এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলা হয়।
উদ্দীপকের A ও B-পাত্রে যথাক্রমে NH4Cl ও CaO এর দ্রবণ রাখা আছে। এ দ্রবণদ্বয়কে মিশ্রিত করলে সংঘটিত বিক্রিয়াটি হবে-
2NH4Cl + CaO 2NH3 + CaCl2 + H2O
উপরিউক্ত বিক্রিয়া অনুযায়ী উৎপন্ন গ্যাসটি হচ্ছে অ্যামোনিয়া (NH3) ।
অ্যামানিয়া গ্যাসের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। কারণ NH3 কে পানিতে দ্রবীভূত করা হলে অ্যামানিয়া গ্যাস ও পানির বিক্রিয়ায় NH+4 ও OH- আয়ন উৎপন্ন হয়। যেহেতু ভ্রাম্যমান OH- দ্রবণের ক্ষারধর্মীতা নির্দেশ করে, সেহেতু NH3 এর জলীয় দ্রবণের প্রকৃতি ক্ষারীয় হয়।
উদ্দীপকের A পাত্রের 750 ml 0.25M NH4CI দ্রবণ বিদ্যমান। এ দ্রবণে 450 mL অতিরিক্ত পানি যোগ করলে দ্রবণের পরিবর্তিত ঘনমাত্রা নিম্নোক্তভাবে নির্ণয় করা যায়।
এখানে, প্রাথমিক অবস্থার দ্রবণের
আয়তন, V1 = 750 mL
ঘনমাত্রা S1 = 0.25 M
পরিবর্তিত অবস্থায়-
আয়তন, V2 = (750 + 450) mL
= 1200 mL
ঘনমাত্রা, S2 = ?
আমরা জানি,
S1V1 = S2V2
∴ S2 = 0.156 M
সুতরাং, উদ্দীপকের A-পাত্রে আরো 450 mL পানি যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা হবে 0.156M।
উদ্দীপকের A ও B পাত্রের রয়েছে যথাক্রমে, 750 mL 0.25 M NH4Cl দ্রবণ ও 600 mL 0.35 M CaO দ্রবণ। দ্রবণদ্বয়কে মেশালে সংগঠিত রাসায়নিক বিক্রিয়া:
2NH4Cl + CaO = 2NH3 + CaCl2 + H2O
সুতরাং উৎপন্ন লবণ হলে CaCl2।
NH4Cl এর ক্ষেত্রে,
দ্রবণের আয়তন, V = 750mL
" ঘনমাত্রা, S = 0.25M
NH4CI এর আণবিক ভর, M
= (14 + 4 + 35.5) gmol-1
= 53.5 gmol-1
NH4Cl এর ভর, w = ?
CaO এর ক্ষেত্রে,
দ্রবণের আয়তন, v = 600 mL
" ঘনমাত্রা, S = 0.35M
CaO এর আণবিক ভর, M
= (40 + 16) =56gmol-1
CaO এর ভর, w = ?
এখানে,
NH4Cl এর ভর,
= 10.03 g
আবার, CaO এর ভর,
= 11.76 g
বিক্রিয়া থেকে দেখা যায়,
1 mol CaO বিক্রিয়া করে 2 mol NH4Cl এর সাথে
অর্থাৎ, 56g CaO “ ” 2 53.5 g NH4Cl “ ”
∴ 1 g CaO “ ” g NH4Cl “ ”
∴ 11.76 g CaO “ ” g NH4Cl এর সাথে
= 22.47 g NH4Cl এর সাথে
কিন্তু বিক্রিয়ায় উপস্থিত আছে 10.03g NH4Cl । অর্থাৎ 11.76 g CaO এর সাথে বিক্রিয়া করার জন্য পর্যাপ্ত NH4Cl নেই। তাই NH4Cl এখানে লিমিটিং বিকারক। তাই লবণের পরিমাণ নির্ণয়ে NH4Cl এর ভর বিবেচনায় আনতে হবে।
এখন, বিক্রিয়া থেকে দেখা যায়,
2 mol NH4Cl থেকে উৎপন্ন হয় 1 mol CaCl2
অর্থাৎ, 2 53.5 g NH4Cl “ ” 111g CaCl2
∴ 1 g NH4Cl “ ” g CaCl2
∴ 10.03 g NH4Cl “ ” g CaCl2
= 10.4 g CaCl2
এখন, CaCl2 এর জলীয় দ্রবণে কস্টিক সোডা বা NaOH যোগ করলে সংগঠিত বিক্রিয়া :
CaCl2 + 2NaOH = NaCl + Ca(OH)2↓
111 g (2 40)g = 80g 74g
সুতরাং, উৎপন্ন অধঃক্ষেপ হলো Ca(OH)2
এখন, বিক্রিয়া থেকে দেখা যায়,
80g NaOH বিক্রিয়া করে 111 g CaCl2 এর সাথে
∴ 20g NaOH “ ” g CaCl2 “ ”
= 27.75 g CaCl2
কিন্তু বিক্রিয়ায় আছে 10.4 g CaCl2। তাই CaCl2 হলো লিমিটিং বিকারক।
∴ 111 g CaCl2 থেকে উৎপন্ন হয় 74 g Ca(OH)2
∴ 10.4 g CaCl2 “ ” " g Ca(OH)2
= 6.93 g Ca(OH)2
সুতরাং, উৎপন্ন অধঃক্ষেপের পরিমাণ 6.93 g Ca(OH)2 |
রসায়নে মূলত দুই ধরনের বিশ্লেষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা পুণগত বিশ্লেষণ এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণ। কোনো পদার্থকে এবং তার বিভিন্ন ধর্মকে শনান্ত করার পদ্ধতির নাম গুণগত বিশ্লেষণ এবং কোনো পদার্থের পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতির নাম পরিমাণগত বিশ্লেষণ। পরিমাণগত বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করা হয়। এসব হিসাব-নিকাশকে একত্রে রাসায়নিক গণনা বলা হয়। রাসায়নিক গণনায় কোনো পদার্থ এর পরিমাণ অনেক সময়েই মোল এককে প্রকাশ করা হয়। এই অধ্যায়ে তোমরা মোল কী, মোল দিয়ে হিসাব-নিকাশ কীভাবে করা হয়, মোলের হিসাব-নিকাশ থেকে কীভাবে ঘনমাত্রার হিসাব করা হয়। এই বিষয়গুলো জানতে পারবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
• মোলের ধারণা ব্যবহার করে সরল গাণিতিক হিসাব করতে পারব ।
• নির্দিষ্ট ঘনমাত্রার প্রবণ প্রস্তুত করতে পারব।
• প্রদত্ত তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যৌগে উপস্থিত মৌলের শতকরা সংযুক্তি নির্ণয় করতে পারব।
• শতকরা সংযুক্তি ব্যবহার করে স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেত নির্ণয় করতে পারব।
• মৌল ও যৌগমূলকের প্রতীক সংকেত ও যোজনী ব্যবহার করে রাসায়নিক সমীকরণ লিখতে এবং সমতা বিধান করতে পারব।
• রাসায়নিক সমীকরণের মাত্রিক তাৎপর্য থেকে বিক্রিয়ক ও উৎপাদের ভরভিত্তিক গাণিতিক
° সমস্যা সমাধান করতে পারব।
• তুঁতের কেলাস পানির শতকরা পরিমাণ নির্ণয় করতে পারব।
• নিত্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক দ্রব্য পরিমাপ করতে সক্ষম হব।
Related Question
View Allপারমাণবিক ভর বা আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় তা-ই সংশ্লিষ্ট পদার্থের এক মোল।
যে সংকেত দ্বারা কোনো যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের অনুপাত প্রকাশ পায় তাকে ঐ যৌগের স্থূল সংকেত বলে। যেমন-হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড যৌগের অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যার অনুপাত হলো 2 : 2 বা 1 : 1 । অর্থাৎ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড যৌগের স্থূল সংকেত হলো HO । আবার যে সংকেত দ্বারা কোনো যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ পায় তাকে ঐ যৌগের আণবিক সংকেত বলে। যেমন- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের আণবিক সংকেত হলো H2O2।
উদ্দীপকের দ্রবণদ্বয় হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড নামক ক্ষারের দ্রবণ। এ দ্রবণদ্বয়কে একত্রে মিশ্রিত করলে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড নামক লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়ার সমীকরণটি নিম্নরূপ-
NaCl লবণের সংযুতি নির্ণয় :
NaCl এর আপেক্ষিক আণবিক ভর = 23 + 35.5 = 58.5
যৌগটিতে,
সোডিয়ামের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 23
এবং ক্লোরিনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 35.5
সোডিয়ামের সংযুতি =
এবং ক্লোরিনের সংযুতি =
দ্রবণে HCI এর পরিমাণ = 4g
HCI এর মোল সংখ্যা = মোল = 0.1095 মোল [ HCI এর আণবিক ভর = 1 + 35.5 = 36.5]
আবার,
100 mL দ্রবণে HCI দ্রবীভূত আছে = 0.1095 মোল
1000 mL “ HCI ” " মোল
= 1.095 মোল
অর্থাৎ HCI দ্রবণের ঘনমাত্রা = 1.095M
দ্রবণে NaOH এর পরিমাণ = 4g
NaOH এর মোল সংখ্যা = মোল = 0.1 মোল [ NaOH এর আণবিক ভর = 23 + 16 + 1 = 40 ]
আবার,
100 mL দ্রবণে NaOH দ্রবীভূত আছে = 0.1 মোল
1000 mL “ NaOH ” " মোল
= 1.0 মোল
অর্থাৎ NaOH দ্রবণের ঘনমাত্রা 1.0 M
সুতরাং, উদ্দীপকের দ্রবণ দুটির মোলারিটি সমান নয়।
এক বা একাধিক কোন মৌল বা যৌগের অণুর সংকেত উল্লেখ করে কিছু চিহ্নের সহায়তায় কোন রাসায়নিক পরিবর্তনের সংক্ষেপে লিখিতরূপকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে।
এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ অর্থাৎ ০°C তাপমাত্রা এবং । বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোন গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন 22.4 লিটার। একই ভাবে, কার্বন ডাই অক্সাইডের মোলার আয়তন দ্বারা প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে । মোল বা 44 গ্রাম কার্বন ডাইঅক্সাইডের আয়তন 22.4 লিটার বুঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!