রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে 'নাইট' উপাধি বর্জন করেন।
স্বদেশী আন্দোলন শিক্ষা আন্দোলনে রূপ নেওয়ার কারণ শিক্ষা ক্ষেত্রে বয়কট কর্মসূচি যুক্ত হওয়া।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে বিলেতি শিক্ষা বর্জন করার কর্মসূচি গ্রহণ করে, ফলে দেশীয় শিক্ষাগ্রহণ আন্দোলনের সূচনা হয়। জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের ফলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপিত হয় এবং কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রও গড়ে ওঠে। স্বদেশী আন্দোলন ক্রমশই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিলেতি পণ্যের সাথে বিলেতি শিক্ষাও বর্জন করার কর্মসূচি গ্রহণ করে, ফলে দেশীয় পণ্য ভোগ ও দেশীয় শিক্ষা বিস্তার ঘটে।
চিত্রে 'A' ও 'B' চিহ্নিত অঞ্চল বিভক্তির প্রস্তাবটি ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির ইতিহাসে 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত।
১৯৩৯ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতিতত্ত্বের বাস্তব রূপ দেওয়ার পথনির্দেশ করে লাহোর প্রস্তাব। ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় বলে এটি ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত। এ অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এ কে ফজলুল হক ২৩শে মার্চের অধিবেশনে তার রচিত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এ দেশে কার্যকর হবে না, যদি এটি লাহোর প্রস্তাবের মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত না হয়। এ প্রস্তাবে বলা হয় ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভূ-ভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অঙ্গ রাষ্ট্রগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।
চিত্রে প্রদর্শিত 'A' ও 'B' অঞ্চল বিভক্তির প্রস্তাবটি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবকে নির্দেশ করে। এ প্রস্তাবের আলোকে ভারতবর্ষে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠিত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যা পরবর্তী সময়ে শুধুই পাকিস্তান প্রস্তাবে রূপান্তরিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রস্তাব তথা লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ ২৪ বছর বাংলাদেশ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শোষিত হতো না উক্তিটি যথার্থ।
১৯৪০ সালে গৃহীত হওয়া লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনাই এদেশে কার্যকর হবে না, যদি এটি লাহোর প্রস্তাবে উত্থাপিত মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত না হয়। এ প্রস্তাবের প্রধান ধারাগুলো ছিল- ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভূ-ভাগের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে। এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। মুসলমানরা লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল বাংলায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জিল্লাহ 'লাহোর প্রস্তাব' সংশোধনের নামে ভিন্ন একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এতে রাষ্ট্রসমূহের স্থলে একটি মাত্র রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। ফলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।
লাহোর প্রস্তাবে প্রদেশগুলোর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের কথা থাকলেও পাকিস্তান সৃষ্টির পরে পাকিস্তান পূর্ব বাংলাকে স্বায়ত্তশাসনও প্রদান করেনি। ফলে বাংলার জনসাধারণকে আবার অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি শোষন বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটলে বাঙালি দীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শোষিত হতো না।
Related Question
View Allমুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
স্বত্ববিলোপ নীতি লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার নীতি, যাতে দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না।
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না। তাছাড়া এ নীতির প্রয়োগ করে নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণটি ফুটে উঠেছে।
লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। উপমহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করত বাংলা প্রেসিডেন্সিতে । কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন এত বড় অঞ্চলকে একটিমাত্র প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংগত মনে করেন নি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
উদ্দীপকের সালেহপুর ইউনিয়ন আয়তনে অনেক বড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছিল। তাই এটিকে দুটি আলাদা ইউনিটে ভাগ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের কারণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণের ইঙ্গিত বহন করে। এটি ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরও কারণ ছিল বলে আমি মনে করি।
বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল আর্থ-সামাজিক। তৎকালীন সময়ে শিল্প- কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কোলকাতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। উন্নত সবকিছুই কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
লর্ড কার্জন ছিলেন রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সতর্ক। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল, যা তার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই কোলকাতাকেন্দ্রিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশদের Divide and rule policy (বিভেদ ও শাসন নীতি) প্রয়োগ করে ব্রিটিশ স্বার্থকে টিকিয়ে রাখাও বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু প্রশাসনিক কারণেই নয়, উল্লিখিত বিষয়গুলোও বঙ্গভঙ্গের জন্য দায়ী ছিল।
লর্ড ডালহৌসি দিল্লির মুঘল সম্রাটের পদ বিলুপ্ত করেন।
হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মাঝে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!