি প্রবাহিত ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে।
মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন শিল্প-কারখানা স্থাপন, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, ফ্রিজ ও এসি ব্যবহার ইত্যাদির কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার প্রাকৃতিক বিভিন্ন গ্যাস যেমন- কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন গ্যাস ইত্যাদির কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপর নেতিবাচক চাপ পড়ছে যা সরাসরি বৈশ্বয়িক উষ্ণায়ন সৃষ্টি করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
