সামাজিক সংগঠন তথা সমাজ কাঠামো ও এর কার্যাবলির পরিবর্তনকে সামাজিক পরিবর্তন বলে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিশেষ ঘটনাকে বোঝায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বর্তমান পৃথিবীতে পরিবেশগত প্রধান সমস্যাসমূহের মধ্য অন্যতম। পরিবেশ দূষণ, বৃক্ষ নিধন, গ্রিন হাউস ইফেক্ট প্রভৃতির ফলাফল হিসেবে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একশত বছর পূর্বের গড় তাপমাত্রার তুলনায় বর্তমানে প্রায় ০.৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৃথিবীর ২ মেরুতে জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীব্যাপী এভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও এর প্রভাবগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের তথ্যচিত্র-১-এ সামাজিক পরিবর্তনের 'শিক্ষা' উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের। সদস্যদের মাঝে শিক্ষা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনাবোধ ক্ষমতা জাগ্রত করে। যাবতীয় অন্ধ্যাত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার থেকে শিক্ষা মুক্তি দিয়ে থাকে। যেমন- নারী শিক্ষা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে যা নারীদের স্বাবলম্বী, সচেতন, দক্ষ, উৎপাদনশীল করেছে ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। একইভাবে শিক্ষার ফলে নারীরা হয়ে উঠেছে কর্মমুখী। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। উদ্দীপকের তথ্যচিত্র-১-এ প্রতিফলিত প্রভাবগুলো হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, অন্ধবিশ্বাস দূর ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। উল্লিখিত এসব প্রভাবগুলোর মূলে রয়েছে শিক্ষা, যা সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত প্রভাবসমূহের দ্বারা তথ্যচিত্রে নির্দেশিত সামাজিক পরিবর্তনের উপাদানটি হলো শিক্ষা।
হ্যাঁ, তথ্যচিত্র-২-এ নির্দেশিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ উপাদানটির ইতিবাচক ভূমিকা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক বলে আমি মনে করি। শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতিও সমাজে রূপান্তরিত হয়। আর শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে। তথ্যচিত্র-২-এ উল্লিখিত প্রভাবসমূহ তথা বস্তি সৃষ্টি, শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি ও অপরাধ বৃদ্ধি হলো সমষ্টিগতভাবে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সমাজে সৃষ্ট কিছু নেতিবাচক দিক। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কিছু নেতিবাচক দিক থাকলেও এর ইতিবাচক দিকসমূহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিল্প প্রসারের ফলে বেকারত্ব হ্রাস পায়। কেননা শিল্পে শ্রমের যোগান হিসেবে গ্রাম থেকে বেকার কর্মহীন উৎপাদনশীল দক্ষ-অদক্ষ মানুষ নগরমুখী হয়। এভাবে শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। অধিক হারে উৎপাদন বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মূলেও রয়েছে শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অধিক উৎপাদন প্রভৃতির মাধ্যমে জনগণের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে। ফলে শিল্পোৎপাদনে ব্যয় সংকোচ করা সম্ভব হয় ও বিপণনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করা যায়। আর এভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অধিক উৎপাদন প্রভৃতির মাধ্যমে জনগণের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে। এক কথায় যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমার্থক।
তাই বলা যায়, তথ্যচিত্র-২-এ নির্দেশিত উপাদানটির ইতিবাচক ভূমিকা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক বলে আমি মনে করি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allসমাজ কাঠামো ঞ্চাশ্রয় কার্যাবলির পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হলো। শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদয়া ও শ্রমদানা' কার্যক্রমের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা উপাদানের সাথে মিল রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা, বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজ জীবনে বহু কিছু সৃষ্টি করেছে; যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নারীর ভূমিকার পরিবর্তনে সমাজজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্দীপকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে বহু নারীর ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যার ফলে নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেরা আয় করতে পারছে। নারীরা উপার্জিত টাকা পরিবারের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সামাজিক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করছে। নারীর ভূমিকার এই পরিবর্তন নারীকে ক্ষমতায়নে ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বেসরকারি সংস্থা বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। যা নারী উন্নয়ন সংঘ এখন জনসংখ্যারোধ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী তাদের অবস্থার উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
তাই বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় এসে নারীরা সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!