নওয়াব আব্দুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয়।
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' হলো ভূমি নিয়ন্ত্রণে প্রজা ও জমিদারদের পারস্পরিক দায় ও অধিকার সংক্রান্ত আইন।
১৮৮৫ সালে ব্রিটিশরা ভূমি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত "বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন" প্রণয়ন করে। তবে এ আইনে সাধারণ কৃষক ও বর্গাচাষিদের অধিকার রক্ষিত হয়নি। পরবর্তীতে নানা ঘটনা ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২৮ এবং ১৯৩৮ সালে এ আইনে সংশোধনী আনা হয়েছিল। ১৯৩৮ সালের সংশোধনীটি শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের মন্ত্রীসভায় হয়েছিল। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তিনি উক্ত আইনের দূর্বলতা ও ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করে সাধারণ কৃষক এবং বর্গাচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
পূর্ব-বাংলার জনগণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত না হলে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্বন্ধে ধারণা না থাকলে মুসলমানরা কোনোদিনই নিজেদের পৃথক অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এজন্য তিনি মুসলমান সমাজে শিক্ষা বিস্তারে মনোযোগী হন এবং নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ নিজ উদ্যোগে পুরোনো ঢাকায় আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে তিনি ভীষণভাবে মর্মাহত হন। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলমান ছাত্রদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি হল নির্মাণ করা হয়। নবাব সলিমুল্লাহর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্যই এই ছাত্রাবাসটির নামকরণ করা হয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল।
উদ্দীপকে উত্ত ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ শিক্ষাক্ষেত্র ছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন।
উদ্দীপকের জনাব কাশেমের মতো স্যার সলিমুল্লাহ বুঝতে পেরেছিলেন যে, ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন দীর্ঘায়িত হবে। এজন্য তিনি ব্রিটিশদের সাথে বিরোধে না গিয়ে মুসলমান সমাজের শিক্ষা বিস্তারে মনোযাগী হন। আহসানউল্লাহ্ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, সলিমুল্লাহ এতিমখানা প্রতিষ্ঠাসহ নানা কাজে তার অবদান ছিল। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অন্যতম রাজনৈতিক অবদান হলো বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া। বঙ্গভঙ্গের সপক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং ব্রিটিশ সরকারকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তার অবদানই ছিল মুখ্য। তিনি জানতেন যে, বঙ্গভঙ্গ হলে হিন্দু নেতৃবৃন্দ এর বিরোধিতা করবে। এজন্য বক্তাভজা কার্যকর হবার দিনই মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য তিনি 'মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন' প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মধ্যেই মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির বীজ লুকায়িত ছিল। স্যার সলিমুল্লাহর সর্বাপেক্ষা মূল্যবান অবদান হচ্ছে, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা। যা উদ্দীপকের জনাব কাশেমের রাজনৈতিক দল গঠন ভূমিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নবাব সলিমুল্লাহ শিক্ষাক্ষেত্র ছাড়াও সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন।
Related Question
View Allবেজাল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে
বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
