বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হওয়ার কারণ মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে গঙ্গা নদীটি পদ্মা নামে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
উদ্দীপকের 'ক' অংশে যে ঋতু উল্লেখিত হয়েছে তা হলো গ্রীষ্মকাল। বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। গ্রীষ্মকালে এ দেশে জলবায়ুগত যেসব বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তা কালবৈশাখী বৃষ্টিপাতের অনুকূল।
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এ সময় তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৪° সেলসিয়াস হয়। গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রা কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির অনুকূল, যা থেকে বৃষ্টিপাত হয়। এ সময়ের গড় বৃষ্টিপাত ৫১ সেন্টিমিটার। এ সময় দক্ষিণ দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ অধিক উত্তাপের প্রভাবে উপরে ওঠে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুল্ক বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে উক্ত বায়ুর সংঘর্ষের ফলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়। মূলত গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর কারণে বাংলাদেশের তাপমাত্রা সমভাবাপন্ন থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' চিহ্নিত ঋতু হলো গ্রীষ্মকাল আর 'খ' চিহ্নিত ঋতু হলো বর্ষাকাল। কৃষিক্ষেত্রে সব ঋতুর অবদান সমান নয়। আমার মতে, বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বর্ষাকালের অবদান অন্যান্য ঋতুর তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি।
বর্ষাকালে আকাশে মেঘ থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয় না। বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ থাকে। এ জলীয়বাষ্প শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এ সময় হয়ে থাকে।
ফসল উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বৃষ্টিপাতের পানি নদীতে পড়ে প্রচুর পলিবাহিত হয়ে কৃষিভূমি খুবই উর্বর করে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাত না হলে জমিতে খরার সৃষ্টি হয় এবং ভূমির উর্বরতা ক্রমশ হ্রাস পায়। ফলে কোনো ফসলই ভালো হয় না। অনেক সময় কোনো কোনো ফসলের বীজের অঙ্কুরোদগমে মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে বৃষ্টিপাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, কৃষি ফসল উৎপাদনে বর্ষাকালের ভূমিকা অপরিসীম
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মধ্যভাগ দিরে অতিক্রম করেছে। এখানকার বিভিন্ন ধরনের ভূপ্রকৃতি, অনেক নদ-নদী, বঙ্গোপসাগরের অবস্থান এবং ঋতুভিত্তিক পরিবর্তিত জলবায়ু নানান বৈচিত্র্য আনয়ন করেছে।
বাংলাদেশের অবস্থানঃ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশ ২০° ৩৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ১২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
আয়তন (Area) : বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমানা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডে ১০,০৪১.২৫ একর জমি যোগ হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৯৯৬-৯৭ সালের তথ্য অনুসারে দেখা যায়, বাংলাদেশের নদী অঞ্চলের আয়তন ৯,৪০৫ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চলের আয়তন ২১,৬৫৭ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে উপকূল অঞ্চলে বিশাল এলাকা ক্রমান্বয়ে জেগে উঠেছে। ভবিষ্যতে দক্ষিণ অংশের প্রসার ঘটলে বাংলাদেশের আয়তন আরও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল, অর্থনৈতিক একান্ত অঞ্চল ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং সামুদ্রিক মালিকানা মহীসোপানের শেষ সীমানা পর্যন্ত ।
| মিয়ানমার ও ভারতের দাবিকৃত সমদূরত্ব পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ১৩০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তাতে বাংলাদেশ পেত ৫০,০০০ বর্গকিলোমিটারের কম জলসীমা। বঙ্গোপসাগরের জলসীমা নির্ধারণ ও সমুদ্র | সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে মিয়ানমারের বিপক্ষে জার্মানির হামবুর্গে | অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে এবং ভারতের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত সালিশ ট্রাইব্যুনালে মামলা | দায়ের করে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গত ১৪ই মার্চ, ২০১২ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের ন্যায্যভিত্তিক দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক রায় পায়। এ রায়ের ফলে বাংলাদেশ প্রায় এক লক্ষ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জলসীমা পেয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপকে উপকূলীয় বেজলাইন ধরে ১২ নটিক্যাল মাইল রাষ্ট্রাধীন | সমুদ্র এলাকা (Territorial sea) এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone) পেয়েছে। প্রাপ্ত এই জলরাশি ও তলদেশে এবং তার বাইরে মহীসোপান এলাকার সকল খনিজ সম্পদে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এই হিসেবে উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরের তলদেশে বাংলাদেশের মহীসোপান রয়েছে (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)। অর্থাৎ বাংলাদেশের | উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার ভৌগোলিক নাম মহীসোপান । |
সীমা : বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার (চিত্র ১০.১)। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণ- পূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।
কাজ : নিচের ছকটি জোড়া দলে পূরণ কর।
|
বাংলাদেশের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাগত অবস্থান কত? |
বাংলাদেশের আয়তন কত? |
অর্থনৈতিক একান্ত অঞ্চলের ব্যাপ্তি কত? |
টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমার ব্যাপ্তি কত? | বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সঙ্গে মালিকানা বাংলাদেশের তটরেখার দৈর্ঘ্য কত? |
সামুদ্রিক মালিকানা মহীসোপানের কোন অংশ পর্যন্ত |
|
|
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!