উত্তরঃ পিরামিড হলো প্রাচীন মিশরে ফারাও এবং তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত বিশাল আকারের ত্রিকোণাকার সমাধিসৌধ, যা মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার স্থাপত্যকলার এক অসাধারণ ও সুপরিচিত নিদর্শন।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রাচীন মিশরের সভ্যতা নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল এবং এই নদীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদানের কারণেই মিশরের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব হয়েছিল। ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে ‘নীল নদের দান’ (Gift of the Nile) হিসেবে অভিহিত করেছেন কারণ এর অস্তিত্ব ছাড়া মিশরের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল।

নীল নদ প্রতি বছর প্লাবনের মাধ্যমে উর্বর পলিমাটি বয়ে এনে মিশরের শুষ্ক ভূমিকে কৃষিকাজের উপযোগী করে তুলত, যা খাদ্য উৎপাদন ও জনগোষ্ঠীর জীবনধারণের মূল ভিত্তি ছিল। পানীয় জল, মৎস্যসম্পদ, সেচ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে নীল নদ মিশরীয়দের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের চিত্র মেসোপটেমীয় সভ্যতার, বিশেষত সুমেরীয় সভ্যতার স্বাক্ষর বহন করে। এই চিত্রে কীলকলিপির (Cuneiform) বিবর্তন দেখানো হয়েছে, যা মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এবং লিখন পদ্ধতির প্রাথমিক রূপগুলির একটি।

চিত্রে প্রদর্শিত সময়কাল (৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অনুযায়ী লিখন পদ্ধতির ধারাবাহিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যবহৃত চিত্রলিপিগুলো (pictograms) ছিল বস্তু বা ধারণার সরাসরি চিত্ররূপ, যেমন—মাথা, পা, কান, গাছ, লাঙল ও কৃষক, জল, কাদা এবং পাখির জন্য নির্দিষ্ট চিহ্ন। সময়ের সাথে সাথে, যেমন ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ এবং তারপর ২৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ ও ১০৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, এই চিত্রলিপিগুলো সরলীকরণ এবং বিবর্তনের মধ্য দিয়ে কীলকের মতো আকৃতি ধারণ করে, যা "কীলকলিপি" বা "কিউনিফর্ম" নামে পরিচিত। এই বিবর্তিত লিপিগুলো মেসোপটেমীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসনিক উন্নয়নের পরিচায়ক।

কীলকলিপি বিশ্বের প্রাচীনতম লিখন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি, যা প্রথমে সুমেরীয়রা উদ্ভাবন করে এবং পরে আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয়, আসিরীয় সহ অন্যান্য মেসোপটেমীয় জাতিগোষ্ঠী গ্রহণ করে। এই লিপি প্রধানত মেসোপটেমীয় সভ্যতার অর্থনৈতিক লেনদেন, প্রশাসনিক রেকর্ড, আইন প্রণয়ন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং মহাকাব্য (যেমন—গিলগামেশের মহাকাব্য) লিপিবদ্ধ করতে ব্যবহৃত হতো। মাটির ফলকে কীলকের সাহায্যে লেখার এই পদ্ধতি মেসোপটেমীয় জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রসারে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছিল, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

মেসোপটেমীয় সভ্যতা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অনবদ্য অধ্যায়। ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই সভ্যতা প্রাচীন বিশ্বে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছিল, যা আজও আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রদত্ত উদ্দীপকে মেসোপটেমীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতি (কিউনিফর্ম স্ক্রিপ্ট)-এর বিবর্তন দেখানো হয়েছে, যা তাদের জ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সুমেরীয়দের উদ্ভাবিত এই লিখন পদ্ধতি ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন প্রণয়ন, ধর্মীয় গ্রন্থ এবং সাহিত্য চর্চার পথ উন্মুক্ত করে। এটি কেবল যোগাযোগ মাধ্যম ছিল না, বরং জ্ঞান সংরক্ষণ ও বিস্তারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল, যা পারস্য ও মিশরীয় সভ্যতাকেও প্রভাবিত করে।

কিউনিফর্ম লিখন পদ্ধতির পাশাপাশি মেসোপটেমীয়রা আইন প্রণয়নে (যেমন: হাম্মুরাবির সুবিখ্যাত আইন সংহিতা), জ্যোতির্বিজ্ঞানে (রাশিচক্র, গ্রহ-নক্ষত্রের গতি পর্যবেক্ষণ ও ক্যালেন্ডার উদ্ভাবন), গণিতে (ষষ্ঠিক পদ্ধতি, জ্যামিতিক ধারণা), স্থাপত্যে (জিগুরাত নির্মাণ) এবং উন্নত কৃষি (সেচ ব্যবস্থা) ও নগর পরিকল্পনায় যুগান্তকারী অবদান রাখে। তাদের সাহিত্যকর্ম যেমন গিলগামেশের মহাকাব্য, প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।

সুতরাং, মেসোপটেমীয় সভ্যতা শুধু একটি প্রাচীন ভৌগোলিক অঞ্চল ছিল না, এটি ছিল জ্ঞান ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রস্থল, যার অবদান মানব ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে মৌলিক ভূমিকা পালন করেছে। তাদের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতি, আইনি কাঠামো, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং শিল্পকলা পরবর্তী প্রজন্ম ও সভ্যতাগুলোকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং আজও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
365

Related Question

View All
7.6k
উত্তরঃ

"হানিফ" বলতে বোঝায় সেই সব ব্যক্তি, যারা ইসলাম আগমনের পূর্বে ইবরাহিম (আ.)-এর একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং তারা সমাজের প্রচলিত মূর্তিপূজা ও কুসংস্কার থেকে নিজেদের দূরে রাখতেন। তারা প্রকৃত ধর্মের সন্ধানকারী এবং সত্যপথে চলার চেষ্টা করতেন।

khadija
khadija
1 year ago
5.4k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মোহনপুর এলাকার ওয়ার্ড ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন আরবের গোত্রীয় প্রথার মিল রয়েছে।

প্রাচীন আরবের সমাজে গোত্রীয় প্রথা ছিল প্রচলিত। প্রত্যেক গোত্রের নিজস্ব ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ছিল এবং তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করত। সম্পদ, ক্ষমতা বা সামান্য বিষয় নিয়েও প্রায়শই এক গোত্রের সাথে অন্য গোত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগে থাকত। এসময় সামাজিক স্থিতিশীলতার অভাব ছিল প্রকট এবং গোত্রীয় সংঘাত ছিল একটি সাধারণ চিত্র। নারীর সামাজিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত নিম্ন, তাদের কেবল ভোগের বস্তু বা বোঝা মনে করা হতো এবং অনেক সময় কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।

উদ্দীপকের মোহনপুর এলাকার ওয়ার্ড ব্যবস্থার মধ্যে প্রাচীন আরবের গোত্রীয় প্রথার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। যেমন, মোহনপুরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে হানাহানি ও আন্তঃকলহ লেগে থাকে, যা প্রাচীন আরবের গোত্রকলহের অনুরূপ। ফসল কাটা, মাছ ধরা ও পশুপালন নিয়ে সংঘটিত বিবাদ প্রাচীন আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে সম্পদ ও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। উপরন্তু, মোহনপুরের পুরুষরা নারীদের অভিশাপ ও বোঝা মনে করে, যা প্রাচীন আরবের জাহিলিয়া যুগের নারীদের দুরবস্থার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
2.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews