কোনো উপজাতির সবচেয়ে নিকটের জাতিকে 'আসন্নতম জাতি' বলে।
যে উপলক্ষণ কোনো শ্রেণির আসন্নতম বা নিকটতম জাতিগত বৈশিষ্ট্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় তাকে 'জাতিগত উপলক্ষণ' বলে। যেমন- 'ক্ষুধা' 'তৃষ্ণা' 'নিদ্রা' হলো মানুষের জাতিগত উপলক্ষণ। কারণ মানুষ শ্রেণির নিকটতম জাতি হচ্ছে 'জীব'। আর জীবের জাঁত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি'। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা জীববৃত্তি থেকে অনুমিত বা নিঃসৃত হয়। এজন্য এগুলোকে 'জাতিগত উপলক্ষণ' বলা হয়।
ছকের জাতি শব্দটি দ্বারা বৃহত্তম শ্রেণি ও মধ্যবর্তী শ্রেণির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা যে শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থ সবচেয়ে বেশি এবং যে শ্রেণিকে সর্বাধিক ব্যক্ত্যর্থের কারণে অন্য কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যায় না তাকে 'পরমতম' বা 'বৃহত্তম জাতি' বলা হয়। পরমতম জাতি কখনো উপজাতিতে পরিণত হয় না। যেমন- দ্রব্য বলতে চেতন ও অচেতন সবকিছুই বোঝায়। এর চেয়ে বৃহত্তম কোনো শ্রেণি নেই। ছকে এই পরমতম জাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ছকে মধ্যবর্তী জাতির কথা বলা হয়েছে। এ মধ্যবর্তী জাতি মধ্যবর্তী শ্রেণিগুলোকে নির্দেশ করে। কেননা বৃহত্তম জাতি ও ক্ষুদ্রতম উপজাতির মধ্যবর্তী শ্রেণিগুলোকে 'মধ্যবর্তী জাতি' বা 'অবর জাতি' বলে। যেমন- দ্রব্য ও জোড়ার (যুগল) মধ্যবর্তী শ্রেণিগুলো জোড়ার দিক থেকে হলো মধ্যবর্তী জাতি বা শ্রেণি।
ছকের তথ্যাদির ভিত্তিতে জাতি, উপজাতির প্রকৃতি হলো : জাতি একটি শ্রেণিবাচক পদ। দুটি শ্রেণিবাচক পদ যখন পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে সম্বন্ধযুক্ত হয় যে, তাদের একটি ব্যক্ত্যর্থ অপরটির তুলনায় ব্যাপকতর হয় এবং ব্যাপকতর ব্যক্ত্যর্থযুক্ত পদটি যদি সংকীর্ণ ব্যক্ত্যর্থযুক্ত পদটিকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ব্যাপকতর পদটিকে অপর পদটির জাতি বলে। যেমন- 'সব মানুষ হয় প্রাণী'- এই যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটিই শ্রেণিবাচক পদ। এখানে উদ্দেশ্য 'মানুষ' শ্রেণির ব্যক্তর্থের চেয়ে বিধেয় 'প্রাণী' শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থ ব্যাপকতর এবং 'প্রাণী শ্রেণি 'মানুষ' শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কাজেই সম্পর্কের বিবেচনার "প্রাণী' পদটি 'মানুষ' পদের জাতি। অন্যদিকে উপজাতি একটি শ্রেণিবাচক পদ। দুটি শ্রেণিবাচক পদ যখন পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে সম্বন্ধযুক্ত হয় যে, তাদের একটি ব্যক্ত্যর্থ অপরটির তুলনায় সংকীর্ণতর হয় এবং সংকীর্ণতর ব্যক্ত্যর্থযুক্ত পদটি যদি ব্যাপকতর ব্যক্ত্যর্থযুক্ত পদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সংকীর্ণতর পদটিকে অপর পদের উপজাতি বলে। যেমন- 'কিছু মানুষ হয় ছাত্র'- এই যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটিই শ্রেণিবাচক পদ। এখানে বিধেয় 'ছাত্র' শ্রেণি ব্য্যর্থ উদ্দেশ্য 'মানুষ' শ্রেণির চেয়ে সংকীর্ণতর এবং 'ছাত্র' শ্রেণি 'মানুষ' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়। কাজেই সম্পর্কের বিবেচনায় 'ছাত্র' পদটি মানুষ পদের উপজাতি।
Related Question
View Allযে গুণের কারণে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয় তাই হলো 'বিভেদক লক্ষণ'।
জাতির মধ্যে উপজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং উপজাতিকে জাতি নিজের মধ্যে ধারণা করে। এরা যদিও আলাদা তথাপি জাতির আলোচনা করতে গেলে উপজাতির চলে আসবে এবং উপজাতি আলোচনা করতে গেলে জাতি আবশ্যিকভাবে চলে আসে। কারণ জাতিকে যদি ব্যাখ্যা করতে চাই তবে উপজাতির সাহায্য নিই এবং উপজাতিকে বিশ্লেষণ করতে জাতির সাহায্য নিই। সুতরাং জাতি এবং উপজাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্যভাবে পরস্পরের সাথে জড়িত ও সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়ককে নির্দেশ করে।
