সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে যে জগৎ গঠিত হয় তাই সৌরজগৎ।
ধূমকেতু অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর আবির্ভূত হয়। দীর্ঘ পরিক্রমণ পথের কারণে প্রতিবছর হ্যানির ধূমকেতু দেখা যায় না।
অ্যাডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তার নামানুসারে এ ধূমকেতুর নাম হ্যালির ধূমকেতু। হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পর পর দেখা যায়। এটি ২৪০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।
চিত্র-১ এ মঙ্গল গ্রহ দেখানো হয়েছে।
মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি। এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ খুবই বেশি। অর্থাৎ মানুষের জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পানির পরিমাণ কম। আর কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণও এত বেশি যা মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব কারণে মঙ্গল গ্রহে প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।
চিত্র-২এর গ্রহটি হলো শুক্র।
শুক্র গ্রহে প্রাণীর বাস উপযোগী পরিবেশ নেই। পৃথিবী প্রাণীর বাস উপযোগী। এ প্রক্ষিতে গ্রহ দুইটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো।
শুক্ত সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ। সূর্য থেকে শুক্রের গড় দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিমি.। এ গ্রহ ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যায় সন্ধ্যাতারা নামে পরিচিত। শুক্রে দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো পার্থক্য হয় না। শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত ঘটে। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এর সময় লাগে ২২৫ দিন। শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।।
কিন্তু পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার। পৃথিবী
নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। পৃথিবীর একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৪ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
পৃথিবী মানবজাতির আবাসস্থল। পৃথিবীর চারদিকে ঘিরে রয়েছে অসীম মহাকাশ। সৌরজগতের কেন্দ্রে সূর্য রয়েছে। মহাকাশে এরূপ বহু নক্ষত্র রয়েছে। পাশাপাশি চন্দ্র (উদাহ), পৃথিবী (গ্রহ), ধূমকেতু, উল্কা, নীহারিকা প্রভৃতি রয়েছে। ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে আমাদের এই পৃথিবী, দূর-দূরান্ত্রের সকল জ্যোতিষ্ক এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। এ অধ্যায়ে আমরা মহাকাশ, মহাবিশ্ব, সৌরজগৎ, পৃথিবী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করব।
Related Question
View Allপৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখা পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
নিরক্ষরেখার মান ০° ধরা হয়। নিরক্ষরেখার অপর নামগুলো হলো- বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা, মহাবৃত্ত (Great circle) প্রভৃতি।
P' চিহ্নিত গ্রহটি হলো পৃথিবী। এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
জীবকূলের বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো গ্যাসীয়
উপাদান, উত্তাপ ও পানি। সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় এ তিনটি উপাদানের যথেষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। তাই পৃথিবী জীবের বসবাসের জন্য উপযোগী গ্রহ।
বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর রয়েছে আদর্শ বায়ুমণ্ডল। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস সরবরাহ করে এই বায়ুমণ্ডল। কিন্তু অন্যান্য গ্রহে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মিথেন গ্যাসের পরিমাণ এত বেশি যে, কোনো প্রাণীর পক্ষে সেখানে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই পৃথিবী এক্ষেত্রে বসবাসের জন্য আদর্শস্বরূপ।
অনুকূল তাপমাত্রা: সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব এবং এর আবর্তন গতির ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সংগঠিত হয়। এ কারণে এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের অনুকূল তাপমাত্রা রয়েছে।
মাটি ও পানি: বেশিরভাগ গ্রহের উপরিভাগ পাথরে ঢাকা। পৃথিবীর উপরিভাগে মাটি ও পানির সমন্বয় রয়েছে। যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্যে অপরিহার্য।
তাই বলা যায়, বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয় উপাদান, অনুকূল পরিবেশ, পানির অস্তিত্ব ইত্যাদির সমন্বয় হওয়ায় পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের জন্য উপযোগী।
চিত্রে 'Q' এবং 'R' চিহ্নিত গ্রহ দুটি যথাক্রমে শনি ও বৃহস্পতি। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি। একে গ্রহরাজ বলা হয়। অন্যদিকে শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। দুটি গ্রহের কোনটিতেই প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয়।
নিচে গ্রহ দুটির বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
i . সূর্য থেকে শনি এবং বৃহস্পতি গ্রহের দূরত্ব যথাক্রমে ১৪৩ ও ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার।
ii. শনি এবং বৃহস্পতি গ্রহের ব্যাস যথাক্রমে ১,২০,০০০ এবং ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ বৃহস্পতি শনি গ্রহ থেকে প্রায় ১.১৮ গুণ বড়।
iii. সূর্যের চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে শনির সময় লাগে পৃথিবীর প্রায় ২৯.৫ বছরের সমান। অপরদিকে, বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
iv. শনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ, মিথেন এবং অ্যামোনিয়া গ্যাস রয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা তৈরি।
v. শনির ভূত্বক বরফে ঢাকা। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা উপরিভাগে খুবই কম এবং অভ্যন্তরে অত্যন্ত বেশি।
সুতরাং উপরের বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, বৈশিষ্ট্য ও গঠনগত দিক থেকে গ্রহ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
উত্তর গোলার্ধে বড় দিন হলো ২১শে জুন।
পৃথিবীতে ৩৬৫ দিনে এক বছর।
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। ফলে প্রতিবছর ৬ ঘণ্টা সময় অতিরিক্ত থেকে যায়। এ অতিরিক্ত সময়ের সামঞ্জস্য আনার জন্য প্রতি ৪ বছর পরপর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন বাড়িয়ে ২৯ দিন করা হয়। ফলে বছরটি হয় ৩৬৬ দিনে। এই বছরকে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!