একটি ইলেকট্রনের প্রকৃত ভর 9.11 10-28g|
2016 সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে 11৪টি মৌল আবিষ্কার করা হয়েছে। এসকল মৌলের সকল ধর্ম মনে রাখা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু পর্যায় সারণি সে কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছে। এ পর্যায় সারণিতে রয়েছে আঠারোটি গ্রুপ আর সাতটি পর্যায়। প্রতিটি গ্রুপের সাধারণ ধর্ম জানলে 11৪টি মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম সম্বন্ধে একটি মোটামুটি ধারণা লাভ করা যায়।
গবেষণার ক্ষেত্রেও পর্যায় সারণির অসামান্য অবদান রয়েছে। কোনো একজন বিজ্ঞানী কোনো একটি বিশেষ প্রয়োজনের জন্য নতুন একটি পদার্থ আবিষ্কার করতে চাইছেন। তাহলে আগেই তাঁকে ধারণা করতে হবে যে, নতুন পদার্থটির ধর্ম কেমন হবে এবং সেই সকল ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করতে কী ধরনের মৌল প্রয়োজন হবে। তার এ ধারণা পর্যায় সারণি থেকেই পাওয়া যাবে।
অ্যালকোহল হলো দাহ্য পদার্থ। এটি আগুনের সংস্পর্শে দ্রুত প্রজ্বলিত হয় এবং বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন করে।
এ জাতীয় পদার্থকে কোনো অবস্থাতেই আগুনের কাছে রাখা যাবে না। যে স্থানে এ জাতীয় পদার্থ সংরক্ষণ করা হয় সেখানে অবশ্যই স্বাভাবিক বায়ু চলাচল ও পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে রক্ষিত উপাদানের রেকর্ড কপি ফায়ার সার্ভিসে সরবরাহ করা খুবই জরুরি। আর উদ্দীপকের (ii) নং প্রতীকটি একটি চতুর্ভুজ কাঠামোর মধ্যে আগুনের প্রজ্জ্বলিত শিখা দ্বারা দাহ্য পদার্থের বিপদ সংকেত নির্দেশ করে। তাই (ii) নং প্রতীকটি অ্যালকোহলের জন্য উপযোগী।
নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) একটি বর্ণহীন, মৃদু মিষ্টি গন্ধ বিশিষ্ট গ্যাস। একে. লাফিং (laughing gas) গ্যাস ও বলা হয়। তবে, এটি একটি উত্তেজক পদার্থ হিসেবে পরিগণিত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে এটি চোখ, নাক এবং শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি সাধন করে। অধিকন্তু, এ গ্যাস লিভার, কিডনি ও রক্তের কোষের ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই, এ গ্যাসটিকে কোন অবস্থায়ই খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না। এটির ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস এগুলো ব্যবহার করতে হবে। তাই, উদ্দীপকের (iv) নং প্রতীকটি দ্বারা উত্তেজক পদার্থ হিসেবে এই গ্যাসটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের (ⅰ) ও (iii) নং চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থগুলো যথাক্রমে স্বাস্থ্যঝুঁকি পূর্ণ ও বিস্ফোরক পদার্থকে নির্দেশ করে। এদের সংরক্ষণ ও সাবধানতা ছকের মাধ্যমে নিচে দেয়া হলোঃ
স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে এমন কিছু পদার্থ হচ্ছে ক্লোরোফরম, বেনজিন, টলুইন, জাইলিন প্রভৃতি।
![]() | সংরক্ষণ: (ⅰ) সর্বসাধারণের নাগালের বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। সাবধানতা: (i) ব্যবহারের সময় হাতে গ্লাভস, চোখে নিরাপদ চশমা ও নাকে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। |
![]() | বিস্ফোরক পদার্থগুলো সামান্য নাড়াচাড়া বা সামান্য চাপ জনিত কারণে অথবা নিজে নিজেই বিস্ফোরিত হতে পারে। কয়েকটি বিস্ফোরক পদার্থ হলো : জৈব পার অক্সাইড, ট্রাইনাইট্রোটলুইন (TNT), নাইট্রোগ্লিসারিন। সংরক্ষণ: (i) এসব রাসায়নিক পদার্থ খুব সাবধানে নিরাপদ স্থানে ল্যাবরেটরীর এক পাশে সংরক্ষণ করা উচিত। সাবধানতা: (i) ব্যবহারের সময় সাবধানে নাড়াচাড়া করা উচিত। |
সুতরাং, বিভিন্ন পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা বুঝে এদের যথাযথ সংরক্ষণ করতে হবে এবং ব্যবহার করার পূর্বে যথার্থ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
তোমরা যারা নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তারা রসায়ন বইটি হাতে পেয়েছো। বইটি হাতে পেয়ে কিছু প্রশ্ন তোমাদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে— রসায়ন বিষয়টি কী? কেনই-বা আমরা রসায়ন পড়ব? অর্থাৎ রসায়ন আমাদের কী কাজে লাগে? রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার কি কোনো সম্পর্ক আছে? এসব বিষয়ের উত্তর এ অধ্যায়টি পড়লে জানতে পারবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- রসায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
- রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলোর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- রসায়ন পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নে অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার বর্ণনা করতে পারব।
- বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমিত সিদ্ধান্ত গঠন ও পরীক্ষা করতে পারব।
- রসায়নে ব্যবহারিক কাজের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব।
- প্রকৃতি ও বাস্তব জীবনের ঘটনাবলি রসায়নের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করতে আগ্রহ প্রদর্শন করব।
Related Question
View Allপরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো কিছু জানার চেষ্টাই হলো গবেষণা।
কাঁচা অবস্থায় আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে। যেমন- অ্যাসকরবিক এসিড, সাইট্রিক, ম্যালিক, অক্সালিক এসিড। তাই কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কিন্তু আম যখন পাকে তখন আমে বিদ্যমান এই এসিডগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে (মিষ্টি) পরিণত হয়। ফলে পাকা আম হয় মিষ্টি।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ঔষধ সেবন করছে।
প্রতিটি ঔষধই কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়। যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তথা ওষুধ সেবন করি। যেমন: জ্বর হলে আমরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাই। প্যারাসিটামল একটি রাসায়নিক যৌগ, এর রাসায়নিক নাম acetaminophen বা, 4-হাইড্রোক্সি অ্যাসিট্যানিলাইড। এটি আমাদের পাকস্থলিতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করলে আমরা আইবুপ্রফেন খাই।
এ রাসায়নিক যৌগটি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
তাছাড়া আমরা কৃমিনাশক হিসেবে যে ওষুধ খাই, তাও রাসায়নিক যৌগ। এছাড়াও টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, কাশি, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ যত প্রকার অসুখ আছে, তার প্রত্যেকটির প্রতিষেধক হিসেবে আমরা যে ওষুধ সেবন করি, তা কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১ম চিত্রটি অর্থাৎ ওষুধ সেবন, রসায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে ওষুধ সেবন ও B নং চিত্রে সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর ছবি দেখানো হয়েছে। এই দুইটি ছবি পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিক্ষেতে পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে গ্যামাক্সিন (C6H6Cl6), ডিডিটি (D.D.T.), অ্যালড্রিন, ক্লোরডেন, ম্যালাথায়ন, প্যারাথায়ন অন্যতম। এগুলো যখন সবজি ক্ষেতে বিদ্যমান পোকা মাকড়, কীটপতঙ্গ। মারার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কারণ ঐ সমস্ত কীটনাশক যখন জমিতে ছিটানো হয়, তখন সেগুলো বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এই দূষিত বাতাস মানুষ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ঐ সমস্ত কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা যেমন- মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, চোখ-জ্বালাপোড়া করা, পেটের পীড়া, বদহজম ইত্যাদি দেখা দেয়।
ঐ সমস্ত কীটনাশক মাটিতে মিশে মাটিকেও দূষিত করে। ফলে জমির। উর্বরতা নষ্ট হয়, জমিতে ভাল ফসল হয় না। আবার বৃষ্টি হলে ঐ সমস্ত কীটনাশক পুকুরে, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সাথে মিশে, পানিকে দূষিত করে। ফলে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মরে যায় এবং পুকুর, নদীতে বিদ্যমান বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শেওলাও মরে যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে তখন এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তখন এন্টাসিড খাওয়া হয়। কারণ এন্টাসিডে থাকে ক্ষারীয় অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

