ভিটামিন হলো জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য এক ধরনের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান।
ভিটামিন প্রাণীর শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। ভিটামিনের অভাবে দেহে ক্ষয়পূরণ এবং বৃদ্ধিসাধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দেহের বিভিন্ন আবরণী কলাকে সজীব এবং সুস্থ রাখে ভিটামিন। ভিটামিন অস্থি, দাঁত, দাঁতের মাড়ির গঠন ঠিক রাখে। রোগ সংক্রমণ প্রতিহত করে ভিটামিন। স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাক, প্রজননসহ অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভিটামিন দ্বারা সম্পাদিত হয়।
উদ্দীপকের উপাদানটি হলো ভিটামিন। ভিটামিন হচ্ছে জৈব প্রকৃতির যৌগিক পদার্থ। ভিটামিন A, D, E ও K স্নেহ পদার্থে দ্রবণীয় এবং ভিটামিন B কমপ্লেক্স ও C পানিতে দ্রবণীয়। নিচে এদের অভাবজনিত রোগগুলোর তালিকা দেওয়া হলো-
ভিটামিন | অভাবজনিত রোগ |
i. ভিটামিন A | রাতকানা রোগ, জেরপথ্যালমিয়া রোগ, ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটি সৃষ্টি হওয়া। |
ii. ভিটামিন D | শিশুদের রিকেটস রোগ। |
iii. ভিটামিন E | জরায়ুর মধ্যে ভূনের মৃত্যু হওয়া, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব |
iv. ভিটামিন K | রক্ত জমাট না বাঁধা এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া। |
V. ভিটামিন B কমপ্লেক্স | বেরিবেরি রোগ, স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ওজনহীনতা, ঠোটের দু পাশে ফাটল সৃষ্টি, মুখে ও জিভে ঘা হওয়া, পেলেগ্রা রোগ, খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যানিমিয়া, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি হওয়া। |
vi. ভিটামিন C | স্কার্ভি রোগ, ত্বকে ঘা হওয়া, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, দাঁতের মাড়ি ফুলে ইনামেল উঠে যাওয়া ইত্যাদি। |
উদ্দীপকে উল্লিখিত Q দ্বারা ভিটামিন C কে বোঝানো হয়েছে। ভিটামিন C মানবদেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন-
i. ত্বক, হাড়, দাঁত ইত্যাদির কোষসমূহের পরস্পরের সাথে জোড়া লাগিয়ে মজবুত গাঁথুনি প্রদান করে।
ii. শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনের কাজে প্রয়োজন হয়।
iii. দাঁত ও মাড়ি শক্ত রাখে।
iv. স্নেহ, আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকে ভিটামিন C গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
v. ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে।
vi. রোগ প্রতিরোধ করে।
খাদ্য ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। দেহের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, দেহের টিস্যুগুলোর ক্ষতি পূরণ কিংবা শক্তি উৎপাদন-এ ধরনের কাজের জন্য নিয়মিতভাবে আমাদের বিশেষ কয়েক ধরনের খাদ্যের প্রয়োজন হয়। আমাদের স্বাস্থ্য বহুলাংশে নির্ভর করে, যে খাদ্য আমরা খাই তার গুণগত মানের ওপর। খাদ্য আমাদের চেহারার, কাজকর্মে, আচরণে ও জীবনের মানে পার্থক্য ঘটাতে পারে। শ্বসন ক্রিয়ার সময় খাদ্যের ভেতরকার রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তি হিসেবে যুক্ত হয়ে জীবদেহের জৈবিক ক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যেকটা জীব তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনমতো এবং পরিমাণমতো গ্রহণ করে। প্রতিটি খাদ্যই আসলে এক ধরনের জটিল রাসায়নিক যৌগ। এই জটিল খাদ্যগুলো বিভিন্ন উৎসেচকের সাহায্যে আমাদের পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে ভেঙে সরল খাদ্যে পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে পরিপাক বলে। পরিপাক হওয়া খাদ্য শোষিত হয়ে দেহকোষের প্রোটোপ্লাজমে সংযোজিত হয়, যাকে আস্তীকরণ বলে। পরিপাকের পর অপাচ্য খাদ্য বিশেষ প্রক্রিয়ার দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায়।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
- খাদ্য উপাদান ও আদর্শ খাদ্য পিরামিড ব্যাখ্যা করতে পারব।
- খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- স্বাস্থ্য রক্ষার প্রাকৃতিক খাদ্য এবং ফাস্ট ফুডের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- ভিটামিনের উৎস এবং এর অভাবজনিত প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- খনিজ লবণের উৎস এবং এর অভাবজনিত প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের উপকারিতা বর্ণনা করতে পারব।
- বডি মাস ইনডেক্সের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- খাদ্যে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার এবং এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া বলতে পারব।
- শরীরে তামাক ও ড্রাগসের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- এইডস কী ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allকীভাবে ভর সূচি বা BMI নির্ণয় করা হয়?
