রং হলো এক ধরনের জৈব ও অজৈব রসায়নিক পদার্থ যা আলোক রশ্মির দৃশ্যমান অঞ্চলের নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণকে শোষণ করে।
রাসায়নিক পদার্থসমূহ সরবরাহ বা সংরক্ষণ করতে হলে তার পায়ে লেবেলের সাহায্যে শ্রেণিভেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারী সহজেই ঐ চিহ্ন সম্বলিত পদার্থ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। এ ধরনের চিহ্নকে সাংকেতিক চিহ্ন বলা হয়। এ চিহ্নসমূহ পৃথিবীর সকল দেশে একইভাবে একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তাই এ চিহ্নগুলোকে সার্বজনীন সাংকেতিক চিহ্ন বলা হয়। এ চিহ্নগুলো ব্যবহারের ফলে কোনোরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত A হলো রসায়ন বিজ্ঞান এবং C হলো পদার্থ বিজ্ঞান। আধুনিকালে বিজ্ঞানের অবদান বলে খ্যাত বিদ্যুৎ, চুম্বক, কম্পিউটার ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স এর তত্ত্ব, উৎপাদন ও ব্যবহারের আলোচনা পদার্থ বিজ্ঞানে করা হয়। পদার্থের বিভিন্ন রাসায়নিক গুণাবলির সমন্বয় ঘটিয়েই এসব বস্তুর সৃষ্টি। এখানে উদাহরণস্বরূপ বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিতরণকে বিবেচনা করা যেতে পারে। তেল, গ্যাস, কয়লা পুড়িয়ে অর্থাৎ, রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে উৎপাদিত তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় এবং তা তারের ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে সররাহ করা হয়। কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স এর বিভিন্ন ক্ষুদ্রাংশগুলো যেমন-সিডি, মেমোরি ডিস্ক, মনিটর প্রত্যেকটির গুণাবলি বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক ধর্মের সমন্বয় ঘটিয়ে উক্ত বস্তুগুলো তৈরি করা হয়। অপরদিকে বলা হয়ে থাকে যে, প্রকৃতিতে যতটুকু অব্যবহৃত কপার মজুদ আছে, তার চেয়ে বেশি পরিমান তামা ইতিধ্যেই কম্পিউটার ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে তামার ব্যবহার হলে তা একসময় ফুরিয়ে যাবে। তাছাড়াও নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব যন্ত্রাংশ দিনে দিনে বাড়তে থাকবে এবং আমাদের পরিবেশকে ক্ষতি করবে। তাহলে কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স নষ্ট হয়ে গেলো, ঐ সব যন্ত্রাংশ থেকে তামা পুনরুদ্ধার করে তার পুনর্ব্যবহার করা জরুরী। সেটিও রসায়ন চর্চার মাধ্যমেই সম্ভব। অন্যদিকে, রসায়নের বিভিন্ন পরীক্ষণ যন্ত্র-নির্ভর। এসব যন্ত্রের মূলনীতি বা পরিক্ষণ মূলনীতি পদার্থ বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। উপরের আলোচনা থেকে এটা বুঝা গেলো যে, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরোস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
A এবং B হলো যথাক্রমে রসায়ন বিজ্ঞান ও গণিত। রসায়ন ও
গণিত হলো বিজ্ঞানের দুইটি ভিন্ন শাখা। তবে এদের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান ও তত্ত্বীয় ধারণা প্রভৃতির ক্ষেত্রে একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল। রসায়নের হিসাব-নিকাশ, সূত্র প্রদান ও গাণিতিক সম্পর্ক সবইতো গণিত। কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্স যা মূলত গাণিতিক হিসাব-নিকাশ এর সাহায্যে পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করে। তাছাড়া কোয়ান্টাম রসায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন অরবিটালের (যেমন, s, p, d, ) আকার-আকৃতি মূলত গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও গাণিতিক তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। রসায়নের বিভিন্ন চিত্র, গ্রাফ ও অংকন ইত্যাদির মূল ভিত্তি হলো জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতি। রসায়নের এটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো গাণিতিক রসায়ন যা মূলত গণিতের বিভিন্ন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাছাড়া উচ্চতর রসায়নের গবেষণার ক্ষেত্রে কম্পিউটার ভিত্তিক যে সব গবেষণা করা হয় তা মূলত গণিত তথা পরিসংখ্যানের সম্ভাবনার বিভিন্ন হাইপোথিসিস বা নীতির উপর নির্ভরশীল। আধুনিক রাসায়নিক গবেষণার বিভিন্ন উপাত্ত ব্যাখ্যা করার জন্য গণিতের বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়।
অতএব, রসায়ন ও গণিতের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
