বিশেষ রাসায়নিক গঠনযুক্ত প্রাকৃতিক এবং অজৈব গঠিত বস্তুকে খনিজ বলে।
শক্তির অন্যতম উৎস হলো কয়লা।
উদ্ভিদের দেহাবশেষ হতে কয়লার উৎপত্তি। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদের দেহাবশেষ মাটির নিচে চাপা পড়ে সময়ের বিবর্তনে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় কয়লায় পরিণত হয়েছে। তাই বলা যায় উদ্ভিদের দেহাবশেষ হতে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় কয়লার উৎপত্তি।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো ভারত যেখানে প্রধান খনিজ হলো লৌহ আকরিক।
বর্তমান বিশ্বে আকরিক লৌহ উৎপাদনে ভারতের স্থান দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে চতুর্থ। ২০১১ সালে ২২.৩৯ কোটি মেট্রিক টন লৌহ আকরিক উত্তোলন করে। দেশটির লৌহ খনিগুলো প্রধানত বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য প্রদেশ, কর্নাটক, গোয়া প্রভৃতি অঞ্চলে অবস্থিত। ২০১৫-২০১৬ সালে ভারতে ১২.৯০ কোটি মেট্রিক টন-লৌহ আকরিক উৎপাদন করে। ভারতের অন্যান্য লৌহ খনির মধ্যে (১) মহারাষ্ট্রের রত্নসিরি ও চান্দা অঞ্চল, অন্ধ্র প্রদেশের কুর্নুল, কুডাপ্পা, নেল্লোর, গুন্টুর ও অনন্তপুর প্রভৃতি অঞ্চলেও কিছু কিছু লৌহ আকরিক উৎপন্ন হয়।'
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চল হলো ভারত যেখানে প্রধান খনিজ সম্পদ লৌহ আকরিক।
ভারতের ধাতব খনিজের মধ্যে লৌহ আকরিক প্রধান। লৌহ যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি। কলকব্জা, রেলপথ, মোটরগাড়ি, জাহাজ, গৃহের নির্মাণ কাঠামো নির্মাণে লৌহ ব্যবহৃত হয়। তাই লৌহের আন্তর্জাতিক চাহিদা ব্যাপক। যেসব দেশ লৌহ রপ্তানি করে এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে উন্নত তারা অর্থনৈতিকভাবেও উন্নত। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ লৌহ রপ্তানি করে, অন্যদিকে স্পেন, আলজেরিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশ লৌহ ও লৌহজাত শিল্প আমদানি করে। যেকোনো দেশের কৃষি, শিল্প, পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নতি লৌহ আকরিকের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে লৌহ আকরিক উৎপাদনে প্রসিদ্ধ দেশগুলো অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যথেষ্ট উন্নত।
পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতসমূহ দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই লৌহের ব্যবহার আবশ্যক। তাই বলা যায়, বিশ্ব অর্থনীতিতে লৌহ আকরিকের গুরুত্ব অপরিসীম।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপ্রকৃতিপ্রদত্ত যে সকল পদার্থ হতে শক্তি পাওয়া যায় তাকেই শক্তিসম্পদ বলে।
বাংলাদেশে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি পাওয়া যায়।
যেসব কয়লায় কার্বণের পরিমাণ কম এবং ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি যেসব কয়লাকে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি। নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লায় মধ্যে পিট ও বিটুমিনাস উল্লেখযোগ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ কয়লা ক্ষেত্র থেকে বিটুমিনাস ও পিট জাতীয় কয়লার উত্তোলন করা হয়।
উদ্দীপকে 'ক' খনিজ সম্পদটি হলো লৌহ আকরিক যা সভ্যতার আধুনিকায়ন ও নগরায়ণ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। এশিয়ার মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশে লৌহ আকরিক সঞ্চিত আছে। নিচে এশিয়া মহাদেশে লৌহ
আকরিকের উৎপাদন ব্যাখ্যা করা হলো-
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইরান, জাপান, প্রভৃতি দেশে 'লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। নিচে এসব দেশে ২০১৯ সালে কী পরিমাণ লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয় তা একটি তালিকায় মাধ্যমে তুলে ধরা হলো-
ক্রমিক নং | দেশ | ২০১৯ সাল |
১ | চীন | ৩৫.০০ |
২ | ভারত | ২১.০০ |
৩ | কাজাখিস্তান | ৪.৩০ |
8 | ইরান | ৩.৮০ |
অতএব বলা যায় এশিয়া মহাদেশের বহু দেশ লৌহ আকরিক উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে 'খ' খনিজ সম্পদটি হলো- খনিজ তেল।
ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন শিলা স্তর থেকে উত্তোলিত তেলকে খনিজ তেল বলে। খনিজ তেল বিশ্বব্যাপি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই সারা বিশ্বব্যাপি এর বাণিজ্য কার্যক্রম সচল। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল উত্তোলন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ দ্বিতীয়টি নেই। মৃল্প কয়েকটি দেশ তেল সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং তেলের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ও বহুমুখী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
খনিজ তেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকারেই রপ্তানি করা হয়। অপরিশোধিত খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া প্রভৃতি প্রধান। আর আমদানিকৃত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, ইতালি, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি প্রধান।
পরিশেষে বলা যায় খণিজ তেল বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তরল সম্পদ। কৃষি, শিল্প, পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেলের প্রত্যক্ষ ব্যবহার রয়েছে। তাই সারাবিশ্ব ব্যপিই এর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা প্রভৃতি পুড়িয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে তাপবিদ্যুৎ বলে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে কয়লার সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা, প্রাণীর দেহাবশেষ সবকিছু ভূঅভ্যন্তরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
