কতগুলো মৌলিক উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে মিলিত হয়ে যে যৌগ গঠন করে তাই খনিজ। যেমন: সীসা, স্বর্ণ
পাললিক শিলা গঠনের সময় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ক্রিয়াশীল থাকে। যেমন- নদী ও সমুদ্রের স্রোত নদীর স্রোতে জীবজন্তুর দেহাবশেষ অথবা বৃক্ষশাখা ভাসতে ভাসতে সমুদ্রে এসে পড়ে এবং
তলদেশে নিমজ্জিত হয়। যা যুগ যুগ ধরে পাললিক শিলাস্তরে অবিকৃত অবস্থায় প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত থাকে। ফলে পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায়।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্তরটি হচ্ছে উর্ধ্বগুরুমণ্ডল।
উর্ধ্বগুরুমণ্ডল হচ্ছে গুরুমণ্ডলের উপরিভাগ যা অশ্মমণ্ডলের নিচে অবস্থিত।
এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. এ স্তরটি ১০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
২. এ স্তরটি ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম মৌল দ্বারা গঠিত।
৩. এটি প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত।
চিত্রে 'B' ও 'C' হচ্ছে যথাক্রমে নিম্ন গুরুমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল।
এ স্তর দৃটির গঠন বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ কর হলো-
নিম্ন গুরুমণ্ডল: গুরুমণ্ডল অশ্যমণ্ডলের নিচ থেকে ২.৮৮৫ কিলোমিটার
পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। ভূঅভ্যন্তরের এ অংশে রয়েছে সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ। এর নিচের অংশ তথা নিম্ন গুরুমণ্ডল আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ দ্বারা গঠিত।
বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল: গুরুমন্ডলের ঠিক পরেই বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল বিস্তৃত। ভূকম্পন তরঙ্গোর সাহায্যে জানা গেছে স্তরটি তরল অবস্থায় আছে। এর পুরুত্ব ২,২৭০ কিলোমিটার। বিজ্ঞানীদের মতে, এ স্তরটির প্রধান উপাদান নিকেল ও লোহা। এছাড়া রয়েছে পারদ ও সীসা।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, গুরুমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল স্তর দুটির গঠন বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা রয়েছে।
সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়। এ সময় এর উপর যে আস্তরণ পড়ে তা হলো ভূত্বক। ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর। অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। ভূত্বক যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি তার সাধারণ নাম শিলা। পৃথিবীতে কার্যরত বিভিন্ন ভূমিরূপ প্রক্রিয়া শিলা ও খনিজের ধরন দ্বারা প্রভাবিত হয়। ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তন দুরকম। ধীর পরিবর্তন ও আকস্মিক পরিবর্তন। এ অধ্যায়ে আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক গঠন, বিভিন্ন রকম শিলা, ভূপৃষ্ঠের ধীর ও আকস্মিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করব।
Related Question
View Allযে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে নদী উপত্যকা বলে।
উর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড় বড় শিলাখন্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নদিকের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।তাই একে 'V' উপত্যকা বলা হয়।
প্রবাহিত নদী খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
ঊর্ধ্বগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয় বলে উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়।
ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ায় তা বড় বড় শিলাখণ্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে নিচের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!