প্রতিটি জীবকোষ প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত।
ভিটামিন এক প্রকার জৈব পদার্থ যা প্রকৃতিজাত খাদ্যে পাওয়া যায়।
শরীরের সুস্থতা ও বৃদ্ধির জন্য ভিটামিনের প্রয়োজন। ভিটামিন শরীরে খুব সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন। কিন্তু এর অভাবে দেহে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়। এ সামান্য পরিমাণ ভিটামিন খাদ্যের মাধ্যমে দেহে শোষিত হয়ে প্রাণির দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
ছকের '?' চিহ্নিত স্থান খাদ্যকে নির্দেশ করছে।
খাদ্য হচ্ছে জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা গ্রহণ করলে দেহের শক্তি উৎপাদন, ক্ষয়পূরণ ও ও বৃদ্ধিসাধন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। খাদ্য দেহের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ না করলে আমাদের কাজ করার শক্তি ও উৎসাহ নষ্ট হয়ে যায়।
খাদ্য আমাদের দেহের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন করে। দেহের ক্ষয়পূরণ করে থাকে। তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে থাকে খাদ্য। এছাড়া খাদ্য আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এর পাশাপাশি খাদ্য দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ছকে আমরা দেখতে পাই, দেহের ক্ষয়পূরণ, দেহের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির কথা বলা হয়েছে। খাদ্য আমাদের দেহে এসকল কাজ করে থাকে। তাই বলা যায়, '?' চিহ্নিত স্থানটি খাদ্যকে নির্দেশ করছে।
ছকে খাদ্যের ক্ষয়পূরণ, গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি এ কাজগুলোর কথা বলা হয়েছে।
খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের কাজও করে থাকে। এগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আমাদের প্রতিদিনের কাজকর্ম ও চলাফেরায় তাপ ও শক্তি দরকার হয়। খাদ্য হতে প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের কোষে পুড়ে তাপশক্তি উৎপন্ন করে। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য থেকে আমরা তাপ ও শক্তি পেয়ে থাকি। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ, খাদ্যের পরিপাক, রক্ত সঞ্চালন, মাতৃস্তনে দুধ তৈরি কাজগুলোর জন্যও শরীরে শক্তি প্রয়োজন হয়। এই শক্তি শরীর খাদ্যের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। আমাদের শরীরের এনজাইম ও হরমোনগুলো শরীরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। দেহের অভ্যন্তরে এনজাইম ও হরমোনের সক্রিয়তার প্রয়োজন। এনজাইম ও হরমোন গঠনে প্রোটিন ও ধাতব লবণের ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া দেহের বিপাকের জন্য, শরীর সঞ্চালন, নতুন কোষ কলার গঠন ইত্যাদি কাজে কিছু পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যেমন- খাদ্যের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, খনিজ লবণ, প্রোটিন, পানি ইত্যাদি।
অতএব দেখা যায় যে, আমাদের দেহ অভ্যন্তরে সুষ্ঠুভাবে ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যের প্রয়োজন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allশরীর গঠন, বর্ধন ও রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রোটিন।
আমিষ দেহকোষের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন করে। তাই দেহ গঠনের জন্য আমাদের আমিষ খেতে হয়। এছাড়া আমাদের কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়পূরণ করে নতুন কোষ গঠন করে আমিষ তাই দেহের ক্ষয়পূরণ করতে আমরা আমিষ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকি।
মালিহার পছন্দকৃত খাদ্য কার্বোহাইড্রেট উপাদান সমৃদ্ধ। কার্বোহাইড্রেট প্রাণিদেহের মূল শক্তির উৎস। আমাদের খাদ্যের ৬০% - ৭০% তাপশক্তি এ জাতীয় খাদ্য থেকে পেয়ে থাকি। কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস চাল, গম, আলু, মিষ্টি আলু, সাগু, সুজি, বার্লি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মালিহার পছন্দের খাবার হচ্ছে সুজি, বার্লি, আলু। এ খাদ্যগুলো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। কার্বোহাইড্রেটের প্রথম ও প্রধান কাজ তাপ ও শক্তি উৎপাদন। প্রোটিন, ভিটামিন ও ধাতব লবণ প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট। স্নেহ পদার্থের দহনে সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। দেহে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্লাইকোজেনরূপে যকৃতে জমা থাকে এবং প্রয়োজনবোধে দেহের কাজে ব্যবহৃত হয়। মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হিসেবে কার্বোহাইড্রেটের ভূমিকা অপরিসীম। সেলুলোজ নামক কার্বোহাইড্রেট দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
মিসেস তানিয়ার দুই মেয়েকে নিয়ে উদ্বিগ্নের কারণ হলো তাদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে অনীহা।
দেহের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য সবধরনের খাদ্য উপাদান অপরিহার্য। কারণ খাদ্যের ছয়টি উপাদানের কার্যকারিতা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই সবধরনের খাদ্য উপাদান গ্রহণ না করলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকে সুস্থ, সবল, সচল ও রোগমুক্ত রাখার জন্য আমাদের খাদ্যগ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে এ খাদ্য সকল পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য দেহে শক্তি উৎপাদন করে। প্রোটিন দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে। স্নেহজাতীয় খাদ্য তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে, ভিটামিন জাতীয় খাদ্য দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খনিজ উপাদানসমূহ প্রধানত দেহ গঠন, দেহের জৈবিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের কাজে সহায়তা করে। খাদ্য উপাদানগুলো অর্থাৎ প্রতিটি খাদ্য উপাদান ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকে। তাই দেহে সঠিক পুষ্টি উপদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সবধরনের খাদ্য গ্রহণ। তা না হলে পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। মিসেস তানিয়ার দুই মেয়ে সাবিহা ও মালিহা সব ধরনের খাবার খেতে চায় না। সাবিহা মাছ, মাংস ছাড়া অন্য কিছু খেতে চায় না। মাছ, মাংস থেকে সাবিহা শুধুমাত্র প্রোটিন লাভ করবে। কিন্তু অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে সে বঞ্চিত হবে। এর ফলে সে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তার শারীরিক গঠন বাঁধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, মালিহা সুজি, বার্লি, আলু খেতে পছন্দ করে। এগুলো থেকে সে কার্বোহাইড্রেট পাবে। কিন্তু অন্যান্য উপাদানের জন্য তাকে সবধরনের খাবারই খেতে হবে। মিসেস তানিয়ার মেয়েরা খাদ্য থেকে সবধরনের পুষ্টি চাহিদা মিটাতে পারছে না। তাই তিনি তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন কারণ এভাবে চলতে থাকলে তারা বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।
পরিশেষে বলা যায়, শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য আমাদের সব ধরনের খাদ্যই গ্রহণ করতে হবে।
খাদ্যে অবস্থিত জৈব রাসায়নিক উপাদান যা ঐ খাদ্যের গুণাগুণের জন্য দায়ী সেই উপাদানগুলোকে পুষ্টি উপাদান বলে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের ভিটামিন 'ডি' এর অভাব হলে যে রোগের সৃষ্টি হয় তাকে অস্টিওম্যালেসিয়া বলে।
অস্টিওম্যালেসিয়া রোগে অস্থির ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের সঞ্চয় সম্পূর্ণই নিঃশেষ হয়ে যায়। দেহের হাড় খুব নরম, ঝাঁঝরা ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়। অল্পতেই ভেঙে যায়। হাত-পা, কোমর, মেরুদণ্ডের হাড়ের গঠনে এরকম ত্রুটি থাকলে ব্যথা হয়। শেষ অবস্থায় পায়ের হাড় ও মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!