যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই কিন্তু অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব শব্দাংশকে উপসর্গ বলে। নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শুধু তাই নয়- শব্দার্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ, সংকোচন কিংবা পূর্ণতা সাধনে উপসর্গ ভূমিকা রাখে। উপসর্গগুলোর অর্থবাচকতা না থাকলেও অন্য শব্দের আগে বসে এগুলো অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: 'পয়া' শব্দের আগে 'অ' উপসর্গযোগে 'অপয়া' শব্দটি গঠিত হয়, যার অর্থ- কুলক্ষণযুক্ত। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। আবার 'পূর্ণ' শব্দের আগে 'পরি' উপসর্গযোগে 'পরিপূর্ণ গঠিত হয়, যার অর্থ- সামগ্রিকভাবে ভরপুর। এখানে শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ হয়েছে। এভাবে সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি উপসর্গের দ্বারা বাংলা ভাষায় নিত্য নতুন শব্দ গঠিত হচ্ছে। এ সকল দিক বিবেচনায় বলতে পারি, উপসর্গের ব্যবহার বাংলা শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
দম্পতি = দ্বন্দ্ব = জায়া ও পতি
মনগড়া = তৃতীয় তৎপুরুষ = মন দ্বারা গড়া
হাসাহাসি = ব্যাতিহার বহুব্রীহি = হাসিতে হাসিতে যে ক্রিয়া
জনমানব = দ্বন্দ্ব = জন ও মানব
রক্তকমল = উপমিত কর্মধারয় = কমল রক্তের ন্যায়
সপ্তর্ষি = দ্বিগু = সপ্ত ঋষির সমাহার
বিশ্রি = নঞ তৎপুরুষ = নেই শ্রী যার
প্রশান্তি = প্রাদি = প্রকৃষ্ট রূপে শান্তি
Related Question
View Allঅনশন = ন অশন = নঞ তৎপুরুষ সমাস
সপ্তর্ষি = সপ্ত ঋষির সমাহার = দ্বিগু সমাস
পরানপাখি = পরান রূপ পাখি = রূপক কর্মধারয় সমাস
হাটবাজার = হাট ও বাজার = দ্বন্দ্ব সমাস
আয়কর = আয়ের উপর কর = মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ বা একপদীকরণ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে ।
বাংলাভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তাঃ
ভাষা সংক্ষিপ্তকরণঃ সমাস ভাষাকে সংক্ষেপ করে। যেমন: মাস্টার সাহেবের ঘরে আশ্রিত জামাই বাষ্প চালিত যানে ঢাকা গেলেন। না বলে সংক্ষিপ্তাকারে আমরা বলতে পারি - মাস্টার সাহেবের ঘরজামাই বাষ্পযানে ঢাকা গেলেন।
নতুন শব্দ গঠনঃ সমাস নতুন নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: জায়া ও পতি মিলে নতুন শব্দ দম্পতি
ভাষার শ্রুতিমধুরতা বৃদ্ধিঃ সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর, প্রাঞ্জল ও ছন্দময় করে তোলে। যেমনঃ 'রাজা সিংহ চিহ্নিত আসনে বসে আছেন' না বলে ‘রাজা সিংহাসনে বসে আছেন' বললে বাক্যটি শ্রুতিমধুর হয়।
তুলনাকরণঃ দুই পদের মধ্যে তুলনা বোঝাতেও সমাস ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন: বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু সহচর শব্দ গঠনঃ সমাসের মাধ্যমে সহচর শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সোনা ও রুপা = সোনারুপা ।
রাজর্ষি = যিনি রাজা তিনিই ঋষি (কর্মধারয় সমাস)।
অহি-নকুল = অহি ও নকুল (দ্বন্দ্ব সমাস)।
সতীর্থ = সমান তীর্থ যাদের (বহুব্রীহি সমাস)।
শিক্ষামন্ত্রী = শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)।
প্রগতি = প্র (প্রকৃষ্ট) গতি (প্রাদি সমাস)।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!