'হিন্দু' শব্দটি সিন্ধু শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
বৈদিক শিক্ষায় কর্ম ও জ্ঞান এ দুই মতের সংযোগ স্থাপন করে যে শাস্ত্রের সৃষ্টি হয় তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে। স্মৃতিশাস্ত্রে হিন্দুসমাজ পরিচালনার বিধি-বিধান সন্নিবেশিত রয়েছে। এতে রয়েছে ব্রহ্মচর্য আশ্রমে বিদ্যাশিক্ষা ও সংযম কীভাবে করতে হয় সেসব নিয়মকানুন। এছাড়া রয়েছে প্রথম দুই আশ্রমে কর্মযোগ ও শেষের দুই আশ্রমে জ্ঞানযোগের পরিচয়ের বর্ণনা।
আমি যদি জাগতিক জীবনে মঙ্গল লাভ করতে চাই তাহলে বৈদিক যুগের ধর্মবৈশিষ্ট্যকে বেছে নিব।
হিন্দুধর্মের বিকাশমান বৈশিষ্ট্যটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত- বৈদিক যুগ, পৌরাণিক যুগ ও আধুনিক যুগ। বৈদিক যুগের উদ্দেশ্যই ছিল জাগতিক জীবনে মঙ্গল লাভ করা। উদ্দীপকের ছকে হিন্দুধর্মের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশে তিনটি যুগের নাম তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমে আসে বৈদিক যুগ। ধর্মের সংজ্ঞায় জানা যায়, যা থেকে জাগতিক কল্যাণ এবং পারমার্থিক মঙ্গল লাভ হয় সেটিই ধর্ম। এটি সনাতন তথা হিন্দুধর্মের মূল ভিত্তি। বৈদিক যুগের ঋষিদের ধর্মীয় চিন্তাচেতনায় জাগতিক এবং পারমার্থিক উভয়বিধ কল্যাণ অর্জনের উদ্দেশ্য নিহিত ছিল। বৈদিক যুগে ঋষিগণ ছিলেন সুখবাদী, জীবনবাদী। বৈদিক যুগের প্রার্থনায় দেখা যায়, জীবনে সমৃদ্ধি, জীবের প্রতি স্নেহপ্রীতি এবং জগতের শান্তি কামনা। এই প্রার্থনাগুলোর মধ্যে দিয়ে এক পরমশক্তি ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করা হয়েছে। এ যুগেই ঋষিগণ উপলব্ধি করেন যে, মোক্ষলাভই মানবজীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। তাই বলা যায়, আমি যদি জাগতিক জীবনে মঙ্গল লাভ করতে চাই তাহলে উক্ত বৈদিক যুগের ধর্ম বৈশিষ্ট্যকেই বেছে নিব।
আধুনিক যুগে বিভিন্ন মহাপুরুষের উপাসনা হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মাঝে সামাজিক ও ধর্মীয় মতভেদ সৃষ্টি করছে- প্রশ্নের এরূপ উক্তির সাথে আমি একমত।
আধুনিক ধর্ম সংস্কারের যুগে নানা মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটে এবং নানা মতেরও প্রচলন হয়। ফলে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা নানা মহাপুরুষের মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হতে থাকে এবং নানাজন নানামতে দীক্ষিত হতে থাকে। এতে করে তাদের মাঝে সামাজিক ও ধর্মীয় মতভেদ তৈরি হতে থাকে। প্রশ্নের উক্তিতে এ বিষয়টিই তুলে ধরা হয়েছে। আধুনিক যুগের সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় লক্ষ করেন যে, বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে এক হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীচিন্তায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মকে একমাত্র আরাধ্য করে তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করলেও সাধারণ মানুষ তাদের প্রচলিত বিশ্বাস ও পূজা-পার্বণ ত্যাগ করতে পারেনি। এদের অনুভূতিতে শক্তি সঞ্চারিত হয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সাকার মাতৃসাধনার সাফল্য দ্বারা। এরপর আবির্ভাব ঘটে স্বামী বিবেকানন্দের। তাঁর আদর্শ শুধু হিন্দুধর্মের প্রেক্ষাপটে নয় বরং বিশ্ব মানবতার ক্ষেত্রেও সমানভাবে ক্রিয়াশীল। ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হরিচাঁদ ঠাকুর সকলকে এক হরিণামে মেতে থাকার আহ্বান জানান এবং মতুয়াবাদের উদ্ভব ঘটান। পরবর্তীতে হিন্দুধর্ম বিকাশের ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমভক্তির ধর্ম তথা আন্দোলনটি বিশেষ অবদান রাখে। এছাড়া শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ইসকন, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ, স্বামী স্বরূপানন্দ ও স্বামী প্রণবানন্দের জীবনাদর্শ এবং বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মাঝে নানা মতভেদ তৈরি করে দেয়। সার্বিক আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, প্রশ্নের, উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ।
Related Question
View Allভগবান স্বয়ং বা তাঁর কোনো দেব-দেবী মনুষ্যাদির মূর্তি ধারণ করে ভগবানের অপ্রাকৃত নিত্যধাম থেকে নেমে আসাকে অবতার বলা হয়। আর অবতার সম্পর্কে যে দার্শনিক চিন্তাভাবনা, তা অবতারবাদ নামে পরিচিত।
বেদ ও উপনিষদে বলা হয়েছে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ব্রহ্ম বা ঈশ্বর একাধিক নয়। এই যে এক ঈশ্বরে বিশ্বাস, তাকে একেশ্বরবাদ বলে। আবার অবতার ও দেব-দেবী একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এ বিশ্বাসই একেশ্বরবাদ। সুতরাং একেশ্বরবাদ হিন্দুধর্মের একটি বিশ্বাস।
শংকর স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি 'অযাচক আশ্রম' এর প্রতিষ্ঠাতা। এ আশ্রমে অন্যের কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না; এরা নিজেদের অর্থের সংস্থান নিজেরাই করেন। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শকে রূপদান করার লক্ষ্যে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, "আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব।" শংকর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে অযাচক আশ্রমের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
উদ্দীপকের আলোচিত মহাপুরুষ হচ্ছেন শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস। তিনি ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি 'অযাচক আশ্রম' এর প্রতিষ্ঠাতা। অযাচক আশ্রমের বৈশিষ্ট্য হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনায় চরিত্র, গঠন, সমাজ সংস্কার, ব্রহ্মচর্য স্বাবলম্বন ও জগতের কল্যাণের কাজে নিযুক্ত থাকা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে অর্থ যাচঞা না করা এ সংগঠনের আদর্শ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগিতায় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শকে রূপদান করার লক্ষ্যে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, "আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব।" স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শ থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, সকলকে সমানভাবে ভালোবাসতে হবে। স্বামী স্বরূপানন্দ রচিত গ্রন্থাদি ও সংগীত সমাজের কল্যাণ সাধনে বিশেষ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছে।
কারও অনিষ্ট কামনা না করে সকলকে মন থেকে ভালোবাসাকেই অহিংসা বলে।
হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্মনীতি থেকে মতুয়া ধর্মের উদ্ভব হলো। হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিণামে যেতে থাকার আহ্বান জানান। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিণামে মেতে থাকা। হরিণামই জগতে কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে আবশ্যক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!