কতড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধাতুর উপর সুবিধামতো অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে।
সাধারণত চাহিদার তুলনায় তড়িতের উৎপাদন কম হলে সব জায়গায় একই সাথে তড়িৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে লোডশেডিং হয়। এছাড়া বিদ্যুতের সিস্টেম লস, বিদ্যুতের অপচয়, বিদ্যুতের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানাবিধ কারণে লোডশেডিং হয়।
চিত্র 'P' হতে দেখা যায় যে, X হলো একটি ব্যাটারি। নিচে X এর অর্থাৎ ব্যাটারির গঠন ও কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হলো- ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি আনোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে ইলেকট্রোলাইট।
ব্যাটারির সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে ক্যাথোডে জমা করা হয়। এর ফলে অ্যানোড এবং ক্যাথোডের মধ্যে তড়িৎ বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। এ অবস্থায় অ্যানোড এবং ক্যাথোডকে পরিবাহী তার দ্বারা সংযুক্ত করলে ক্যাথোডের ইলেকট্রনগুলো অ্যানোডে প্রবাহিত হতে থাকে। ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহ ধরে নেওয়া হয়। তাই আমরা বলি অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহ হচ্ছে।
এভাবেই উপরোক্ত গঠনের আলোকে ব্যাটারি কাজ করে থাকে যদিও ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে খরচ হয়ে যাওয়ার পর বিভব পার্থক্য সৃষ্টি করতে না পারায় বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে ব্যাটারি সেলে নতুন করে চার্জ দিলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ তৈরি করার জন্য প্রস্তুত হয়।
উদ্দীপক হতে দেখা যায় চিত্র '?' এর বর্তনী হলো সমান্তরাল 'বর্তনী, যার বিপরীত বর্তনী হলো শ্রেণি বা সিরিজ বর্তনী। নিচে সিরিজ বর্তনী চিত্রসহ বিশ্লেষণ করা হলো।
সিরিজ বর্তনীতে একটি বা একাধিক বার সংযুক্ত হলে একটির এক প্রান্ত অপরটির অপর প্রান্তের সাথে লাগানো হয়। ব্যাটারি সেলকে সিরিজে লাগানো হলে ব্যাটারির বিভব যোগ হয়। এ বর্তনীতে একটি বাল্ব অনেক উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে কিন্তু দুটি বা তিনটি বাহু লাগানো হলে বিদ্যুৎ প্রবাহ আনুপাতিকভাবে কমে যাবে বলে বারগুলো অনুকূলভাবে জ্বলবে।
সিরিজ বর্তনীতে একটি সুইচ লাগানো হলে সুইচ অফ করার সাথে সাথে সবগুলো বান্ধ একসাথে নিভে যায়। সাধারণত রাস্তায় বাতি জ্বালানোর ক্ষেত্রে, বিভিন্ন কারখানায় একসাথে একাধিক বায় বা ফ্যানের তড়িৎ সংযোগের ক্ষেত্রে এই বর্তনী ব্যবহার করা হয়।
শক্তির নানা রূপের মাঝে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ শক্তি। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি শক্তি, কারণ এটি দিয়ে আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে পারি। বিদ্যুৎ বা তড়িৎ আলো জ্বালায়, পাখা চালায়, রেডিও, ফ্রিজ, টিভি বা কম্পিউটার চালায়। বিদ্যুতের সাহায্যে রান্না করা যায়। এর ব্যবহারকে ভালো করে বুঝতে হলে আমাদেরকে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। বিদ্যুৎ বা তড়িৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলেই আমরা তড়িতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এর অপচয় বন্ধ করার ক্ষেত্রে নিজেরা যত্নবান হতে পারব এবং অন্যদের সচেতন হতে সাহায্য করতে পারব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- তড়িৎ উপাংশ ও যন্ত্র প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশ করতে পারব।
- ব্যাটারির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাসা-বাড়িতে ব্যবহার উপযোগী বর্তনীর নকশা প্রণয়ন করতে পারব ।
- তড়িৎ বিশ্লেষণ এবং তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রাত্যহিক জীবনে তড়িৎ বিশ্লেষণের এবং তড়িৎ প্রলেপনের গুরুত্ব বর্ণনা করতে
- কিলোওয়াট ও কিলোওয়াট-ঘন্টা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার হিসাব করতে পারব।
- এনার্জি সেভিং বাল্বের সুবিধা ব্যাখ্যা করতে পারব
- আইপিএস ও ইউপিএসের কার্যক্রম ও ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সিস্টেম লস এবং লোড শেডিং ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যুতের অবদান ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাসা বাড়িতে ব্যবহার উপযোগী বর্তনীর ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারব।
- পরীক্ষার সাহায্যে তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রদর্শন করতে পারব।
- তড়িৎ উপকরণ ও যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহারে সক্ষম হব।
- তড়িতের অপচয় রোধে যত্নবান হব এবং অন্যদের সচেতন করব।
Related Question
View Allকোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে বা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাই তড়িৎ ক্ষমতা।
একটি বান্ধের গায়ে ২২০ ভোল্ট- ৬০ ওয়াট লেখা আছে। এর অর্থ হলো, ২২০ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে বান্ধটিকে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলো ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

আমরা জানি, সাধারণ বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে আলো তৈরি করে, যার ফলে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব, যেমন সি.এফ.এল বা এলইডি বাল্ব, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি আলো দেয়।
এখন আমরা হিসাব করে দেখি মনসুরা খানম ঠিক কতটা লাভবান হলেন:
- আগের বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি বাল্ব, প্রতিটি ১০০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×১০০=৫০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ৫০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৩০০০ ওয়াট-ঘণ্টা=৩ ইউনিট (কারণ ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ইউনিট)।
- বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি এনার্জি সেভিং বাল্ব, প্রতিটি ২০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×২০=১০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ১০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৬০০ ওয়াট-ঘণ্টা=০.৬ ইউনিট।
দৈনিক সাশ্রয়: ৩ ইউনিট−০.৬ ইউনিট=২.৪ ইউনিট।
এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, মনসুরা খানম প্রতিদিন ২.৪ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। এর ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং বাল্ব ৮ থেকে ১৫ গুণ বেশি দিন টিকে থাকে। তাই মনসুরা খানমকে ঘন ঘন বাল্ব পরিবর্তন করতে হবে না, যা তাঁর অর্থ এবং সময় দুটোই বাঁচাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!