কর্ষণ হচ্ছে ফসল ফলানোর জন্য জমির মাটি, যন্ত্রের সাহয্যে খুঁড়ে আলগা করা।
মাছের সম্পূরক খাদ্যের দুটি প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাছকে নিয়মিত সম্পূরক খাবার সরবরাহ করলে অধিক ঘনত্বে পোনা ও বড় মাছ চাষ করা যায়। কারণ শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
২. মাছ পুষ্টির অভাবজনিত রোগ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ এসব সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ, খনিজ লবণ ও ভিটামিন মাত্রানুযায়ী থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র-ক তে সাইলেজ তৈরির জন্য ভুট্টা কাটার উপযুক্ত অবস্থা এবং চিত্র-খ তে সাইলোপিটে সবুজ ঘাস পরিপূর্ণ করা হচ্ছে দেখানো হয়েছে। নিম্নে চিত্রদ্বয়ের আলোকে খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
ভুট্টার দানার গোড়ায় কালো দাগ আসার সাথে সাথে সাইলেজ প্রস্তুতের জন্য ভুট্টা গাছ কাটার উপযোগী হয়। এ সময়ে ভুট্টা গাছের শুষ্ক পদার্থের পরিমাণ ৩০-৩৫% হয়। ভুট্টা গাছগুলোকে ভূমি থেকে ১০-১২ সেমি উঁচুতে কাটা হয়। এরপর এগুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। টুকরো করা ঘাস গর্তে বায়ুরোধী অবস্থায় রেখে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। সাইলোপিটে ঘাস রাখার সময় ঝোলাগুড়ের দ্রবণ ছিটিয়ে দিতে হয়। তবে বর্তমানে গর্তের পরিবর্তে পলিথিন দিয়ে তৈরি বড় আকারের ব্যাগে সংরক্ষণ করা যায়। টুকরো করা গাছগুলো ব্যাগের ভিতর ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে বাতাস চলাচল করতে না পারে।
উদ্দীপকের চিত্র-খ তে সাইলোপিটে সাইলেজ তৈরিকরণ দেখানো। হয়েছে। খাদ্যের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান অক্ষুন্ন রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য বায়ুরোধী অবস্থায় সংরক্ষিত সবুজ ঘাসকে সাইলেজ বলে।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে রশিদুলের গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি তার চারণভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
অতএব বলা যায়, ভুট্টা আবাদ করে সাইলেজ তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত উপায়ে সংরক্ষণ করে গবাদিপশুর সারা বছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allভূ-পৃষ্ঠের নরম স্তর যেখানে ফসল জন্মায়, বন সৃষ্টি হয়, গবাদিপশু বিচরণ করে তাকে মাটি বলে।
FCR (Food Conversion Ratio) হলো প্রয়োগকৃত খাদ্য ও খাদ্য গ্রহণের ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধির অনুপাত। অর্থাৎ, ১ কেজি মাছ পেতে যত কেজি খাবার খাওয়াতে হয়, তাই FCR। FCR-এর মান কম হওয়ার অর্থ অল্প পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করে অধিক উৎপাদন। যদি কম খাবার খেয়েও মাছের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তবে বুঝতে হবে খাদ্যের গুণগত মান ভালো। সুতরাং, FCR-এর মান যত কম খাদ্যের গুণগত মান তত ভালো।
বীজ থেকে আর্দ্রতা বের করে দিয়ে তাতে কতটুকু আর্দ্রতা আছে তা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা বলে।
সফিক সাহেবের সংগ্রহকৃত নমুনা বীজের ওজন = ১০০ গ্রাম। আর্দ্রতা বের করার পর ওজন = ৯০ গ্রাম।
সুতরাং, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার
= নমুনা বীজের ওজন – নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন/নমুনা বীজের ওজন × ১০০
অতএব, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার ছিল ১০%।
সফিক সাহেব গমের আবাদ করার জন্য বীজের আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন।
সফিক সাহেবের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি তার সচেতনতার পরিচয় বহন করে। এই সচেতনতার কারণেই তিনি ভালো মানের বীজ বপন করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। মূল জমিতে বপনের পূর্বে তিনি বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নেন। গমের ক্ষেত্রে বীজের আর্দ্রতা ১২-১৩% রাখা ভালো। বীজের আর্দ্রতার হার যত বেশি হবে বীজের গজানোর ক্ষমতা ও তেজ ততই হ্রাস পাবে। তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বাড়াতে উপযুক্ত আর্দ্রতায় শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তিনি বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন। নমুনা বীজের শতকরা যতটি বীজ গজায় তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা। ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে প্রায় ৮০% এর উপরে। অপরদিকে বীজের সতেজতা হলো প্রতিকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হওয়ার ক্ষমতা।
বীজের সতেজতা ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, সফিক সাহেব উল্লিখিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বীজের মান নির্ধারণ করে উন্নত বীজ ব্যবহার করতে সক্ষম হন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। অর্থাৎ, তার বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি যথার্থ ছিল।
প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
দেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ফাইটোপ্লাংকটন (উদ্ভিদকণা) ও জু-প্লাংকটন (প্রাণীকণা) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু, মাছ চাষের ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরে অধিক ঘনত্বে পোনা ছাড়া হয়। এ অবস্থায় শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। এমনকি সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধি করলেও তা যথেষ্ট হয় না।
মাছকে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশপাশি সম্পূরক খাদ্য দিতে হয়। সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী থাকে। যা মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনে সহযোগিতা করে। অর্থাৎ, মাছ চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!