কাঙ্ক্ষিত বা স্বাভাবিক আচরণের পরিপন্থি আচরণই হলো বিচ্যুতি।
শিক্ষককে সালাম না দেয়া হলো একধরণের বিচ্যুতিমূলক আচরণ।
সমাজে ব্যক্তির কাছ থেকে যে আচরণ প্রত্যাশা করে তা হালো প্রত্যাশিত আচরণ। আর প্রত্যাশিত আচরণের পরিপন্থি আচরণই হলো বিচ্যুতি। অপরপক্ষে সামাজিক মূল্যবোধ বা রাষ্ট্রীয় আইন পরিপন্থী কাজতে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। অপরাধের জন্য আইনগত ভাবে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু বিচ্যুতির জন্য আইনগতভাবে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু বিচ্যুতির জন্য শাস্তি পেতে হয় না। বিচ্যুতি অপরাধ নয় কিন্তু অপরাধের পরবর্তী স্তর বলা যেতে পারে। অতএব শিক্ষককে সালাম না দেয়া একটি বিচ্যুতি।
'ক' চিত্রটিতে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। এটি একটি লঘু ধরনের অপরাধকে নির্দেশ করে।
অপরাধ হলো সামাজিক আইন বা নীতিমালার লঙ্ঘন। আরও সুনির্দিষ্ট অর্থে দেশের আইনসভা কর্তৃক অনুমোদিত শাস্তিযোগ্য কাজকেই অপরাধ বলে। কোনো দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করা অপরাধ। অপরাধমূলক আচরণকে তার ধরন মোতাবেক কতগুলো স্তরে ভাগ করা হয়ে থাকে। মাত্রার ভিত্তিতে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-গুরুতর অপরাধ এবং লঘু অপরাধ। গুরুতর অপরাধ হলো সেই সমস্ত অপরাধ যার শাস্তিস্বরূপ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড হতে পারে। অপরপক্ষে লঘু অপরাধ করলে জেল বা জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধ সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে।
উদ্দীপকে চিত্র-ক তে দেখা যায় একজন ব্যক্তি সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করছে। মাত্রাগত দিক থেকে মাদক গ্রহণ হলো লঘু অপরাধ। অর্থাৎ সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হলো জনশৃঙ্খলাভঙ্গমূলক অপরাধ। তাই উক্ত চিত্রের অপরাধটি লঘু অপরাধকেই নির্দেশ করে।
'খ' চিত্রে প্রদর্শিত বিষয়টি হলো বেকারত্ব এবং 'ক' চিত্রে প্রদর্শিত বিষয়টি হলো মাদকাসক্তি। বেকারত্ব মাদকাসক্তি অপরাধের একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে আরো নানাবিধ কারণ বিদ্যমান রয়েছে।
সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণে কোনো একক সমস্যার সৃষ্টি হয় না। তেমনি মাদকক্তির পেছনেও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় প্রায় ৫০০০ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রধান কারণ হলো- সঙ্গদোষ, পিতামাতার অবহেলা, ধর্মীয় শিথিলতা ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই সমবয়সী দলের প্রভাবে কৌতূহলবশত প্রথম মাদক গ্রহণ করে এবং এক সময় মাদকের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে পরিবারের নৈতিক শিক্ষার অভাব, পারিবারিক অস্থিরতাও দায়ী। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, স্নেহ-ভালোবাসার অভাব প্রভৃতি বিষয়গুলো সদস্যদের মাঝে হতাশা ও নৈরাশ্যের জন্ম দেয়, যা থেকে মাদকদ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশে মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে মাদকদ্রব্য হয়ে উঠছে সহজলভ্য। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে এদেশের অধিকাংশ মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দরিদ্র ও বেকারত্ব মানুষের মনে যে হতাশা ও নৈরাশ্যের জন্ম দেয় তা ভুলে থাকার অভিপ্রায়ে অনেকে মাদকদ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বেকারত্ব মাদকাসক্তির একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে আরো অনেক কারণ বিদ্যমান।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো সর্বপ্রাণবাদ।
ধর্ম হলো পবিত্র বস্তু সম্পর্কিত কতগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি ।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই অতিমাত্রায় কোনো শক্তির উপর ভর বা বিশ্বাস করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। ধর্ম জ্ঞান অপেক্ষা বিশ্বাস দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ প্রার্থনা করে। ধর্ম যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত সেহেতু এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে।
উদ্দীপকে সংঘটিত অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। যেমনটি মার্কস বলেছেন পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধী বেশি দেখা যায়। কারণ ধন-সম্পদের অধিকারীরাই আইন প্রণয়ন করে এবং অপরাধীদের বিচার তাদের এখতিয়ারে। তাই তারা অপরাধ করেও শাস্তি ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে। আর গরিবরা অনেক সময় আর্থিক কারণে অপরাধ করে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তেমনি অত্যধিক ধন লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশ তাদের পেশাগত কাজের মাধ্যমে অপরাধ করে থাকে যাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রহমত তার স্বল্প উপার্জনে পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। বাবার চিকিৎসার অর্থ যোগানের জন্যই সে টাকা চুরি করে। অতএব এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রহমতের অপরাধ সংগঠনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণটিই দায়ী।
উদ্দীপকে রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমাজজীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জানো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত দুটি মাধ্যমে তথা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আইন, প্রথা প্রভৃতি মাধ্যম ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যা সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সমাজ কাঙ্ক্ষিত পন্থায় গড়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। সুষ্ঠু সমাজজীবনের স্বার্থে একটি সমাজে আইন ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিধান করা হয়, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া এসকল বিষয় ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধ, আদর্শ, রীতি-নীতির পাশাপাশি সমাজের আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, লোকাচার ও লোকরীতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রকৃতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে রহমত টাকা চুরি করার পর পত্রিকায় একজন রিকশাচালকের সততার সংবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে সে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করা টাকা পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবে। রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রচার মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিদ্যমান।
"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!