মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত।
মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব সম্পদ সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা পূরণে ব্যবহার করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে।
প্রায় প্রতিটি দেশে কিছু না কিছু খনিজ সম্পদ রয়েছে। আর এ খনিজ সম্পদই ঐ দেশের উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার।
চিত্রে 'Y' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো দিনাজপুর। যেখানে কয়লা খনিজ সম্পদটি উত্তোলিত হয়।
. পৃথিবীর বিভিন্ন জ্বালানি শক্তির মধ্যে কয়লা অন্যতম যা প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ হতে তৈরি হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা, প্রাণীর দেহাবশেষ সবকিছু ভূঅভ্যন্তরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা অন্যতম। উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে দৈনিক প্রায় ৩,০০০ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলিত হয়। এছাড়া রংপুরের খালাশপীর, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি ও দীঘিপাড়া এবং বগুড়ার কামালগঞ্জে কয়লাক্ষেত্র রয়েছে। রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ জেলায় বিটুমিনাস ও লিগনাইট কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।
চিত্রে 'X' এবং 'Y' চিহ্নিত অঞ্চল দুটি হলো যথাক্রমে মৌলভীবাজার ও দিনাজপুর, জেলা দুটোতে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা। এ দুটি খনিজ সম্পদই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সার্বিক বিবেচনায় প্রাকৃতিক গ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। নিচে এদের অর্থনৈতিক গুরুত্বের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো- কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কয়লা পুড়িয়ে জল থেকে উদ্ভূত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুড়িয়ে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন প্রকার শিল্পে কয়লার প্রত্যক্ষ ব্যবহার লক্ষণীয়। কয়লা থেকে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন সার তৈরি করা হয়। যা কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ইটভাটা শিল্পকারখানা প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা হয়। বনজ সম্পদ রক্ষায় কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সম্পদ দুটির গুরুত্ব অত্যধিক। তবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস অধিক পরিমাণে সঞ্চিত। তাই কয়লার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অধিক।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপ্রকৃতিপ্রদত্ত যে সকল পদার্থ হতে শক্তি পাওয়া যায় তাকেই শক্তিসম্পদ বলে।
বাংলাদেশে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি পাওয়া যায়।
যেসব কয়লায় কার্বণের পরিমাণ কম এবং ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি যেসব কয়লাকে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি। নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লায় মধ্যে পিট ও বিটুমিনাস উল্লেখযোগ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ কয়লা ক্ষেত্র থেকে বিটুমিনাস ও পিট জাতীয় কয়লার উত্তোলন করা হয়।
উদ্দীপকে 'ক' খনিজ সম্পদটি হলো লৌহ আকরিক যা সভ্যতার আধুনিকায়ন ও নগরায়ণ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। এশিয়ার মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশে লৌহ আকরিক সঞ্চিত আছে। নিচে এশিয়া মহাদেশে লৌহ
আকরিকের উৎপাদন ব্যাখ্যা করা হলো-
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইরান, জাপান, প্রভৃতি দেশে 'লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। নিচে এসব দেশে ২০১৯ সালে কী পরিমাণ লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয় তা একটি তালিকায় মাধ্যমে তুলে ধরা হলো-
ক্রমিক নং | দেশ | ২০১৯ সাল |
১ | চীন | ৩৫.০০ |
২ | ভারত | ২১.০০ |
৩ | কাজাখিস্তান | ৪.৩০ |
8 | ইরান | ৩.৮০ |
অতএব বলা যায় এশিয়া মহাদেশের বহু দেশ লৌহ আকরিক উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে 'খ' খনিজ সম্পদটি হলো- খনিজ তেল।
ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন শিলা স্তর থেকে উত্তোলিত তেলকে খনিজ তেল বলে। খনিজ তেল বিশ্বব্যাপি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই সারা বিশ্বব্যাপি এর বাণিজ্য কার্যক্রম সচল। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল উত্তোলন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ দ্বিতীয়টি নেই। মৃল্প কয়েকটি দেশ তেল সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং তেলের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ও বহুমুখী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
খনিজ তেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকারেই রপ্তানি করা হয়। অপরিশোধিত খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া প্রভৃতি প্রধান। আর আমদানিকৃত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, ইতালি, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি প্রধান।
পরিশেষে বলা যায় খণিজ তেল বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তরল সম্পদ। কৃষি, শিল্প, পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেলের প্রত্যক্ষ ব্যবহার রয়েছে। তাই সারাবিশ্ব ব্যপিই এর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা প্রভৃতি পুড়িয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে তাপবিদ্যুৎ বলে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে কয়লার সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা, প্রাণীর দেহাবশেষ সবকিছু ভূঅভ্যন্তরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
