সার্ক হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা।
সচিবালয় জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিভাগ।
বিশ্বশান্তি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এ শাখার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব, কয়েকজন উপসচিব, অধস্তন সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এ বিভাগ গঠিত। এর প্রধান কর্মকর্তা হলেন মহাসচিব। সাধারণ পরিষদ কর্তৃক তিনি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
চিত্রের 'তারকা' চিহ্নিত স্থানে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ হবে।
উদ্দীপকের চিত্রের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘ সচিবালয় এই ছয়টি শাখা নিয়ে গঠিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২০ সালে জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু নানা কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ১৯৩৯ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিভিন্ন দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় এবং নিহত হয় কয়েক কোটি মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ ধ্বংসলীলা বিশ্ববাসীকে শঙ্কিত ও হতবাক করে দেয়।
এ প্রেক্ষিতে বিশ্বনেতারা অনুভব করেন যে, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানব কল্যাণের জন্য যুদ্ধকে পরিহার করতে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ১৯৪১ সাল থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে এ সংস্থাটি গঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে জাতিসংঘ খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ইত্যাদি মানবিক সাহায্য দিয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও জাতিসংঘ সাহায্য-সহযোগিতা করেছিল। জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের পর জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দুবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যান্য পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।
এছাড়াও জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অকৃত্রিম বন্ধুর মতো কাজ করে যাচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা তারই একটি উদাহরণ। ১৯৯১ সালে মিয়ানমার হতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করায় যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ।
পৃথিবী নামের এ গ্রহটিতে অনেকগুলো দেশ আছে। দেশগুলো বিশ্বের সাতটি মহাদেশে বিভক্ত । স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হলেও দেশগুলোর পক্ষে একা চলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব যা বিশ্ব শান্তি ও এসব দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য । বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন থেকে বিশ্বে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক সংগঠন । যেমন : সার্ক, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘ ইত্যাদি । এ অধ্যায়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এবং বাংলাদেশের সাথে এদের সম্পর্ক বিষয়ে আমরা জানব ।
এ অধ্যায় পড়া শেষে আমরা-
♦ জাতিসংঘের গঠন ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব
♦জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব
♦ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব
♦ কমনওয়েলথের গঠন, উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব
♦ ওআইসির গঠন, উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব
♦ সার্কের গঠন, উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারব ।
Related Question
View AllSAARC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে "South Asian Association for Regional Cooperation" |
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। এ এলাকার উপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অছি এলাকার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' সাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
কেননা ওআইসি-এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ২৩। ওআইসির কিছু উদ্দেশ্য আছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, বর্ণবৈষম্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিলোপ করা, ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা। এছাড়া মুসলিম জাতির মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সংগ্রামকে জোরদার করতে সাহায্য করা, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
উদ্দীপকের হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' মধ্যেও আমরা দেখতে পাই, এই সংস্থার প্রাথমিক সদস্য ২৩। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সৎভাব বজায় রাখা এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই আমরা বলতে পারি, হাসান সাহেবের শান্তি সংস্থার সাথে ওআইসির উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
হাকিম সাহেবের সংস্থার সাথে জাতিসংঘের অনেক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলো হলো- শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সুকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা; অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা; এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিবাদের মীমাংসা করা।
উদ্দীপকের হাকিম সাহেবের সংস্থা 'সূর্যনগর সমবায় সমিতি' এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ পাঠাগার, খেলাধুলার ক্লাব গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যগুলোর সাথে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের অনেক মিল রয়েছে।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ছয়টি।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের।
নিরাপত্তা পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!