ভর সূচি নির্ণয়ের সূত্র হলো: ভর সূচি = ওজন (কেজি) / (উচ্চতা (মি) x উচ্চতা (মি))।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির ওজন ৭০ কেজি এবং উচ্চতা ১.৭৫ মিটার হয়, তাহলে তার ভর সূচি হবে: ভর সূচি = ৭০ / (১.৭৫ x ১.৭৫) = ৭০ / ৩.০৬২৫ ≈ ২২.৮৬।
ভর সূচির ব্যবহার
প্রাপ্ত ভর সূচির মান ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর ওজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সাধারণত এই মান ব্যবহার করে ওজন-সম্পর্কিত রোগ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে থাকে।
জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ' এর অভাব জনিত একটি রোগ। জেরোফথ্যালমিয়ায়, বিটোটের দাগগুলি কনজাংটিভাল জেরোসিসের পরে দেখা দেয়। ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরােফথ্যালমিয়া নামক রােগ হয়। যখন ভিটামিন এ-এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়,তখন চোখের কর্নিয়ায় আলসার সৃষ্টি হয় সে অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া বলে।
ফল, শাকসবজি, শস্যদানা ইত্যাদি উপস্থিত সেলুলোজ নির্মিত আঁশ বা তন্তুর ন্যায় অপাচ্য অংশই হলো রাফেজ।
খাদ্যপ্রাণ বলতে সাধারণত জীবিত প্রাণী বোঝায়। অর্থাৎ, যে সকল প্রাণী খাদ্য গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায়, প্রজনন করে এবং পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে খাদ্যপ্রাণ বলা হয়।
খাদ্যপ্রাণের কিছু উদাহরণ:
- মানুষ: আমরা খাদ্য গ্রহণ করে শক্তি পাই এবং বেঁচে থাকি।
- প্রাণী: সকল প্রাণী, যেমন সিংহ, হাতি, পাখি, মাছ ইত্যাদি।
- পোকামাকড়: মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি।
- উদ্ভিদ: উদ্ভিদ সূর্যের আলো, পানি এবং মাটি থেকে খাদ্য তৈরি করে।
খাদ্যপ্রাণের মূল বৈশিষ্ট্য:
- জীবন: খাদ্যপ্রাণের মধ্যে জীবনের উপস্থিতি থাকে।
- বৃদ্ধি: খাদ্য গ্রহণ করে খাদ্যপ্রাণ বৃদ্ধি পায়।
- প্রজনন: খাদ্যপ্রাণ নিজের প্রজাতির বংশ বিস্তার করে।
- পরিবেশের সাথে যোগাযোগ: খাদ্যপ্রাণ পরিবেশের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে।
খাদ্যপ্রাণের শ্রেণিবিন্যাস:
খাদ্যপ্রাণকে বিভিন্ন ভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। যেমন:
- খাদ্যের ধরনের উপর ভিত্তি করে: শাকসভী, মাংসাশী, সর্বভুক ইত্যাদি।
- বাসস্থানের উপর ভিত্তি করে: স্থলচর, জলচর, উড়ুচর ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!