সংস্থান চার প্রকার। যথা- ১. প্রথম সংস্থান, ২. দ্বিতীয় সংস্থান, ৩. তৃতীয় সংস্থান এবং ৪. চতুর্থ সংস্থান।
সহানুমানের যে পদ আশ্রয় বাক্যে থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না সেটিই হলো মধ্যপদ। মধ্যপদের ভূমিকা সহানুমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
সকল ছাত্র হয় মানুষ।
সকল ছাত্র হয় মরণশীল।
এখানে 'মানুষ' পদটি মধ্যপদ। আর এটি আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সেতু হিসাবে কাজ করে।
উদ্দীপকে যুক্তি-১-এর ঘরে আছে-
সকল নেতা হয় মানুষ।
সকল কর্মী হয় মানুষ।
সকল কর্মী হয় নেতা।
উক্ত উদাহরণে দেখা যাচ্ছে যে, প্রধান আশ্রয়বাক্য হলো সকল নেতা হয় মানুষ; অপ্রধান আশ্রয়বাক্য হলো 'সকল কর্মী হয় মানুষ' এবং সিদ্ধান্ত হলো 'সকল কর্মী হয় নেতা'। উক্ত উদাহরণে 'মানুষ' হলো মধ্যপদ। মধ্যপদকে উভয় আশ্রয়বাক্যে কমপক্ষে একবার ব্যাপ্য হতে হয়। এই নিয়ম লংঘন করলে অব্যাপ্য মধ্যজনিত অনুপপত্তি ঘটে। উপরের দৃষ্টান্তে দেখা যাচ্ছে যে মধ্যপদ মানুষ আশ্রয় বাক্যে একবারো ব্যাপ হয়নি বরং ২ বার অব্যাপ্য হয়েছে। সুতরাং এখানে অব্যাপ্য মধ্যজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
উদ্দীপকে যে দুটি যুক্তি রয়েছে, তথা যুক্তি-২ ও যুক্তি-৩ হচ্ছে সার্বিক বা A-যুক্তিবাক্য।
যুক্তি-২-এ রয়েছে-
সকল দেশপ্রেমিক হয় রাজনীতিবিদ।
সকল রাজনীতিবিদ হয় মানুষ।
এখানে দুটি যুক্তিবাক্য তথা আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ই হলো সার্বিক সদর্থক।
আবার যুক্তি-৩-এ রয়েছে-
সকল বক হয় সাদা।
কিছু সাদা প্রাণী হয় বক।
এখানে আশ্রয়বাক্য সার্বিক সদর্থক এবং সিদ্ধান্ত বিশেষ সদর্থক। উপরোক্ত যুক্তিদুটির মধ্যে ৩নং যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য। কারণ আবর্তনের নিয়ম অনুসারে A-যুক্তিবাক্য বা সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্যকে আবর্তন করলে I-বাক্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ A-যুক্তিবাক্যের আবর্তিত রূপ 1- যুক্তিবাক্য। A-যুক্তিবাক্য সদর্থক বলে এর আবর্তিত ও হবে সদর্থক। অর্থাৎ A অথবা I হবে। কিন্তু A-বাক্যের আবর্তিত A হতে পারে না। কারণ A বাক্যের আবর্তিত A হলে আবর্তনীয়ের অব্যাপ্য বিধেয় পদ আবর্তিতে এসে ব্যাপ্য হয়ে যায় যা আবর্তনের ৪র্থ নিয়ম লঙ্ঘন হবে। চতুর্থ নিয়মটি হলো আবর্তনীয়ের অব্যাপ্য পদ আবর্তিতে এসে ব্যাপ্য হতে পারে না। কাজেই A-এর আবর্তিত হবে I-যুক্তিবাক্য' সুতরাং ২নং যুক্তিবাক্য A থেকে আবর্তিত হয়ে A হয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু ৩নং যুক্তিবাক্যে A- থেকে আবর্তিত হয়ে । হয়েছে। যা গ্রহণযোগ্য।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে বিধিসঙ্গতভাবে কোনো আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্যের স্থলে তার বিধেয়কে এবং বিধেয়ের স্থলে তার উদ্দেশ্যকে গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত করা হয় তাই হলো আবর্তন।
সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থে ব্যবহৃত পদ ব্যাপ্য পদ হয়। মূলত পদের ব্যাপ্যতা হলো পদের প্রসারতা। একটি পদ কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার পর সে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে তার দ্বারা সে 'পদের ব্যাপ্যতা' নির্ণয় করা হয়। কোনো পদ যখন তার সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করে কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে 'পদের ব্যাপ্যতা' বলে। যেমন- 'সকল দার্শনিক হন জ্ঞান, এখানে দার্শনিকের সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। এজন্য দার্শনিকের দার্শনিক পদটি ব্যাপ্য পদ।
