ভ্যাক্সিন হলো রোগসৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিসুত সাসপেনসন।
মানবদেহে যে প্রতিরক্ষা অমরার মাধ্যমে প্রাপ্ত ও জন্মের সময় থেকে আজীবন উপস্থিত থাকে এবং প্রতিরক্ষায় দ্রুত কার্যকর হয় তাকে সহজাত প্রতিরক্ষা বলা হয়। এটি নন-প্লেসিফিক ইমউনিটি। এটি মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের ৪ অংশটি হলো ম্যাক্রোফেজ়। নিচে ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক জীবাণু ধ্বংস অর্থাৎ এর কর্মকৌশল বর্ণনা করা হলো-
ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক উৎপাদিত প্রোটিন দু'ভাবে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে। যেমন-
ক. ভৌত পদ্ধতিতে; ম্যাক্রোফেজ ব্যাকটেরিয়ার দেহ প্রাচীরে গর্ত বা ছিদ্র করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে।
খ. ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায়: যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাগোসাইট সমূহ
ভক্ষণের মাধ্যমে অণুজীব ধ্বংস করে তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু নিধন চারটি পর্যায়ক্রমিক ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা-
১. কেমোট্যাক্সিস: প্রথমে ম্যাক্রোফেজ কেমোট্যাক্সিস প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে আক্রান্ত স্থানে উপস্থিত হয়।
২. সংলগ্নীকরণ: অতঃপর জীবাণু ও ম্যাক্রোফেজ নিকটবর্তী হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে।
ম্যাক্রোফেজের প্লাজমা আবরণীর কিছু রাসায়নিক গ্রাহক পদার্থ অণুজীবদের সাথে যুক্ত হয়ে ফ্যাগোসাইটিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
৩.গ্রাসকরণ: ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ম্যাক্রোফেজ অন্যান্য রোগজীবাণুকে দেহাভ্যন্তরে টেনে নেয় বা গ্রাস করে এবং পরিশেষে ইনভ্যাজিনেশন প্রক্রিয়ায় সাইটোপ্লাজমের ভেতরে নিয়ে আসে।
৪. হত্যা ও পরিপাককরণ: ফ্যাগোসোম ম্যাক্রোফেজের সাইটোপ্লাজমে উপস্থিত লাইসোজোম এর সাথে যুক্ত ফ্যাগোলাইসোজোম তৈরি করে। ফ্যাগোলাইসোজোম তৈরি হওয়ায় ১০-৩০ মিনিটের মধ্যে এনজাইমের প্রভাবে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর মৃত্যু ঘটে। অপর পক্ষে ম্যাক্রোফেজ জাতীয় ফ্যাগোসাইট উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থ ত্যাগ
করে নতুন জীবাণু ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হয়।
উদ্দীপকের A অংশটি হলো অ্যান্টিবডি। যা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে
সর্বদা নিযুক্ত থাকে। শ্বেত রক্তকণিকার লিম্ফোসাইটের প্লাজমা কোষ থেকে উক্ত অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। এই অ্যান্টিবডি ধারাবাহিক ও সম্মিলিত কৌশল অবলম্বন করে পরজীবীর বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অটুট রাখতে সচেষ্ট থাকে। প্রত্যেক অ্যান্টিবডির পরিবর্তনশীল অংশে দুটি করে সদৃশ অ্যান্টিজেন' বাঁধনস্থল আছে। এ বাঁধনস্থল সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনে চিহ্নিত করে 'তালা-চাবি' পদ্ধতিতে আটকে অ্যান্টিবডি-অ্যান্টিজেন কমপ্লেক্স গঠন করে। এভাবে সৃষ্ট অসংখ্য কমপ্লেক্স পুঞ্জিভূত হয়ে অন্যান্য অ্যান্টিবডির আক্রমণের শিকার হয়। ফলে মানবদেহের প্রতিরক্ষা সচল থাকে। কিছু অ্যান্টিবডি দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনের সাথে বন্ধনের ফলে বড় বড় কণায় পরিণত হয় ও অধঃক্ষিপ্ত হয়। এসব কণা তখন সহজেই ম্যাক্রোফেজের শিকারে পরিণত হয়। কিছু অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনে উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থের বিষাক্তময়তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অ্যান্টিবডিসহ দেহের ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস করে। গর্ভকালীন সময়ে অ্যান্টিবডি মায়ের শরীর থেকে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে; ব্যাকটেরিয়া অনুপ্রবেশে বাধা দেয়, পরজীবী ও কৃমি ধ্বংস করে। উপরিউক্তভাবে উদ্দীপকের A অংশ অর্থাৎ অ্যান্টিবডি পরজীবীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদর্শন করে।
Related Question
View Allদেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।
উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।
দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
