কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়িভাবে বসবাসের জন্য যে অবয়ব তৈরি করে তাকেই বসতি বলে।
শিল্পাঞ্চলে পুঞ্জীভূত বসতি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কমংসংস্থানের সুযোগ।
পুঞ্জীভূত বসতি শিল্পকে কেন্দ্র করে বৃহৎ গুচ্ছের মতো জমাটবদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠে। কোনো স্থানে শিল্প স্থাপিত হলে সে অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার (যেমন- কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিক্ষা, বিনোদন, চিকিৎসা প্রভৃতি) কারণে মানুষ শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বসতি স্থাপন করতে চায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্থানের বসতি হচ্ছে সারিবদ্ধ বা সরলরৈখিক বসতি।
যেসব বসতি এলাকার ঘরগুলো কোনো প্রাকৃতিক কারণে পাশাপাশি অবস্থিত হয়ে বহুদূর পর্যন্ত একটি দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন আকারে থাকে তাকে সারিবদ্ধ বসতি বলে। নদীর পার্শ্ববর্তী প্রাকৃতিক বাঁধ, রাস্তা বা রেলপথের উভয় পাশে বা দেশের উপকূলভাগে অবস্থিত বালিয়াড়ির পিছনে সরল রেখার আকারে সারিবদ্ধ বসতি গড়ে ওঠে। এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ হলো বসতির মধ্যে কিছুটা ফাঁকা স্থান থাকে। এ স্থানটুকু কৃষি খামার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একদিকে নদী অন্যদিকে কৃষি খামার থাকার দরুন এসব অঞ্চলে নদী ও রাস্তা ঘেঁষে
অনেক পরিবার এসে তাদের বসতি নির্মাণ করে থাকে। তাছাড়া পানির পর্যাপ্ততা ও কৃষি জমির উপস্থিতি থাকায় এ অঞ্চলে ফসল খুব ভালো জন্মে। যার ফলে এসব অঞ্চলে মানুষ বসতি নির্মাণ করতে থাকে। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় এ ধরনের বসতি নদীর তীর ঘেঁষে অনেকটা সারিবদ্ধ বা সরলরৈখিক আকারে পরিণত হয়। আবার কিছু কিছু বসতি রাস্তা রেলপথের উভয় পাশে ঘেঁষে স্থাপন করতে দেখা যায়।
মূলত পানি ও কৃষিজমির সহজলভ্যতার কারণেই সারিবদ্ধ বা সরলরৈখিক বসতি গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে 'ক' স্থানের বসতি হচ্ছে বিক্ষিপ্ত বসতি। অন্যদিকে 'খ' স্থানের বসতি হচ্ছে সরলরৈখিক বসতি। দুটি স্থানে দু' ধরনের বর্সতি গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভূপ্রকৃতিগত ভিন্নতা। নিচে দুটি স্থানে দু'ধরনের বসতির বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
'ক' বসতি/বিক্ষিপ্ত বসতি সাধারণত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি বাড়ি থেকে আরেকটি বাড়ি বেশ দূরে অবস্থিত। এছাড়া এ বসতির ক্ষেত্রে কৃষিভূমিগুলো বাড়ির কাছে থাকায় কৃষিজমি দেখাশুনা করতে কৃষকের সুবিধা হয়। তাছাড়া এসব বসতির মাঝে অনেকগুলো নদীর সঙ্গমস্থল হওয়ায় এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের স্রোতজ বনভূমি অঞ্চল এবং পাহাড়িয়া অঞ্চলে 'ক' আকৃতির অর্থাৎ বিক্ষিপ্ত বসতি দেখতে পাওয়া যায়।
পক্ষান্তরে, 'খ' বসতি/সরলরৈখিক বসতির ঘরগুলো কোনো প্রাকৃতিক কারণে পাশাপাশি হয়ে বহুদূর পর্যন্ত একটি দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন আকারে থেকে সারিবদ্ধ বা সরলরৈখিক বসতি গঠন করে। সাধারণত এ ধরনের বসতি নদীর পার্শ্ববর্তী প্রাকৃতিক বাঁধ, রাস্তা বা রেলপথের উভয় পার্শ্বে বা দেশের উপকূল ভাগে অবস্থিত বালিয়াড়ির পেছনে সরলরেখা আকারে গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর পাশে এ ধরনের বসতি দেখা যায়। এছাড়া সিলেটের হাওর বা অশ্বখুরাকৃতি হ্রদের পাশে এ ধরনের বসতি দেখা যায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দুটি বসতির মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।
Related Question
View All৫০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট নগরকে মেগাসিটি বলে।
গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের উদ্বৃত্ত পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বীকৃত জনজমায়েতকে গ্রামীণ হাট বলে।
গ্রামীণ জীবনযাত্রায় হাটের ভূমিকা অসামান্য। বৃহত্তর অর্থে গ্রামীণ পরিসরে হাট হচ্ছে আর্থসামাজিক স্নায়ুকেন্দ্র। এ হাটের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ভোগ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মানুষের উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রয় এবং চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ক্রয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাটের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি হলো ঢাকা, যা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু।
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন হয়। ঢাকায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি গড়ে উঠেছে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরও ঢাকায় অবস্থিত। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও ঢাকায় অবস্থিত।
এক কথায় বাংলাদেশের যাবতীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই ঢাকাকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু বলে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো ঢাকা অঞ্চল এবং 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো রাজশাহী অঞ্চল। এ উভয় অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যা ঘনত্বের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
ঢাকা হলো সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। বাংলাদেশের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকায়। এর আয়তন ৩১,১২০ বর্গ কি.মি. এবং জনসংখ্যা ৪,৯৩,২১,৬৮৮ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব। ১,৫১২ জন। মোট নগর সংখ্যা ৪০টি। ঢাকায় প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যাপক আকারে থাকায় এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত সুবিধা সরকারি বেসরকারি অফিসের অবস্থান; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সদর দপ্তরের অবস্থান, বড় বড় হাসপাতাল, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি ব্যাপক আকারে থাকায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। তাই ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
অন্যদিকে রাজশাহী হলো বাংলাদেশের তৃতীয় জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের আয়তন ১৮,১৯০ বর্গ কি.মি.। মোট জনসংখ্যা ১,৯২,২৫,৯০৯ জন এবং ঘনত্ব ১,০১৮ জন। এ অঞ্চলে ৮টি নগর রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় বসবাসের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করলেও ঢাকার মতো এত ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কিছু নিয়ামকের তারতম্যের জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্য হয়।
যে বসতিতে একটি পরিবার অন্যান্য পরিবার থেকে বহু দূরে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ হাটগুলো গড়ে ওঠার পেছনে কারণগুলো হলো স্থানীয় চাহিদার উদ্বৃত্ত চালান, দূরবর্তী পরিব্রাজক সেবা প্রদান, অনুকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদনদীর অবস্থান, চাহিদার তারতম্য প্রভৃতি l
যে অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি উর্বর, রাস্তাঘাট কাঁচাপাকা বা আধাপাকা এবং কয়েকটি অঞ্চলের সাথে সড়ক ও নদীপথে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা থাকে সেসব অঞ্চলে হাটগুলো গড়ে উঠেছে। বেশিরভাগ হাট গড়ে উঠে বাজারসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মধ্যে উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের মধ্যে তারতম্য হলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