উদ্দীপকের ৩নং বক্সে O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন নির্দেশিত হয়েছে। O-যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক। যে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে যে বিধেয় পদ অস্বীকার করে তাকে বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকে দেওয়া আছে যে-
কিছু A নয় B
কিছু B নয় A
মূলত O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়। যেহেতু O-যুক্তি বাক্যটি একটি নঞর্থক বচন, সে কারণে তার আবর্তিতকেও হতে হবে নঞর্থক। অর্থাৎ আবর্তিতকে E বা O হতে হবে। কিন্তু ০-এর আবর্তিত E বা O হতে পারে না, E বা O- হলে আবর্তনের ৪র্থ নিয়ম লঙ্ঘন হয়। অর্থাৎ আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না। উপরের উদাহরণে O-আবর্তনীয়ের উদ্দেশ্য হিসেবে পদটি পূর্ণব্যাপ্ত হয়নি, অথচ সিদ্ধান্তে -বাক্যের বিধেয় হিসাবে পূর্ণব্যাপ্ত হয়ে আছে। কারণ পদের ব্যাপ্ততার নিয়ম অনুসারে বিশেষ বাক্যের উদ্দেশ্য পদ আংশিক ব্যাপ্য হলেও O-বাক্যের বিধেয় পদ যথাসময় পূর্ণব্যাপ্য হয়। সুতরাং ৩নং বক্সের যুক্তিবাক্য O-যুক্তি বাক্যের আবর্তন হয়েছে। অথচ O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে ২নং বক্সের মতো ১নং বক্সের আবর্তন করলে অনুপপত্তি হতে পারে। ২নং বক্সের যুক্তিবাক্যটি একটি E-যুক্তিবাক্য বা সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য এবং ১নং বক্সের যুক্তিবাক্যটির সম্পূর্ণরূপ হবে।
A- সকল A হয় B
A- সকল B হয় A
উক্ত যুক্তিবাক্যটি A-যুক্তিবাক্য হবে বা সার্বিক সদর্থক। A-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি। উপর্যুক্ত যুক্তিটি আবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত। আবর্তন-এর নিয়ম অনুযায়ী আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদ আবর্তিতে এসে ব্যাপ্য হতে পারবে না। আলোচ্য যুক্তিটিতে B পদটি আবর্তনীয় A বাক্যের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অব্যাপ্য হয়েছে এবং আবর্তিত A-বাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ব্যাপ্য হয়েছে। এটি আবর্তনের নিয়ম বিরোধী। আবর্তন-এর নিয়ম অনুযায়ী A-বাক্য আবর্তন করলে আমরা 1 বাক্য পাই। অর্থাৎ A-বাক্যের আবর্তন হচ্ছে অসরল আবর্তন। কিন্তু আলোচ্য দৃষ্টান্তে A-বাক্যের সরল আবর্তন করায় পদের ব্যাপ্যতা সংক্রান্ত অনিয়ম দেখা দিয়েছে। সুতরাং যুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ। এটি একটি অবৈধ আবর্তন। এতে A-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। E-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটে না। কারণ E- কে আবর্তন করলে E পাওয়া যায়। সুতরাং ২নং বক্সে অনুপপত্তি না ঘটলেও ১নং-এ অনুপপত্তি ঘটেছে।
সংস্থান চার প্রকার। যথা- ১. প্রথম সংস্থান, ২. দ্বিতীয় সংস্থান, ৩. তৃতীয় সংস্থান এবং ৪. চতুর্থ সংস্থান।
সহানুমানের যে পদ আশ্রয় বাক্যে থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না সেটিই হলো মধ্যপদ। মধ্যপদের ভূমিকা সহানুমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
সকল ছাত্র হয় মানুষ।
সকল ছাত্র হয় মরণশীল।
এখানে 'মানুষ' পদটি মধ্যপদ। আর এটি আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সেতু হিসাবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!