উপলক্ষণ বিধেয়কের পাঁচটি শ্রেণির একটি। যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাই হলো উপলক্ষণ। যেমন- সকল মানুষ হয় চিন্তাশীল প্রাণী। এই 'চিন্তাশীলতা' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ। ঠিক তেমনি উদ্দীপকের বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি হলো মানুষ পদের উপলক্ষণ। মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি। বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। তাই বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটিকে মানুষ পদের উপলক্ষণ বলা হয়। অর্থাৎ বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে এমন গুণ উল্লেখ করবে বা উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ নয় কিন্তু গুণটি জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূত।
বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ না হয়েও জাত্যর্থ থেকে অপরিহার্যভাবে আসে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়কের অন্তর্ভুক্ত। যা কোনো জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু তা অপরিহার্যভাবে জাত্যর্থ থেকে এসেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যে বিষয়গুলো দেওয়া আছে, তথা ২৫ মার্চ, ভোজনরসিক এবং অন্যকে খাওয়ানো এগুলো বিধেয়কের অবান্তর লক্ষণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
অবান্তর লক্ষণ হলো যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে অনুমিত নয়। যেমন- ভোজন রসিক বা খাওয়ানো মানুষের একটা অবান্তর লক্ষণ। এই গুণাবলি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কিন্তু তা জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে নিঃসৃত হয় না।
অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারে আবার ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে। অবান্তর লক্ষণ চার ধরনের হতে পারে। (ক) শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (খ) শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (গ) ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (ঘ) ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
উদ্দীপকে যেসব অবান্তর লক্ষণ দেওয়া আছে তা মূলত ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণের সাথে সম্পর্কিত। ২৫ মার্চ অবান্তর লক্ষণটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ- ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো তাই যা ব্যক্তির মধ্যে সব সময় বর্তমান এবং তা কোনোক্রমে পরিবর্তন করা যায় না। শিক্ষক নোমান ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে তার সাথে সম্পৃক্ত। কারণ তার জন্ম সাল বা তারিখ বদলে দেওয়া যাবে না। আবার, নোমান ভোজনরসিক ও খাওয়ানো যে গুণ তা হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো যা ব্যক্তির মধ্যে কখনো বর্তমান আবার কখনো অবর্তমান থাকে। ভোজনরসিক এবং খাওয়ানো নোমান সাহেবের মধ্যে আছে। কিন্তু এমন হতে পারে যে কিছুদিন পর তা তাঁর মধ্যে নেই। সুতরাং এটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
যুক্তিবিদ অ্যারিস্টেটল সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়কের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন এবং একে চার ভাগে ভাগ করেন।
সদর্থক যুক্তিবাক্যে শ্রেণিবাচক বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে সেগুলোকে বলা হয় বিধেয়ক। আর এই বিধেয়ক বিষয়টি যুক্তিবিদ্যায় সর্বপথম অন্তর্ভুক্ত করেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টেটল। তিনি বিধেয়ক-এর চারটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলো হলো- ১. সংজ্ঞা, ২. জাতি, ৩. উপলক্ষণ, ৪. অবান্তর লক্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!