অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হওয়ার ফলে ভারতের কোনো কোনো স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে যে বৃষ্টিপাত হয় তাকে পশ্চিমবঙ্গে আশ্বিনা ঝড় বলে।
প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা বিধান এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা যায়। কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের চাহিদা ও যোগান বাড়ছে। পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। তৈরিকৃত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক জীবন অধিকমাত্রায় প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
প্রদত্ত চিত্রে A চিহ্নিত জায়গার ভূপ্রকৃতি হলো প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি।
আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। এই সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: বরেন্দ্র ভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। উদ্দীপকের এ অঞ্চলটি মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের অন্তর্ভুক্ত ভূপ্রকৃতি। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গ কিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার। এখানে মাটির রং লালচে ও ধূসর প্রকৃতির হয়ে থাকে।
দৃশ্যমান চিত্রে চিহ্নিত জলবায়ু তথা মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশে সারা বছরই থাকে।
বাংলাদেশে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব এত অধিক যে সামগ্রিকভাবে এ জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। এই মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব বাংলাদেশে সারা বছরই বিদ্যমান থাকে। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে এদেশে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য ঘটে। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এদেশে শীতকাল থাকে। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল থাকে। এ সময় এদেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে এক ধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও এ সময় বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিভিন্ন ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে জুন মাসের শেষ দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে সাথে বাংলাদেশে বর্ষাকাল শুরু হয়। জুন হতে
Related Question
View Allবাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
বস্তুত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশটিই বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত নদ-নদীর পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি। বাংলাদেশের ভূখণ্ড উত্তর হতে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশের নদনদী, উপনদী ও শাখানদীগুলো উত্তর দিক হতে দক্ষিণে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত অঞ্চলটি হচ্ছে প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি।
বাংলাদেশের মোট ভূমির ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। এ সময়ের আন্তঃবরফগলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মাটি ধূসর ও লালচে বর্ণের।
চিত্রের 'B' চিহ্নিত স্থানটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে নির্দেশ করায় এখানে ছোটবড় পাহাড়-পর্বত অধিক পরিলক্ষিত হবে এবং 'C' চিহ্নিত অঞ্চলটি সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বিধায় এখানে নদীনালাসহ অধিক ঘনবসতি পরিলক্ষিত হবে।
'B' স্থানটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ যা বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২% এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। আবার ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিওডংসহ ছোটবড় বেশকিছু টিলা জাতীয় পাহাড় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় হিসেবে আমাদের ভূখন্ডে শোভা পাচ্ছে। আর 'C' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। তবে এ সমভূমি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। সমতল ভূমির ওপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গ কিলোমিটার। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূষি খুবই উর্বর। ফলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। আর তাই সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে ঘনবসতি অধিক পরিলক্ষিত হবে এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি পাহাড় হচ্ছে চিকনাগুল।
কালবৈশাখি এক প্রকার ঝড়। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়ে যে ঝড়ের সৃষ্টি করে সে ঝড়কেই কালবৈশাখি ঝড় বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!