তথ্যগত দিক থেকে যে দেশের জনগণ বেশির ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে তাদেরকে গণ দারিদ্র্য গোষ্ঠী বলে।
শ্রমিকের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য তাকে বলা হয় প্রচ্ছন্ন বেকার বা ছদ্মবেশী বেকার।
কৃষিখাতে আপাতদৃষ্টিতে অনেক লোক কাজ করছে বলে মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কৃষিকাজে নিযুক্ত ঐসব লোকের মধ্যে অনেকেরই প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য। এই শূন্য উৎপাদনশীলতা বিশিষ্ট লোককে প্রচ্ছন্ন বেকার বা ছদ্মবেশী বেকার বলে।
ছকের'?' চিহ্নিত স্থানটি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নির্দেশ করে।
কতগুলো শক্তির সংযোগ, যার ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। শক্তিসমূহ হচ্ছে- উৎপাদন, জাতীয় আয়, ভোগ, বিনিয়োগ, নিয়োগ, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি প্রভৃতি। দীর্ঘকালে কোনো অর্থনীতির আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো (যেমন: স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি) গড়ে ওঠার মাধ্যমে আয়, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তাকে অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন বলে। এরূপ কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তন ঘটে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো একটি দীর্ঘকালীন প্রক্রিয়া। উন্নয়ন দ্বারা অর্থনীতির গুণগত পরিবর্তন নির্দেশ করা হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। উন্নয়ন কথাটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছাড়া উন্নয়ন
সম্ভব নয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছকের '?' চিহ্নিত স্থানটি দ্বারা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নির্দেশ করা হয়েছে।
ছকে বর্ণিত ধাপসমূহের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সর্বশেষটি হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এ দুটি ধারণা এক মনে হলেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টি বৃদ্ধির হার। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে এমন একটি চলমান প্রক্রিয়া যা কতগুলো শক্তির সংযোগ এবং যার ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধিই যথেষ্ট। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে বুঝতে হবে প্রবৃদ্ধির সাথে অর্থনৈতিক অবস্থার গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আওতা ব্যাপক ও বিস্তৃত হওয়ায় এটি নির্ণয় করা জটিল ও সময় সাপেক্ষ। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্দিষ্ট সময়ের উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়ের পরিবর্তনকে বোঝায় বলে এটি নির্ণয় করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম সময় সাপেক্ষ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না হলেও উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। আবার, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্য। অপরদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মূলত পরিমাণগত ধারণা প্রকাশ করে।
অতএব, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বারা কোনো দেশের কেবল অধিক উৎপাদনকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তন নির্দেশ করে।
Related Question
View Allকোনো দেশের শ্রমশক্তিকে সে দেশের মানবসম্পদ বলে।
দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একটি অনুন্নত দেশের অনুন্নয়নের জন্য দায়ী কারণগুলো চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে। অনুন্নত দেশে উৎপাদন কম হয় বলে জনগণের মাথাপিছু আয় কম। ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা তথা চাহিদা কমে যায়। এতে বিনিয়োগ প্রবণতা হ্রাস পায়, যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে মূলধন গঠন সম্ভব হয় না। এরূপ মূলধন স্বল্পতার কারণে উৎপাদনও কম হয়। এভাবে এ কারণগুলো পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হতে থাকে, যা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র নামে পরিচিত। এটি একটি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত লেখচিত্রে মাথাপিছু আয়ের ক্রমবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
যেসব দেশ পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নের পথে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং কিছু মাত্রায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করেছে সেসব দেশই সাধারণভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। এসব দেশে উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা ও জাতীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের জন্য আর্থ-সামাজিক ভিত্তি রচনা করা হয়। এসব দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অব্যাহত প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। ফলে উৎপাদনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রমোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
ফলে উৎপাদনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রমোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখচিত্রে লক্ষ করা যায়, ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৭- ০৮ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় যথাক্রমে ৫৫০ থেকে ৬৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে ২০০৮-০৯ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে যথাক্রমে ৭০০ ডলার ও ৯০০ ডলার হয়েছে। যা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, লেখচিত্রে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখচিত্রটি বাংলাদেশের তথা একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। এ ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য কৃষি সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
উন্নয়নশীল দেশে জিডিপির প্রধান খাত হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তবে এদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নশীল হলেও এখনও কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এখনো এদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, এদেশের প্রধান নিয়ামক শক্তি হলো কৃষি।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশের জিডিপিতে কৃষি খাত (শস্য, বন, প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের যোগান দিয়ে থাকে কৃষি খাত। বর্তমানে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া উৎপাদকগণ কৃষির গুরুত্ব অনুভব করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখাতে অধিক উৎপাদনে মনোনিবেশ করছে। ফলে দেশটিতে ক্রমে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে
তাই, আমি মনে করি, উদ্দীপকে পরিলক্ষিত ক্রমোন্নতির সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো কৃষি।
একজন কর্মক্ষম শ্রমিক প্রচলিত মজুরিতে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চেয়েও কাজ না পাওয়ার পরিস্থিতিকে বেকারত্ব বলে।
অতি দরিদ্র, ভূমিহীন ও বেকার মানুষদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু করেছে।
১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলায় মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হয়। তখন সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে। এ কর্মসূচির তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ শ্রমিকদের মজুরি নগদ অর্থে না দিয়ে খাদ্যশস্যের মাধ্যমে পরিশোধ করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!