কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ দেয় তাকে ব্যাংক হার বলে।
মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য একদিকে যেমন আশীর্বাদ তেমনি অন্যদিকে অভিশাপ। কারণ স্বল্পমাত্রায় মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক। এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতি বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ নতুন কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে, মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা যখন নিয়ন্ত্রণহীন ও প্রকট হয় তখন অর্থনৈতিক জীবনে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। উৎপাদন, বণ্টন ও আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক বিন্যাসে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমগ্র অর্থনীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি অর্থনীতির চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। নিচে চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
একটি অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা (AD) বৃদ্ধি অর্থাৎ ১. ভোগ বৃদ্ধি ২. বিনিয়োগ বৃদ্ধি ৩. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ৪. রপ্তানি বৃদ্ধি ৫. মুদ্রার পরিমাণ বৃদ্ধি ৬. সুদের হার হ্রাস এর ফলে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে তাকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand pull Inflation) বলা হয়। অর্থাৎ, সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগানের চেয়ে বেশি হলে দামস্তরের যে ধরনের বৃদ্ধি ঘটে তাকেই চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।

চিত্রে দামে সামগ্রিক চাহিদা রেখা সামগ্রিক যোগান রেখার সাথে E বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জন করে। এখন সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়ে , হলে পরিমাণ একই থাকার কারণে এখানে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি অর্থনীতির চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
চিত্রে , স্থানান্তরিত হয়ে হওয়ায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এতে দাম বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। আমি মনে করি মুদ্রাস্ফীতির জন্য অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব পড়ে। এগুলোর মধ্যে কিছু উপকারী আর কিছু অপকারী।
যেমন-
১। ব্যবসায়ী শ্রেণি মুদ্রাস্ফীতির কারণে লাভবান হলেও স্থির আয়ের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২। অর্থনীতিতে অপূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বিরাজ করলে মুদ্রাস্ফীতি ব্যবসায়ীদের মুনাফা বাড়ায়। ফলে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় উৎপাদনকারীগণ উৎপাদন বৃদ্ধি করে, ফলে কর্মসংস্থান বেড়ে যায়।
৩। মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হলে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি তোলে এবং শ্রমিক-মালিক বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা ধর্মঘট, লকআউট ইত্যাদির মাধ্যমে উৎপাদন বিঘ্নিত করে।
৪। মুদ্রাস্ফীতির ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় বলে সঞ্চয় কমে যায়, ফলে বিনিয়োগ কমে যায় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়।
৫। মুদ্রাস্ফীতির কারণে যেকোনো ধরনের ব্যবসায় বিনিয়োগে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়। তবে এ ধরনের বিনিয়োগ অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায় না।
৬। অধিক হারে মুদ্রাস্ফীতি অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমায়, যার ফলে ভোগ ব্যয় বেড়ে যায় এবং সঞ্চয় কমে যায়।
৭। মুদ্রাস্ফীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা রপ্তানি হ্রাস করে। আবার দেশীয় ক্রেতারা স্বদেশি পণ্যের তুলনায় আমদানিকৃত দ্রব্য সস্তায় পায় বলে আমদানি বাড়ে।
৮। দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার হ্রাস পায় এবং লেনদেনে ঘাটতি দেখা দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, স্থানান্তরিত হয়ে হওয়ায় অর্থনীতির বহুমুখী প্রভাব পড়ছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allদামস্তর বৃদ্ধির মাত্রা বা হার অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগানের চেয়ে বেশি হলে দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটে। দামস্তরের এ ধরনের বৃদ্ধিকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে। সাধারণত দ্রব্যবাজারে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এ মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। চাহিদা বৃদ্ধিজনিত। মুদ্রাস্ফীতি মূল্য বাড়ার প্রত্যাশা দ্বারা প্রভাবিত হয়। এ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমুখী মুদ্রা এবং ফিসক্যাল নীতি অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ।
সাধারণভাবে দেখা যায় যে, উন্নয়নশীল দেশে সম্পদের স্বল্পতা, মূলধনের অভাব, প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থের যোগান দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে
মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও ঠিক একই অবস্থা বর্তমান।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর থেকে এ দেশে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৩৫%। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.৪১%। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সার্বিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৯২%-এ দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মজুদ ও চোরাচালানের খুব বেশি প্রভাব রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি সহনীয় রাখার জন্য সরকার রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
যেকোনো দেশে মুদ্রাস্ফীতি সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব অপরিসীম। বাংলাদেশেও একই অবস্থা বিরাজমান। নিচে উক্ত বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
মুদ্রাস্ফীতি পূর্ণ নিয়োগপূর্ব অবস্থায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে মুনাফার প্রত্যাশা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়। কিন্তু পূর্ণ নিয়োগ-পরবর্তী অবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন ব্যাহত করে। মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদনের মতো কর্মসংস্থানেও একই ধরনের প্রভাব ফেলে। যখন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, তখন কর্মসংস্থান বা নিয়োগ বেশি থাকে, আবার উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থান বা নিয়োগ কমে যায়।
মুদ্রাস্ফীতি আয় ও সম্পদ বণ্টনের উপর কখনও ইতিবাচক, আবার কখনও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। আয় ও সম্পদের পূর্ণ বণ্টনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে কেউ লাভবান, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুদ্রাস্ফীতি দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটানোর ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়। মুদ্রাস্ফীতির সময় কর, মুনাফা ইত্যাদি বৃদ্ধি পায় বলে সরকারি আয় বেড়ে যায়, আবার দামস্তর বৃদ্ধির কারণে সরকারি ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। মুদ্রাস্ফীতি সামাজিক শ্রেণি বিভাজনের সৃষ্টি করে, ফলে সমাজে ধনবৈষম্য, অর্থাৎ ধনী-দরিদ্র বিরোধ ও অসন্তোষ বিরাজ করে। কলকারখানার শ্রমিক-মালিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সার্বিকভাবে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে সমাজজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। মুদ্রাস্ফীতি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে বলে রাজনৈতিক পরিবেশও বিঘ্নিত হয়।
সবশেষে বলা যায়, স্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য সমস্যা না হলেও ক্রমাগত দামস্তরের বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে অর্থনীতিতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
যে সূচকে কতিপয় দ্রব্য ও সেবা ক্রয়ের ব্যয় পরিমাপ করা হয়, তা-ই হলো ভোক্তার দাম সূচক।
বর্তমান বছরের ব্যয়ের সাথে ভিত্তি বছরের ব্যয়ের তুলনা করে ভোক্তার দাম সূচক তৈরি করা হয়। ভিত্তি বছরের দামস্তরকে ১০০ ধরে সাধারণত ভোক্তার দাম সূচক যে হারে বৃদ্ধি পায়, সে হারকে মুদ্রাস্ফীতির হার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে
দাম সূচক (CPI) নিম্নরূপে হিসাব করা হয়-
ভোক্তার দাম সূচক (CPI)
এখানে,= বর্তমান সময়ের দাম,
= দ্রব্যের পরিমাণ,
= ভিত্তি বছরের দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