তোমরা যারা নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তারা রসায়ন বইটি হাতে পেয়েছো। বইটি হাতে পেয়ে কিছু প্রশ্ন তোমাদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে— রসায়ন বিষয়টি কী? কেনই-বা আমরা রসায়ন পড়ব? অর্থাৎ রসায়ন আমাদের কী কাজে লাগে? রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার কি কোনো সম্পর্ক আছে? এসব বিষয়ের উত্তর এ অধ্যায়টি পড়লে জানতে পারবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- রসায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
- রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলোর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- রসায়ন পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নে অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার বর্ণনা করতে পারব।
- বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমিত সিদ্ধান্ত গঠন ও পরীক্ষা করতে পারব।
- রসায়নে ব্যবহারিক কাজের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব।
- প্রকৃতি ও বাস্তব জীবনের ঘটনাবলি রসায়নের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করতে আগ্রহ প্রদর্শন করব।
Related Question
View Allপরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো কিছু জানার চেষ্টাই হলো গবেষণা।
কাঁচা অবস্থায় আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে। যেমন- অ্যাসকরবিক এসিড, সাইট্রিক, ম্যালিক, অক্সালিক এসিড। তাই কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কিন্তু আম যখন পাকে তখন আমে বিদ্যমান এই এসিডগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে (মিষ্টি) পরিণত হয়। ফলে পাকা আম হয় মিষ্টি।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ঔষধ সেবন করছে।
প্রতিটি ঔষধই কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়। যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তথা ওষুধ সেবন করি। যেমন: জ্বর হলে আমরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাই। প্যারাসিটামল একটি রাসায়নিক যৌগ, এর রাসায়নিক নাম acetaminophen বা, 4-হাইড্রোক্সি অ্যাসিট্যানিলাইড। এটি আমাদের পাকস্থলিতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করলে আমরা আইবুপ্রফেন খাই।
এ রাসায়নিক যৌগটি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
তাছাড়া আমরা কৃমিনাশক হিসেবে যে ওষুধ খাই, তাও রাসায়নিক যৌগ। এছাড়াও টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, কাশি, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ যত প্রকার অসুখ আছে, তার প্রত্যেকটির প্রতিষেধক হিসেবে আমরা যে ওষুধ সেবন করি, তা কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১ম চিত্রটি অর্থাৎ ওষুধ সেবন, রসায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে ওষুধ সেবন ও B নং চিত্রে সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর ছবি দেখানো হয়েছে। এই দুইটি ছবি পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিক্ষেতে পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে গ্যামাক্সিন (C6H6Cl6), ডিডিটি (D.D.T.), অ্যালড্রিন, ক্লোরডেন, ম্যালাথায়ন, প্যারাথায়ন অন্যতম। এগুলো যখন সবজি ক্ষেতে বিদ্যমান পোকা মাকড়, কীটপতঙ্গ। মারার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কারণ ঐ সমস্ত কীটনাশক যখন জমিতে ছিটানো হয়, তখন সেগুলো বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এই দূষিত বাতাস মানুষ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ঐ সমস্ত কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা যেমন- মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, চোখ-জ্বালাপোড়া করা, পেটের পীড়া, বদহজম ইত্যাদি দেখা দেয়।
ঐ সমস্ত কীটনাশক মাটিতে মিশে মাটিকেও দূষিত করে। ফলে জমির। উর্বরতা নষ্ট হয়, জমিতে ভাল ফসল হয় না। আবার বৃষ্টি হলে ঐ সমস্ত কীটনাশক পুকুরে, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সাথে মিশে, পানিকে দূষিত করে। ফলে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মরে যায় এবং পুকুর, নদীতে বিদ্যমান বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শেওলাও মরে যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে তখন এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তখন এন্টাসিড খাওয়া হয়। কারণ এন্টাসিডে থাকে ক্ষারীয় অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!