উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার, উপরে ও নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে।
তাপমাত্রা প্রস্বেদনের বাহ্যিক প্রভাবকসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম প্রভাবক। তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে প্রস্বেদনের হার উঠানামা করে।
কারণ অধিক তাপে পানি সহজেই জলীয়বাষ্পে পরিনত হয়, ফলে প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় প্রস্বেদন হার বেড়ে যায়। ঠিক বিপরীতভাবে প্রকৃতিতে তাপমাত্রা কমে গেলে পানি সহজে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয় না, ফলে প্রস্বেদনের হার হ্রাস পায়। সুতরাং, বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি থেকেই বলা যায়, তাপমাত্রার সাথে প্রস্বেদনের হার উঠানামা করে।
উদ্দীপকে P অংশ দ্বারা উদ্ভিদের সবুজ পাতাকে দেখানো হয়েছে।
উদ্ভিদে বর্ণ গঠনকারী অঙ্গাণুটি হলো প্লাস্টিড। সবুজ বর্ণের জন্য দায়ী প্লাস্টিড কণাকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলা হয়। সুতরাং P- অংশে বিদ্যমান রঞ্জক কণা তথা প্লাস্টিডের গঠন বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
- ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তর বিশিষ্ট অর্ধভেদ্য ঝিল্লি দিয়ে আবৃত থাকে। এটি লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- ঝিল্লি দ্বারা আবৃত পানিগ্রাহী ম্যাট্রিক্স বিদ্যমান। এই ম্যাট্রিক্সকে স্ট্রোমা বলে। এতে একটি DNA অণু বিদ্যমান।
- স্ট্রোমাতে সুবিন্যস্ত ৪০-৮০টি পিপা আকৃতির গ্রানা (বহুবচনে) থাকে। একটি গ্রানামে (একবচনে) ৫-২৫টি গ্রানাম চাকতি থাকে।
দু'টি পাশাপাশি গ্রানার কিছু সংখ্যক গ্রানাম চাকতি সূক্ষ্ম নালিকা দিয়ে সংযুক্ত থাকে। এই সংযোগকারী নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে। - গ্রানাম চাকতির ঝিল্লির ভিতরের দিকে বহু স্ফটিকাকার বস্তু সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো থাকে। এদের কোয়ান্টোজোম বলে।
উদ্দীপকের 'S' হলো সূর্য এবং 'P' হলো সবুজ পাতা। সবুজ পাতায় থাকে ক্লোরোফিল। 'S' এর সাথে 'P' এর সেতুবন্ধনের মাধ্যমেই আমরা বাসযোগ্য পৃথিবী পেয়েছি। নিচে যুক্তি দ্বারা তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে সবুজ পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াই হলো সালোকসংশ্লেষণ। সবুজ উদ্ভিদে এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে খাদ্য তৈরি করে তার উপর পৃথিবীর সকল জীবই নির্ভরশীল। আবার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ করে O2 ও CO2 এর সঠিক অনুপাত রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তা হবে জীবজগতের জন্য হুমকি স্বরূপ। সকল জীব শ্বসন প্রক্রিয়ায় O2 গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করে। কেবলমাত্র শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমণ্ডলে O2 গ্যাসের স্বল্পতা এবং CO2 গ্যাসের আধিক্য দেখা দিত। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে বলেই বায়ুমণ্ডলে O2 ও CO2 গ্যাসের ভারসাম্য বজায় রয়েছে। বেঁচে রয়েছি আমরা। আমাদের বাসযোগ্য পৃথিবী পেতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াই এখানে মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। আবার সালোকসংশ্লেষণে 'S' এর সাথে 'P' এর একটি সেতুবন্ধন রয়েছে। সুতরাং বলা যায় 'S' এর সাথে 'P' এর সেতুবন্ধনের মাধ্যমেই আমরা বাসযোগ্য পৃথিবী পেয়েছি।
Related Question
View Allপাইরুভিক এসিডের সংকেত হলো C2H2O3।
যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। অর্থাৎ যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোনো শ্বসনিক বস্তু অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই কোষ মধ্যস্থ এনজাইম দ্বারা আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ (ইথাইল অ্যালকোহল, ল্যাকটিক এসিড ইত্যাদি), CO2 ও সামান্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে অবাত শ্বসন বলে।
সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের আলোেক নির্ভর পর্যায়ের জন্য আলো অপরিহার্য। এ পর্যায়ে ATP (অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট) এবং NADPH + H+ উৎপন্ন হওয়ার মাধ্যমে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় যা উদ্দীপকের চিত্রে A দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ এতে করে উদ্ভিদের শক্তির আত্মীকরণ ঘটে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায়ে পাতার ক্লোরোফিল অণু আলোকরশ্মির ফোটন শোষণ করে এবং শোষণকৃত ফোটন হতে শক্তি সঞ্চয় করে ADP এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi) মিলিত হয়ে ATP তৈরি করে। ATP তৈরির এই প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
ADP + Pi ATP
আবার সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন O2 হাইড্রোজেন H+ ও ইলেকট্রন (e- ) উৎপন্ন হয় যা উদ্দীপকের চিত্রে পাতার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলেকট্রন NADP- কে বিজারিত করে NADPH + H+ উৎপন্ন করে। এভাবে ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন ATP এবং NADPH + H+ কেই বলা হয় আত্মীকরণ শক্তি।
জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতিনিয়ত হাজারো রকমের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া চলে। এসব বিক্রিয়ার জন্য শক্তির প্রয়োজন। শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্যের এই শক্তিকে সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির মাধ্যমে নিজের দেহে আবদ্ধ করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত আত্মীকরণ শক্তি A-ই হলো উদ্ভিদ দেহে আবদ্ধ রাসায়নিক শক্তি যা পরবর্তীতে উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণের কার্বন বিজারণ পর্যায়ে এ শক্তি শর্করা ও অন্যান্য জৈব যৌগের অণুর রাসায়নিক বন্ধনীতে সঞ্চিত বা আবদ্ধ হয়। উদ্ভিদ দেহে সঞ্চিত এ স্থৈতিক শক্তি শ্বসনের সময় তাপরূপে উদ্ভূত হয়ে রাসায়নিক শক্তিরূপে (ATP) মুক্ত হয় এবং উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। জৈব সংশ্লেষণ, পরিবহন ও অন্যান্য বিপাকীয় কাজে শক্তির প্রয়োজন হলে ATP ভেঙ্গে ADP ও AMP তৈরি হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়।
কাজেই সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে না পারলে উদ্ভিদ দেহে প্রয়োজনীয় শক্তির সংবন্ধন ঘটবে না। এতে করে উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারবেনা। প্রয়োজনীয় আত্মীকরণ শক্তির অভাবে উদ্ভিদ দেহের সমস্ত জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো আর চলতে পারবেনা। ফলে উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত, বৃদ্ধি, পরিবহন, প্রজনন ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদ মৃত্যুর কোলে উপনীত হবে।
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ফটোলাইসিস।
সবুজ উদ্ভিদে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার পর্যায়ে CO2 বিজারণের তিনটি গতিপথ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো হ্যাচ ও স্ন্যাক চক্র বা C4 গতিপথ। এই চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪ কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড। যেসব, উদ্ভিদে C3 গতিপথ বা ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি এই C4 গতিপথও সংঘটিত হয় সেগুলোই হলো C4 উদ্ভিদ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!