পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে স্তরে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি অধিকাংশ শোষণ করে তাই ওজোন স্তর।
সৃষ্টির শুরুতে মানুষ প্রকৃতির ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। জীবন ধারণের জন্য প্রকৃতি থেকেই সে সবকিছু সংগ্রহ করেছে। ঘরবাড়ি তৈরিতে প্রকৃতি থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান নির্বাচন করেছে। মাটিকেই সে উৎপাদকের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। পানিকে কাজে লাগিয়ে যাতায়াত সহজ করে তুলেছে। এভাবে মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে তাদের জীবনযাত্রা অতিবাহিত করত।
দৃশ্যকল্প ১-এ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর কিছু প্রভাবকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- কারখানার কালো ধোঁয়া, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার, প্রচুর যানবাহনের ব্যবহার ইত্যাদি। এগুলোর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ সমস্যাটি ফুটে উঠেছে।
কারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করছে। এছাড়া কারখানাগুলো হতে যে বর্জ্য পদার্থ নদীতে এসে পড়ছে, তা পানিকে ব্যাপকভাবে দূষিত করছে। প্রচুর যানবাহনের ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আবহাওয়া ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। ফলে খরা, ঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমি দৃশ্যকল্প ২-এর কাজগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। যেমন- প্রচুর গাছ লাগানো ও যত্ন নেওয়া, নদী, খাল ও ডোবাগুলোর পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং লোকালয় থেকে দূরে কারখানা স্থাপন করা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অক্সিজেনের অফুরন্ত উৎস হচ্ছে গাছপালা। তাই আমাদের রাস্তার পাশে, বাড়ির আশপাশে প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগাতে হবে। নদী, খাল ও ডোবাগুলোর পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে তা ভরাট হয়ে যায়। ফলে বর্ষার মৌসুমে এসব স্থান পানি ধরে রাখতে পারে না। এ কারণে বন্যা দেখা দেয়। এছাড়া লোকালয় থেকে দূরে কারখানা স্থাপন করতে হবে। কারণ কারখানার নির্গত ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস আর যে বর্জ্য বেরিয়ে আসে তা পানি ও বায়ুকে দূষিত করে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত
মানুষ নিজস্ব পরিবেশে বাস করে। পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয়। সভ্যতার ধারাবাহিক পরিবর্তনে পরিবেশ ও মানুষের সম্পর্কের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। পরিবেশও ভারসাম্য হারাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে আমাদের পরিবেশগত সমস্যার প্রতিরোধে অনেক কিছু করণীয় আছে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- পরিবেশের সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরিবেশগত সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরিবেশগত সমস্যার প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- পরিবেশগত সমস্যার উপর প্রতিবেদন তৈরি করতে পারব;
- পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হব।
Related Question
View Allআলো ও তাপের প্রধান উৎস হলো সূর্য।
মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। বুদ্ধি খাটিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করছে। পানির শক্তি কাজে লাগিয়ে বড় বড় কলকারখানা চালাচ্ছে, শহর গড়ছে, গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চালাচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বানিয়ে নিজেদের আরাম বাড়িয়েছে। এভাবে ক্রমেই মানুষ তার প্রয়োজনমতো প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বাড়িয়েছে।
চিত্রে পরিবেশগত সমস্যা তথা পরিবেশ দূষণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আমরা জীবনের জন্য পানি পান করি এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিই। এ দুটি উপাদান দূষিত হওয়ার কারণে মানুষ বিভিন্ন রোগবালাইয়ে ভুগছে এবং অকালে মৃত্যুবরণ করছে। ক্রমবর্ধমান মানুষের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়াতে হয়। যার ফলে গড়ে উঠেছে অনেক কলকারখানা। এসব কলকারখানার বেশির ভাগ গড়ে ওঠে নদীর উপকূলে। ফলে এর দূষিত বর্জ্য পানিতে মিশে নদীর পানি দূষিত করে। অপরদিকে কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এভাবে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন একটি দেশের পানি ও বায়ু দূষিত করে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ করছে। এতে কারখানার বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। দৃশ্যমান চিত্রে পানি ও বায়ু এ দুটি মৌলিক উপাদান দূষিত হচ্ছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ থেকে উত্তরণের জন্য আমার মতো অনেক শিশুর বেশকিছু করণীয় আছে বলে মনে করি।
পরিবেশ আমাদের সবার। তাই এর যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা হতে সচেতন হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন আমরা অযথা গাছ কাটব না। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করব না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলব না। বাড়ির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলব। কোনো জলাধারে নোংরা ফেলব না। গাছ লাগাব ও গাছের যত্ন নেব। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। মানুষের সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের কারণগুলো জানব ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হব। নিজের খাবার, পোশাক ও. অন্যান্য জিনিস নির্বাচন ও ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্যের কথা বিবেচনা করব। যেসব গাড়ি কালো ধোঁয়া ছাড়ে, সেগুলো বন্ধ করতে শিক্ষক ও বড়দের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেব।
অতএব বলা যায়, আমি বা আমার মতো শিশুর উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো নিজ অবস্থান হতে গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখব।
কমানুষ যখন থেকে চাষবাস করে স্থিতিবস্থায় এসেছে, তখন থেকেই প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা চালিয়েছে।
প্রকৃতির চারটি মূল উপাদান হলো- মাটি, পানি, বায়ু এবং আলো। মানুষ মাটিকে উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। মাটির উপর জম্মানো গাছপালা, পানি, বায়ু, তাপ ও আলোর সাহায্যে বেড়ে ওঠে। পানি, বাতাস ও তাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়। অতএব বলা যায়, প্রকৃতির মূল উপাদানসমূহ মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!